মা হয়েছেন ভবঘুরে নারী, বাবা হয়নি কেউ!

title
এক মাস আগে
মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে নারী (২৭) মা হয়েছেন। বুধবার সকালে (২৯ জুন) ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। কিন্তু তার বাবা কে কেউ জানে না। উপজেলা সমাজসেবা অফিসের তত্ত্বাবধানে থাকা নবজাতক ও তার মা দুজনই সুস্থ আছেন বলে জানান হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার শহিদুল ইসলাম খোকন। বিজ্ঞাপন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা, নবজাতক শিশুটি ঘুমাচ্ছে। পৃথিবীর অলোতে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে। অতন্দ্র প্রহরীর মতো মা তার পাশে শুয়ে আছেন। আন্তরিকতার সহিত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ডাক্তার এবং নার্সরা। মায়ের মুখে কোনো কথা নেই। শুধু অপলক তাকিয়ে আছেন সন্তানের মুখে। সেখানে কথা হয় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, শিশুর মা মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে। সবাই তাকে পাগলি বলে ডাকেন। ঘুরে বেড়াতেন উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়। সেখান থেকে মাসখানেক আগে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের তত্ত্বাবধানে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। কিছুদিন আগে সে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। আবার ধরে এনে ভর্তি করা হয়েছিল। মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে নারীর ভাষ্যমতে বাড়ি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায়। বাবা হোসেন মিয়া, ভাইয়ের নাম জহুরুল। আসাদুল ইসলাম আরো জানান, ওই নারী নাকি বলেছেন তিনি এ সন্তান লালন-পালন করতে পারবেন না। তাই কেউ দত্তক নিতে চাইলে আবেদনের মাধ্যমে তাকে দেওয়া হবে। অন্যথায় বাচ্চাটিকে ছোটমণি নিবাস আজিমপুর ঢাকাতে পাঠানো হবে। এদিকে খবর পেয়ে এরই মধ্যে শিশুটি দত্তক নিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের বীরচারী গ্রামের নূরুল ইসলামে স্ত্রী পারভীন বেগম। বুধবার দুপুরে দত্তক চেয়ে তিনি ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক সরকার জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন ওই নারী। সন্তান সম্ভাবনার সব ধরনের উপসর্গ তার মাঝে ছিল। তাই এক মাস আগে ইউএনও এবং সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘাটাইল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার শহিদুল ইসলাম খোকন জানান, মা ও মেয়ে দুজনেই সুস্থ আছেন। জন্মের সময় শিশুটির ওজন হয়েছিল পৌনে চার কেজি।