দ্বীপ আক্রমণের মহড়া করছে চীন : তাইওয়ান

title
১২ দিন আগে
চীনের যুদ্ধবিমান ও রণতরি গতকাল শনিবার তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ডে আক্রমণের মহড়া পরিচালনা করেছে বলে দাবি করেছেন স্বশাসিত দ্বীপটির কর্মকর্তারা। মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের জেরে গত বৃহস্পতিবার থেকে তাইওয়ানের কাছ ঘেঁষে সাগর ও আকাশে সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন। এ মহড়া চলবে আগামী রবিবার পর্যন্ত। সব মিলিয়ে তাইওয়ানের চারপাশ ঘিরে ছয়টি অবস্থানে মহড়া পরিচালনা করছে চীন। বিজ্ঞাপন দ্বীপটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, চীনের একাধিক রণতরি এবং যুদ্ধবিমান তাইওয়ান প্রণালির মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে, যাকে দ্বীপটির সামরিক বাহিনী সেখানে আক্রমণের মহড়া হিসেবেই দেখছে। চীনের সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড বলছে, তাইওয়ানের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং পূর্বের সাগর ও আকাশে যৌথ মহড়া পরিচালনা করা হচ্ছে। তারা জানিয়েছে, চীনা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ভূমিতে আঘাত হানা ও জলপথে আক্রমণ সক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখাটাই তাদের মূল্য লক্ষ্য। গতকাল শনিবার বিকেলেও তাইওয়ান প্রণালিতে চীনের রণতরি ও যুদ্ধবিমান চাপ সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছেন সুরক্ষা পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। তিনি আরো জানান, তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে এবং জাপানি দ্বীপের কাছে চীনের রণতরি এবং ড্রোন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যুদ্ধজাহাজের ওপর আক্রমণের মহড়াও চালিয়েছে। এদিকে তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী জাহাজ পাঠিয়ে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। তারা উপকূলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি রেখেছে। স্বশাসিত ভূখণ্ডটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাইওয়ানি এক নৌ সেনার ছবি প্রকাশ করেছে। ওই ছবিতে দেখা যায়, কাছেই থাকা চীনা যুদ্ধজাহাজের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার দিনের শেষ ভাগে নিজেদের কিনমেন দ্বীপপুঞ্জের ওপর উড়তে থাকা সাতটি ড্রোন ও মাতসু দ্বীপের ওপর উড়তে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় এক আকাশযানকে সতর্ক করতে ফ্লেয়ার ছুড়েছে তাইওয়ান। পেলোসির সফরের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জলবায়ুসহ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা বাতিলসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে ক্ষুব্ধ চীন। তাইওয়ান প্রণালিতে ছুড়েছে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ওয়াশিংটনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। তিনি আরো মন্তব্য করেছেন, তাইওয়ান প্রশ্নে শান্তিপূর্ণ সমাধানে না গিয়ে জোর খাটানোর পথে গেছে দেশটি। সূত্র : রয়টার্স।