শিল্প খাতে ঋণের চাহিদা বেড়েছে

title
৪ দিন আগে
করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে শিল্প-কলকারখানার চাকাও ঘুরছে আগের মতো। এতে দেশের অর্থনীতিও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে শিল্প খাতে প্রান্তিক ঋণের প্রবৃদ্ধিও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) শেষে দেশের শিল্প খাতে মোট ঋণ বিতরণ হয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। বিজ্ঞাপন গত ২০২১ সালের একই সময়ে (মার্চ প্রান্তিক) ঋণ বিতরণ হয়েছিল ৯০ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শিল্প খাতে ঋণের বিতরণ বেড়েছে ৩৬ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিকে শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছিল এক লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাস ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে দুই হাজার ৮০৬ কোটি টাকা, যা এক বছরের ব্যবধানে শতকরা হিসাবে ৩৩.৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত বছরের মার্চে করোনার প্রভাব থাকায় শিল্প-কারখানা অনেকটা বন্ধ ছিল। তবে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন বিশেষ প্রণোদনার ঋণপ্রবাহ বাড়ায় সার্বিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে বেসরকারি খাতের ঋণ বিতরণও কিছুটা বেড়েছে। তাঁরা বলছেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি দুটিই বেড়ে যাওয়ায় শিল্প-কারখানাগুলো উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে মূলধনী যন্ত্রপাতি কিনতে বেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে, যার কারণে বেশি পরিমাণে ঋণ নিচ্ছে। ফলে দেশের মোট আমদানি বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে শিল্পঋণ আদায় হয়েছে এক লাখ এক হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৮৪ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর আদায় বেড়েছে ২০.১৪ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিক তথা মেয়াদি শিল্পঋণ বা টার্ম লোন (বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র) বিতরণের পরিমাণ ১৭ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ কোটি টাকা বিতরণ কমেছে। চলতি মূলধন ঋণ বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল লোন (বৃহৎ, মাঝারি, ক্ষুদ্র খাতে) বিতরণের পরিমাণ এক লাখ চার হাজার ৩৩০ কোটি টাকা, ২০২১ সালের একই সময়ে যা ছিল ৭৩ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে বেড়েছে ৪১.৭৮ শতাংশ। এদিকে আমদানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মার্কেটে ডলার ছাড় করতে গিয়ে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে জুনে ৪১.৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের আগস্টে ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার। ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৯১২ কোটি টাকা, যা গত বছরের এপ্রিল শেষে ছিল ১৪ লাখ ৬৯ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরে ব্যাংক খাতে মোট ঋণ বেড়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দেশে এখন বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকেই দেশে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ফেব্রুয়ারিতে কিছুটা হোঁচট খেয়েছিল। মার্চ থেকে ফের বাড়তে শুরু করেছে। তিনি বলেন, নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি বা ক্যাপিটাল মেশিনারি, শিল্পের মধ্যবর্তী কাঁচামালসহ শিল্প খাতের অন্য সব সরঞ্জাম আমদানি বাড়ছে।