এই সরকার স্বেচ্ছায় বনবাসে চলে যাবে : গয়েশ্বর

title
৪ মাস আগে
সরকারের অন্য কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় বিএনপির উদ্যোগে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমাদের ভয়ভীতি পাওয়ার কোনো কারণ নাই। বিজ্ঞাপন চোর সব সময় ভীত থাকে। সুতরাং চোরকে চোর বললে কিন্তু রুখে দাঁড়ায় না, দৌড়ে পালায়। গোটা সংসদকে সবাই চোর বলে। সেই চোরদের সাহস থাকার কথা না, সেই চোরদের আমরা যদি উচ্চ স্বরে শুধু চোর চোর বলি তারপর সেই চোর কেটে পড়বে। অতত্রব আমরা শেখ হাসিনার পতন ঘটানোর সুযোগ নাও পেতে পারি। শেখ হাসিনা নিজে নিজে কেটে পড়তে পারেন। অর্থাৎ বর্তমানে বিশ্বরাজনীতি ও দেশীয় রাজনীতিতে তিনি যে অবস্থানে আছেন তাতে গুছিয়ে ওঠার সুযোগ আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। সেই কারণে নীরবে-নিভৃতে তার (শেখ হাসিনা) পালানোর পথ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। গয়েশ্বর বলেন, তিনি সাহস করে ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন দেবেন না, তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেবেন না। যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার উদ্যোগ তিনি নিতেন তাহলে হয়তো বা ধীরস্থিরভাবে বাংলাদেশে বসবাস করে মানুষের মাঝে থাকার একটা প্রচেষ্টা নিতে পারতেন। কিন্তু সেটা নেবেন না। আর সেটা নেবেন না বলে তাঁকে দৃশ্যের আড়ালে থাকতে হবে, মানুষের চোখের আড়ালে থাকতে হবে। তাঁকে স্বেচ্ছায় বনবাসে যেতে হবে। এই বনবাসে কেউ তাঁকে পাঠাবে না। সেই কারণে আমাদের ভয়ের কোনো কারণ নাই। সূর্য ডোবার পালা। আর যারা অন্ধকারে আছেতাদের জন্য সূর্য উদয়ের পালা। সেটার জন্য আমরা অপেক্ষা করি। ক্ষমতার পালাবদল হবেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে আমরা বিতাড়িত করবএটা তো আমাদের পণ। কেন করব? দেশের স্বার্থে। কেন করব? জনগণের স্বার্থে। আমার মনে হয়, যে গণতন্ত্র আমরা হারিয়েছি, সেই গণতন্ত্র আবার ফেরত পাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। এই সম্ভাবনাগুলো দেখেই সরকার আতঙ্কিত। যা কিছু করছে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত অথবা জনগণের সমর্থিত নয় এই সরকার। ফ্যাসিবাদী অপকৌশলের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় টিকে যারা থাকে তারা এই কাজগুলো করে, এটাই স্বাভাবিক। এটাকে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে। গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ব্যবস্থাটা আমাদেরকে ফেরত আনতে হবে। জনগণের পথে যারা হাটে বা গণতন্ত্রের যারা দায়িত্ব পালন করে তারা কখনো বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো আচরণ করতে পারে না। সে জন্যই আমাদেরভয়ের কোনো কারণ নেই। এ জন্য দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান রেখে গয়েশ্বর বলেন, আমাদের সরকারবিরোধী আন্দোলনে দৃশ্যমান হয়ে সাহসী ভূমিকা রাখার মধ্য দিয়ে আপসহীন নেত্রীর আপসহীন কর্মীকে যদি আমরা জনগণের মনে দাগ কাটতে পারি তাহলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সার্থক, জিয়াউর রহমান সার্থক। সেই সার্থকতাকে আমাদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়াতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৪৫ বছর বয়েসী কোকো। পরে ২৮ জানুয়ারি তাঁর মরদেহ দেশে আনার পর বনানীতে দাফন করা হয়। দোয়ার আগে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হকের সঞ্চালনায় মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। দোয়া মাহফিলে বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরফত আলী সপু, শামীমুর রহমান শামীম, রাজীব আহসান, আমিরুজ্জামান শিমুল, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, মহানগর বিএনপির রফিকুল আলম মজনু, হাবিবুর রশীদ হাবিব, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, এস এম জাহাঙ্গীর, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান,আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, ওলামা দলের শাহ নেসারুল হক, নজরুল ইসলাম তালুকদার, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ কয়েক শ নেতাকর্মী অংশ নেন। এর আগে সকাল ১০টায় বনানী কবরাস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবরে দলের আমানউল্লাহ আামান, আবদুস সালাম, রুহুল কবীর রিজভী আহমেদসহ নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গসংগঠনের সহস্রাধিক নেতাকর্মী পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়েও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।