ইভিএমে ভোট নিয় সংশয়, বহিরাগতদের আনাগোনায় সংঘর্ষের আশঙ্কা

title
৪ মাস আগে
আগামী ৩১ জানুয়ারি শরীয়তপুরের সদর ও জাজিরা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই ষষ্ঠ ধাপে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটের সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন সাধারণ ভোটারসহ প্রার্থীরা। এদিকেপ্রার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগতদের উৎপাত বেড়েই চলছে। এতে নির্বাচনে সংঘর্ষের সম্ভাবনা বেড়েই চলেছে। বিজ্ঞাপন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে অদ্যাবধি ইভিএমকে সাধারণ ভোটারদের মাঝে পরিচিত করার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ লক্ষকরা যায়নি। ভোটার ও প্রার্থীরা ইভিএমে ভোট দেওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও অজানা আশঙ্কায় ভুগছেন বলে একাধিক ভোটার ও প্রার্থী জানান। শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল মান্নান তালুকদার, জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী নাছির উদ্দিন জমাদ্দার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩১ জানুয়ারি শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়ন জাজিরা, নাওডোবা, জাজিরা, সেনেরচর ও বড়কান্দি ইউনিয়নে পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়নগুলোতে ইভিএম পদ্ধতিতে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন কি না সেটা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। যাঁরা ইভিএম নিয়ন্ত্রণ করবেন, তাঁরা কতটুকু নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন সেটা নিয়েও ভোটাররা শঙ্কায়। এ ছাড়াও ইভিএমের সাথে নির্বাচনের দিন যাঁরা সংশ্লিষ্ট থাকবেন তাঁরা নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে মেশিন হ্যাককরতে পারেন। কিংবা অন্য কোনো উপায়ে ভোটারের অগোচরে ভোট প্রয়োগ করতে পারেন এমন আশঙ্কাও করছেন সাধারণ ভোটরসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী একাধিক চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা। জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যার প্রার্থীসহ স্থানীরা বহিরাগতদের কারণে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন। জাজিরা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১৯ হাজার পুরুষ ও ২২ হাজার ৬ শত ৪ জন নারীসহ মোট ৪১ হাজার ৬ শত ৪ জন ভোটার রয়েছেন। শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নে ৬ হাজার পুরুষ ও ৮ হাজার ৩ শত জন ভোটার রয়েছেন। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে কীভাবে ভোট প্রদান করতে হয় সে সম্পর্কে তাঁদের কোনোই ধারণা নেই। ভোটের আর মাত্র ৭ দিন বাকি রয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় নির্বাচন অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কেউ কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা কিংবা ভোটারদের হাতে-কলমে কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে জানা যায়। গত ৩ জানুয়ারি জাজিরা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ৩৮ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ সাধারণ ও সংরক্ষিত ৪০৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে। শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নে ৪ চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ সাধারণ ও সংরক্ষিত ৩৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইভিএমে কিভাবে ভোট দিতে হয় তা তাঁরা জানেন না। জাজিরা উপজেলার নাওডোবা গ্রামের ৯০ বছরের বিধবা আফিয়া খাতুন বলেন, জীবনে বিভিন্ন নির্বাচনে অনেক ভোট দিয়েছি। কিন্তু এবারের ইউপি নির্বাচনে মেশিনে ভোট কিভাবে দেব? জীবনে তো ভোটের মেশিন চোখেই দেখিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সদস্য প্রার্থী বলেন, ইভিএমে ভোট এবার নতুন। আমাদের ধারণা মেশিং হ্যাকিং অথবা অন্য কোনো ভোট কারচুপির সম্ভাবনা রয়েছে। জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যার প্রার্থী আলমগীর হোসেন ঢালী বলেন, (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণমানুষের মনে শঙ্কাতৈরিকরেছে। পাশাপাশি অন্য ইউনিয়নের লোকজন এসে আমার ইউনিয়নে ভোট প্রার্থনা করছে। এতে করে সংঘর্ষের আশঙ্কারয়েছে। জাজিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী দুলাল আকন বলেন, প্রথমবারের মতো জাজিরায় ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হবে। যদিও ভোটাররা ইভিএম পদ্ধতি সম্পর্কে তেমন কিছু জানেনা। আমি আশাবাদী সরকার ভোটারদেরসুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের মাধ্যামে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার জাহিদ হোসেন বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন পদ্ধতি জাল-জালিয়াতি করার সুযোগ নেই। যে যাকে ভোট দেবে তার নামেই ভোট কাউন্ট হবে। এর ব্যত্যয় ঘটার সুযোগ নেই। আর সাধারণ ভোটারদের মাঝে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পরিচিতি করার জন্য আগামী ২৯ জানুয়ারি সাধারণ ভোটারদের জন্য ইভিএম মেশিনের মধ্যেমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।