চালকদের প্রশিক্ষণ ছাড়া নিরাপদ সড়ক অসম্ভব

title
এক মাস আগে
সড়ক নিরাপদ করতে হলে কমপক্ষে ৬৭ লাখ চালককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অবহেলার কারণে এই করোনার সময়েও সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে এবং এই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনিশিয়েটিভ (বিআই) ও ড্রাইভার্স ট্রেনিং সেন্টার (ডিটিসি)। সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সংলাপের সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক পার্থ সারথি দাস। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিটিসি চেয়ারম্যান নুর নবী শিমু। বক্তারা বলেন, চালক হিসেবে যদি শিক্ষিত জনগোষ্ঠী না আসে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালকদের করা না হয়। তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা কখনোই সম্ভব না। আমাদের দেশে গাড়ি চালক তৈরি হয় তার ওস্তাদের হাত পা টিপতে টিপতে। চালকদের প্রশিক্ষণ ছাড়া নিরাপদ সড়ক অসম্ভব। এছাড়া দেশে চালকদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ নেই। চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রতিদিন চালকদেরকে একটা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। মালিকদের দেওয়া এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে অনেক সময় বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে চালকরা দুর্ঘটনা ঘটায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার ধরন বদলেছে। মুখোমুখি দুর্ঘটনার চেয়ে পিছন থেকে আঘাতের ঘটনা ঘটছে বেশি। এতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। নভেম্বর-ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এই তিন মাসে ২৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে। একটি উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। গত ২০১৯ সালে তিন হাজার ৯৩৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মারা যায় চার হাজার ৩৫৮ জন, আহত হয় সাত হাজার ২৪০ জন। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩২ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। আর চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতির পরিমাণ ২৯ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে ২২২ ব্লগস্পট যদি ঠিক করা হয়। তাহলে দুর্ঘটনার ৪০ শতাংশই কমে আসবে। তবে আমাদের দাবি অনুযায়ী সর্বশেষ মাত্র ১২টি ঠিক করা হয়েছে। তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধুমাত্র চালকদের দায়ী করলে হবে না। পথচারীও এখানে অনেকাংশে দায়ী। ফুটপাত না থাকলে পথচারীদের ডান পাশ দিয়ে হাঁটতে হবে। এছাড়া বেশ কিছু নির্দেশনা আছে তা তারা মানেন না। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আপনারা দেখবেন চালক হয় আমাদের সমাজের মানুষগুলো, যারা ছোটকালে বাবা-মা হারিয়েছে অথবা বাবা-মার বিচ্ছেদের কারণে কোনো জরাজীর্ণ অবস্থায় বড় হচ্ছে। এই মানুষগুলোই আস্তে আস্তে চালক হয়ে যাচ্ছে। তারপরও তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। সংলাপে অংশগ্রহণ করেন, বিআরটিএর সহকারি পরিচালক শহীদুল আজম, বিআরটিসির উপ মহাব্যবস্থাপক (পরিচালন) শূকদেব ঢালী, সংগঠনের বাবুল, সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সমাজসেবক জিএম কামরুল ইসলাম, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের তাসনিয়া মেহরীন।