মান কমিয়ে দাম সমন্বয় খাবারে

title
এক মাস আগে
রাজধানীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ছাত্রী হোস্টেলগুলোতে। ছাত্রীরা বলছেন, হোস্টেলে নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে। আগে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন মাছ, দুই দিন মাংস দেওয়া হতো। এখন বেশির ভাগ দিনই ডিম খাওয়ানো হচ্ছে। বিজ্ঞাপন কোনো কোনো দিন শুধু ডাল-ভাত দেওয়া হচ্ছে। ফার্মগেটের একটি হোস্টেলের শিক্ষার্থী জবা ইসলাম বলেন, চারজনের রুমে মাসে মাথাপিছু পাঁচ হাজার টাকা থাকা-খাওয়ার খরচ দিতে হয়। রমজান মাসে খাবার খরচ এক হাজার টাকা বেশি নেওয়া হয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায়। এই মাসে আর দিতে হয়নি। কিন্তু খাবার দেওয়া হচ্ছে খুবই নিম্নমানের। কোনো বেলা শুধু ডাল-ভাত দেওয়া হচ্ছে। সবজি যেটা দেওয়া হয় তাতে কোনো মসলা থাকে না। একপ্রকার তেল ছাড়া সেদ্ধ। জানা যায়, হোস্টেল মালিকরা খরচ বাঁচাতে তিন রুমের সিটে চারজন থাকতে বাধ্য করছেন। খাবারের পদে পরিবর্তন করা হয়েছে। সপ্তাহে মাছ-মাংস কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ দিনই ডিম-সবজি-ডাল দেওয়া হচ্ছে। জান্নাতুল মাওয়া নামের হোস্টেলের আরেক ছাত্রী বলেন, খাবারের মান আগেও খারাপ ছিল। এখন টাকা না বাড়লেও খাবার মুখে নেওয়া যাচ্ছে না। সপ্তাহে তিন-চার দিনই ডিম খেতে দেওয়া হয়। গ্রিন রোডের সিনটেকস ভিআইপি হোস্টেলের তত্ত্বাবধায়ক মিনু বলেন, জনপ্রতি আমরা ছয় থেকে সাত হাজার টাকা নিই। সেটা সিট হিসেবে দুই অথবা চার বেডের ভিত্তিতে। ফার্মগেটের মনিপুরিপাড়ায় নিবেদিকা ছাত্রী হোস্টেলে কর্মরত জিহাদ বলেন, আমরা সিট বুঝে ভাড়া নিয়ে থাকি। খাওয়া খরচ এর ভেতরেই। আলাদা খাওয়া খরচ কত নেওয়া হয় বা খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে কি না, তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। নিম্নমানের খাবার দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হোস্টেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হোয়াব) সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান টিটু বলেন, ঢাকায় দুই হাজারের বেশি হোস্টেল আছে। কিছু হোস্টেল নিম্নমানের খাবার দিচ্ছে। তবে আমরা এখনো খাবারের দাম বাড়ানোর বিষয়ে ভাবছি না। তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে জনপ্রতি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা খাওয়া খরচ বৃদ্ধির বিষয়ে ভাবছি। তবে সেটা এখনই নয়।