শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষককে হেনস্তা, ছাত্র গ্রেপ্তার

title
এক মাস আগে
এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে অধ্যাপককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শ্রেণিকক্ষে এই ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রকে তাত্ক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। পরে মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিজ্ঞাপন ঢাকার আশুলিয়ায় ছাত্রের হাতে শিক্ষক হত্যা, নড়াইলে শিক্ষককে এলাকাবাসীর লাঞ্ছনার ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও সমালোচনার মধ্যেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটল। হেনস্তার শিকার শিক্ষক আইন বিভাগের অধ্যাপক বেগম আসমা সিদ্দীকা। আর অভিযুক্ত মো. আশিক উল্লাহ একই বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। আশিকের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, আশিকনামা নামের একটি ফেসবুক পেজ চালান আশিক উল্লাহ। সেখানে নিয়মিত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানহানিকর ভিডিও দেন তিনি। পাঁচ দিন আগে পেজটিতে আইন বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক বেগম আসমা সিদ্দীকাকে নিয়ে একটি ভিডিও দেন। বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে তিনি ওই শিক্ষককে হয়রানি করেন। এর আগে অনেক শিক্ষার্থীকে অনলাইনের ফাঁদে ফেলে আশিক ব্ল্যাকমেইলও করেছেন বলে অভিযোগ আছে। গতকালের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যাপক বেগম আসমা সিদ্দীকা গতকাল চতুর্থ বর্ষের ক্লাস নিচ্ছিলেন। ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়েন আশিক উল্লাহ। ক্লাসের শেষের দিকে তিনি ওই শিক্ষককে বিব্রত করার জন্য অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি ক্লাস থেকে বের হতে গেলে আশিক দরজা লাগিয়ে তাঁকে মারার জন্য উদ্যত হন। তখন শিক্ষার্থীরা তাঁকে শ্রেণিকক্ষে আটকে রেখে ওই শিক্ষককে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে আশিককে আইন বিভাগের সভাপতির কক্ষে আটকে রাখেন শিক্ষার্থীরা। ওই সময় বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাঁর স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে প্রক্টর দপ্তরে নিয়ে যায়। সেখানে আইন বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডির আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে তাঁকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অধ্যাপক বেগম আসমা সিদ্দীকা বলেন, আমি চতুর্থ বর্ষের ক্লাস শেষ করে বের হতে গেলেই সে আমার পথ অবরোধ করে। ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয় নিয়ে আমার কাছে সমাধান চাইলে আমি তাকে চেয়ারম্যান স্যারের সঙ্গে কথা বলতে বলি। কিন্তু সে তা না শুনেই আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। অভিযুক্ত আশিক উল্লাহ নিয়মিত বিভিন্ন শিক্ষকের সঙ্গে বেয়াদবি করেন বলেও অভিযোগ করেন এই অধ্যাপক। এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হাসিবুল আলম প্রধান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আমরা বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এর আগে তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সেই কমিটির প্রতিবেদনের বাস্তবায়ন চাইব। সেই সঙ্গে সে যেন পরীক্ষা দিতে না পারে সে ব্যবস্থাও করব আমরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, আইন বিভাগের ক্লাসরুমে শিক্ষক অধ্যাপক বেগম আসমা সিদ্দীকাকে হেনস্তা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শৃঙ্খলা কমিটি ও সিন্ডিকেটে রিপোর্ট সাপেক্ষে আশিক উল্লাহকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে বহিষ্কার শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষকের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় আশিককে গ্রেপ্তার করে রাজশাহীর মতিহার থানা পুলিশ। ওসি আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিকেলে আশিককে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।