দেশের মানুষকে সেবা দিতে পুলিশ বদ্ধপরিকর : আইজিপি

title
৪ মাস আগে
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশ দেশের মানুষকে সেবা দিতে বদ্ধপরিকর। আমরা প্রতিনিয়ত এ সংগঠনের মানোন্নয়নের জন্য কাজ করছি। পুলিশ সদস্যদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার মাধ্যমে সবচেয়ে মেধাবীদের নির্বাচন করা হচ্ছে। আমরা দীর্ঘ ৪০ বছর পর কনস্টেবল, সাবইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট পদের নিয়োগ বিধি সংশোধন করেছি। বিজ্ঞাপন ইতোমধ্যে কনস্টেবল পদে বেস্ট অব দি বেস্ট প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। আমরা মনে করি, পুলিশের চাকরি শুধু চাকরি নয়, সেবা। এ জন্য আমাদের এবারের ট্যাগ লাইন হলো চাকরি নয়, সেবা। আমরা চাই পুলিশ বৈষম্যহীনভাবে দেশের মানুষকে সেবা দেবে। পুলিশ সপ্তাহ-২০২২-এর দ্বিতীয় দিনে আইজিপি আজ দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে শিল্ড প্যারেড, ২০২০ ও ২০২১ সালের মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও চোরাচালান দ্রব্য উদ্ধারে সাফল্য অর্জনকারী বিভিন্ন ইউনিটের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন আইজিপি। তিনি আরোবলেন, বাংলাদেশ পুলিশকে ২০৪১ সালের উন্নত দেশের উপযোগী পুলিশ হিসেবে গড়ে তুলতে কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জঙ্গি ও মাদকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইজিপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি বাস্তবায়ন করছি। যখনই আমাদের দেশে জঙ্গিবাদ হানা দিয়েছে তখনই জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা তা দমন করেছি। পুলিশপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অস্ত্র সম্পূর্ণ নির্মূল করতে হবে। মাদক নির্মূলে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। যুবসমাজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের দেশ মাদক উৎপাদন করে না। কিন্তু আমরা কেন মাদকের শিকার হব?যুবসমাজকে তা উপলব্ধি করতে হবে। ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ যুব সমাজকে হাতছানি দিচ্ছে। আমাদেরকে অবশ্যই মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। করোনাকালে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, করোনা অতিমারিতে পুলিশ এক মহাকাব্যিক ভূমিকা পালন করেছে। নিজেদের জীবন বিপন্ন করে পুলিশ সদস্যরা জনগণের বাড়িতে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া, খাবার পৌঁছে দেওয়া, কৃষকের ধান কাটার ব্যবস্থা করা, এমনকি করোনায় কেউ মারা গেলে যখন আত্মীয়-স্বজনরা লাশ ফেলে চলে গেছে তখন পুলিশ লাশ দাফন/সৎকার করেছে। করোনাকালে ১০৬ জন পুলিশ সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। ২৭ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই আবার সুস্থ হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছেন। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশেহুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আইজিপি বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য কোনো ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িত হলে তা বরদাশত করা হবে না। আমরা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী ন্যায়সংগত ও ন্যায্য কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, আমরা খারাপ কাজের মাধ্যমে সংবাদ হতে চাই না, নিজেরা ভালো কাজ করে সংবাদের জোগান দিতে চাই। অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান দ্রব্য উদ্ধারে সাফল্য অর্জনকারী ইউনিটসমূহকে ধন্যবাদ জানান। অন্যইউনিটসমূহকেও এ ক্ষেত্রে আরো তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান আইজিপি। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অতিরিক্ত আইজি (এঅ্যান্ডআই) ড. মো.মইনুর রহমান চৌধুরী। আইজিপি ২০২০ ও ২০২১ সালে বিভিন্ন অভিযানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও চোরাচালানের মালামাল উদ্ধারে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ২০২০ সালে ক গ্রুপে প্রথম হয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, দ্বিতীয় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, তৃতীয় পাবনা জেলা পুলিশ। খ গ্রুপে প্রথম হয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় যশোর জেলা পুলিশ, তৃতীয় নোয়াখালী জেলা পুলিশ। গ গ্রুপে এপিবিএন প্রথম , চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ দ্বিতীয়, রাজবাড়ী জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ঘ গ্রুপে রেব-৭, চট্টগ্রাম প্রথম, রেব-৫, রাজশাহী দ্বিতীয়, রেব-১৫, কক্সবাজার তৃতীয় হয়েছে। ঙ গ্রুপে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ প্রথম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগ দ্বিতীয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগ তৃতীয় হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ২০২১ সালে ক গ্রুপে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রথম, পাবনা জেলা পুলিশ দ্বিতীয়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। খ গ্রুপে প্রথম কক্সবাজার জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় নরসিংদী জেলা পুলিশ, তৃতীয় নোয়াখালী জেলা পুলিশ। গ গ্রুপে এপিবিএন প্রথম, গাজীপুর জেলা পুলিশ দ্বিতীয়, রাজবাড়ী জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ঘ গ্রুপ রেব-৭ , চট্টগ্রাম প্রথম, রেব- ৫, রাজশাহী দ্বিতীয়, রেব-১৫, কক্সবাজার তৃতীয় হয়েছে। ঙ গ্রুপে প্রথম হয়েছে ডিবি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম দ্বিতীয়, যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ ও ওয়ারী বিভাগ। মাদকদ্রব্য উদ্ধারে ২০২০ সালে যারা পুরস্কৃত হয়েছে, ক গ্রুপে প্রথম হয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, কুমিল্লা জেলা পুলিশ দ্বিতীয়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৃতীয়। খ গ্রুপে কক্সবাজার জেলা পুলিশ প্রথম, যশোর জেলা পুলিশ দ্বিতীয়, ঢাকা জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। গ গ্রুপে প্রথম হয়েছে জয়পুরহাট জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় লালমনিরহাট জেলা পুলিশ, তৃতীয় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ। ঘ গ্রুপে প্রথম হয়েছে রেব-৫, রাজশাহী, রেব-৪, মিরপুর, ঢাকা দ্বিতীয়, রেব-১৫, কক্সবাজার তৃতীয় হয়েছে।