গাছ কেটে নেয়া সেই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

title
২১ ঘন্টা আগে
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাছ কাটলেন কর্মকর্তা শিরোনামে কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বদরুল হাসানের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জামালপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়। এ তদন্ত কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার পর পর্যায়ক্রমে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে বেশ কিছু ফলজ ও বনজ গাছ লাগানো হয়। বিজ্ঞাপন বর্তমানে গাছগুলো প্রায় অর্ধশত বছরের পুরনো হয়েছে। হঠাৎ করে গত বুধবার হাসপাতাল কম্পাউন্ডের সেই গাছগুলো থেকে তিনটি মেহগনি ও দুটি কড়ইগাছ কেটে ফেলা হয়। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এসব গাছ কেটে ফেলায় হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনা তদন্তে জেলা সিভিল সার্জন প্রণয় কুমার দাস গতকাল বৃহস্পতিবার সহকারী সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ আবু আহম্মদ শফিকে প্রধান করে িতন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ তদন্ত কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। তবে এর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, দুটি গাছ কাটার জন্য উপজেলার মাসিক সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে রেজল্যুশনের মাধ্যমে অনুমতি নেওয়া হয়। অপরদিকে, দুটি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হলেও কেন অতিরিক্ত গাছ কাটা হলো,তা তদন্তে একই দিন আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশীকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট অপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। এ তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী জানান, হাসপাতালের নিযুক্ত খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদার আব্দুল কদ্দুছের সঙ্গে যোগসাজশে গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তবে গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, নিজের দায় এড়াতে কৌশলে নিজেই তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। উপজেলা বন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) সরোওয়ার জাহান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাছ কাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বন বিভাগের অনুমতি নেয়নি। অনুমতি নিলে গাছের পরিমাপ করে মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া যেত। উপজলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বদরুল হাসান বলেন, হাসপাতাল কমপ্লেক্সে মসজিদের উন্নয়নের জন্য দুটি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। এ গাছ বিক্রির টাকা মসজিদের তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে দুটির বেশি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ তদন্ত কমিটি আগামী শনিবার থেকে তদন্তের কাজ শুরু করবেবলেও তিনি জানান। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপমা ফারিসা কালের কণ্ঠকে বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাছ কাটার বিষয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিনকার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।