নেভাল একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ, ৮ নারীসহ কমিশন পেলেন ৬৮ জন

title
৪ দিন আগে
চট্টগ্রামের বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত হলো নৌবাহিনীর মিডশিপম্যান- ২০১৯ বি ব্যাচ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২২ এ ব্যাচের গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ। নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০১৯ বি ব্যাচের ৬২ জন মিডশিপম্যান এবং ২০২২ এ ব্যাচের ছয় জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসারসহ মোট ৬৮ জন নবীন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেন। এদের মধ্যে আট জন নারী, দুই জন মালদ্বীপ এবং এক জন প্যালেস্টাইনের মিডশিপম্যান রয়েছেন। বিজ্ঞাপন আইএসপিআর জানায়, কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারীদের হাতে পদক তুলে দেন। কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের মধ্যে মিডশিপম্যান ২০১৯ বি ব্যাচ থেকে মো. আশরাফুর রহমান, (এক্স), বিএন সব বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী সেরা চৌকস মিডশিপম্যান হিসেবে সোর্ড অব অনার অর্জন করেন। মিডশিপম্যান এইচ এম ইফাজ রহমান, (ই), বিএন প্রশিক্ষণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী হিসেবে নৌ প্রধান স্বর্ণপদক লাভ করেন। এছাড়াও ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২২ এ ব্যাচের অ্যা. সাব লেফটেন্যান্ট কাজী মো. ইখতিয়ার রেজা রিয়ন, (ই), বিএন শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক লাভ করেন। পরে নবীন কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন এবং তাদের র্যাঙ্ক পরিয়ে দেয়া হয়। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নৌবাহিনী প্রধান তার ভাষণে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। সেইসাথে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী বীর নৌসেনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞা, দুরদর্শিতা ও দিক নির্দেশনায় নৌবাহিনীর একটি আধুনিক ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে ওঠা ক্রমোন্নতির তথ্যও উপস্থাপন করেন। পদ্মা সেতু উদ্বোধন প্রসঙ্গে নৌপ্রধান বলেন, বহুল কাঙ্খিত পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলসহ সমুদ্র বন্দরসমূহের কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে। সেইসাথে তিনি এসংক্রান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখার মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতির গতিশীলতা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আরও দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহবান জানান। নৌপ্রধান নবীন কর্মকর্তাদের সশস্ত্র বাহিনীর গর্বিত সদস্য হিসেবে দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলাবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের জন্য কাজ করার আহবান জানান এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেদেরকে আত্মনিয়োগ করার পরামর্শ দেন। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অসামরিক কর্মকর্তা ও সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।