পানি কমায় ভাঙনের শঙ্কা

title
৪ দিন আগে
নীলফামারীতে তিস্তার বন্যা পরিস্থিতি আরেক দফা উন্নতি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপত্সীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর আগের দিন সেখানে পানিপ্রবাহ ছিল বিপত্সীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচে। তবে পানি কমার সঙ্গে ভাঙনের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। বিজ্ঞাপন ডিমলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, বন্যাকবলিত বেশির ভাগ বাড়ি থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। বন্যায় ওই ইউনিয়নের এক হাজার ৭০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে এলাকাবাসী। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যারাজের সব জলকপাট খোলা রয়েছে। নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনো ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল বিকেলে সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপত্সীমার ১২ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পানিবন্দি থাকার কারণে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। খাদ্যসংকটের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি ও শৌচাগারের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে বন্যার্তরা। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে গোখাদ্যের সংকট। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম বলেন, বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাই ত্রাণ পাবে। যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করায় সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি এখনো বাড়ছে। জেলার চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার কয়েকটি স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তবে ভাঙন রোধে কাজ করছে পাউবো। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি পাঁচ সেন্টিমিটার কমে শহররক্ষা বাঁধ হার্ডপয়েন্ট এলাকায় বিপত্সীমার ৪০ সেন্টিমিটার এবং কাজিপুর পয়েন্টে ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। টাঙ্গাইলের প্রধান নদীগুলোর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এলাকার খামারিরা রয়েছেন বেকায়দায়। নিম্নাঞ্চল এখনো প্লাবিত থাকায় গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার সাত উপজেলার আট হাজারেরও বেশি হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত আছে। তবে পানি না বাড়ার কারণে নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়নি। বগুড়ার বন্যাকবলিত তিন উপজেলার খামারি ও গৃহস্থরা গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। পানিতে ফসলি জমির পাশাপাশি চারণভূমি প্লাবিত হওয়ায় গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে বগুড়ার সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলায় এখনো কোরবানির হাট জমে ওঠেনি। ফলে বাজারে বিক্রির জন্য তুলেও দাম পাচ্ছেন না ওই এলাকার খামারি ও গৃহস্থরা। বগুড়ার অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান বলেন, আকস্মিক বন্যার কারণে ওই তিন উপজেলার খামারি ও গৃহস্থরা কিছুটা সংকটে পড়েছেন। তবে এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে। [প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন বগুড়া অফিস, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি]