সিলেটে বন্যার প্রভাবে মোমবাতির সংকট চট্টগ্রামে!

title
৪ দিন আগে
সিলেট ও সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যার কারণে চট্টগ্রামে মোমবাতির বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। চট্টগ্রামের খুচরা দোকানগুলোতে মাঝারি আকারের প্রতিটি মোমবাতির দাম এক থেকে দুই টাকা করে বেড়েছে। পাঁচ টাকার মোমবাতি সাত টাকায়, ১০ টাকার মোমবাতি ১২ থেকে ১৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নগরের বহদ্দারহাট ও চকবাজার এলাকায় বেশ কয়েকটি খুচরা দোকানির সঙ্গে কথা বলে মোমবাতির মূল্য বৃদ্ধির সত্যতা পাওয়া গেছে। বিজ্ঞাপন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ করে মোমবাতির সরবরাহ কমে গেছে। তবে কেন কমেছে তা তারা সঠিকভাবে বলতে পারেননি। নগরের বক্সিরহাট বদরপাতি এলাকার পাইকারি মোমবাতি বিক্রেতা সৈয়দ শফিকুল ইসলাম জানান, বৃহত্তর সিলেটে বন্যার কারণে চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে মোমবাতি সরবরাহ কমে গেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের আশপাশের এলাকার ব্যবসায়ীরা পাইকারিভাবে বেশি মোমবাতি কিনে নিয়ে যাওয়ার কারণে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। তবে সপ্তাহখানেক পর ঠিক হয়ে যাবে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে দাম বেড়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে এই ব্যবসায়ী বলেন, এমনিতেই গত ছয় মাসের তুলনায় বর্তমানে মোমবাতির দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা। নিয়মিত ব্যবহারের মাঝারি আকারের ছয়টি করে এক প্যাকেট মোমবাতির পাইকারি মূল্য ছিল ৪০ থেকে ৪২ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। যা খুচরা বাজারে গিয়ে প্রতিটি মোমের দাম হয়েছে ১৫ টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় ভয়াবহ বন্যার কারণে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বৃহত্তর সিলেটের বড় একটি এলাকা সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। পাওয়ার গ্রিড স্টেশনে বন্যার পানি প্রবেশ করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিকল্প আলোর ব্যবস্থাতেও চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা সদরসহ আশপাশের এলাকায় দেখা দিয়েছে মোমবাতি সংকট। নগরের চাক্তাই এলাকায় মালেক শাহ নামে মোমবাতি তৈরির একটি কারখানার মালিক জানে আলম জানান, সিলেট অঞ্চলে বন্যার কারণে চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা বাজারে মোমবাতি সরবরাহে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে এটা বেশিদিন থাকবে না। বন্যর পানি নেমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তিনি বলেন, আমি চট্টগ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গাউছিয়া কমিটিকে এক হাজার প্যাকেট (প্রতি প্যাকেটে ছয়টি) রাউজানের এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরীর রিলিফ টিমের জন্য আড়াই হাজার প্যাকেট মোমবাতি সরবরাহ করেছি। এছাড়া ছোট ছোট বিভিন্ন গ্রুপ সিলেট অঞ্চলে পাঠানোর জন্য অন্যান্য কারখানা থেকে মোমবাতি সংগ্রহ করার কারণে চট্টগ্রামের বাজারে এর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের উদ্যোগে তার পারিবারিক সংগঠন আলহাজ মোস্তফা-হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ও আলহাজ হোসনে আরা মনজুর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় বৃহত্তর সিলেটের বন্যাদুর্গত এলাকা সুনামগঞ্জ ও হরিপুরে বানভাসি মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। ২ হাজার পরিবারের জন্য খাদ্যসামগ্রী ওষুধ ও মোমবাতি ম্যাচসহ মোট ২ হাজার বস্তা ত্রাণ বিতরণ করা হয়। একই এলাকার শাহ মোম কারখানার মালিক সিদ্দিক আহমদ জানান, তিনি গত মঙ্গলবার প্রতি প্যাকেটে ছয়টি করে তিন হাজার প্যাকেট মোমবাতি সিলেটের কালীঘাট এলাকায় পাঠিয়েছেন। বন্যার কারণে সিলেট অঞ্চলে মোমবাতির চাহিদা আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া ক্যামিকেলের দাম বাড়ায় মোমবাতির উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, অন্য সময় আমরা যে মোমবাতি পাইকারি বাজারে ৩৩/৩৪ টাকায় দিয়েছি, বর্তমানে তা ৩৬/৩৭ টাকায় সরবরাহ করতে হচ্ছে। মালেক শাহ কারখানার মালিক জানে আলম বলেন, ২০ বছর ধরে মোমবাতি কারখানা পরিচালনা করছি। বর্তমানে এক টন মোম কিনতে হয় দুই লাখ ৩০ হাজার টাকায়। ছয় মাস আগে একই মোম কিনেছিলাম এক লাখ ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। ডলারের দাম বৃদ্ধি, পাম অয়েলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে আমদানিকারকরাও মোমের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। মোম তৈরিতে প্রধান কাঁচামাল আসে ইন্দোনেশিয়া থেকে। জানা গেছে, পাম অয়েলের বাই প্রোডাক্ট ইস্টারিক এসিড মোমবাতি তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক বছর আগেও চট্টগ্রামের চাক্তাই, চর চাক্তাইসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০০ ছোট-বড় মোমবাতি কারখানা ছিল। কেমিক্যালের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে মোমের চাহিদা কমে আসায় বর্তমানে ২৫/৩০টি মোমবাতি তৈরির কারখানা কোনোমতে টিকে আছে। বাকিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণ সময়ে মোমবাতির চাহিদা কমার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, এক সময় মানুষ বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে মোমবাতি ব্যবহার করতেন। বর্তমানে চার্জারলাইট, এলিইডি লাইট ও আইপিএস ব্যবহারের কারণে দিন দিন মোমবাতির ব্যবহার কমে যাচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ হলে বিদ্যুৎ না থাকলে তখন মানুষ মোমবাতি ব্যবহার করে। বর্তমানে সনাতন ধর্মীয় পূজা-পার্বন এবং মুসলমানরা বিভিন্ন দরগাহে কিছু মোমবাতি ব্যবহার করে থাকেন।