জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় একটি পরিবারের মানবেতর জীবন

title
১০ দিন আগে
দেবীদ্বার বরকামতা গ্রামে প্রতিপক্ষের বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে কুলসুমের পরিবারের খাবার টেবিল থেকে নারীদের চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করে বের করাই নয়, মায়ের কোল থেকে ৭ সাসের কন্যা সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে বাহিরে ছুড়ে ফেলা এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১২ মে (বৃহস্পতিবার) দুপুরে উপজেলার বরকামতা গ্রামের স্বর্ণপাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কুলসুম বেগমের বাড়ি তার চাচাতো ভাই রহমানসহ অন্যান্যদের বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে ওই ঘটনা ঘটে। স্থিতাবস্থায় বজায় রাখাতে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে কুলসুম বেগমের ছেলে মো. সাকিব জানান, গত ১২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) আমরা তখন দুপুরের খাবার খেতে বসেছিলাম, এসময় আমার মা কুলসুম বেগম, আমার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম, ছোট বোন সানজিদা আক্তার, আমার একমাত্র কন্যা ৭ মাসের মেহেরুন খাবার টেবিলে ছিল। বিজ্ঞাপন হঠাৎ একদল সন্ত্রাসী এসে আতঙ্ক ছড়িয়ে বাড়িঘরে হামলা চালায়। খাবার টেবিল থেকে নারীদের চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া, কিলঘুষি ও লাথি মেরে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমার ৭ মাসের সন্তান মেহেরুনকে ঘারে ধরে কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বাহিরে ছুড়ে ফেলে দেয়। ওরা আমাদের বাড়িঘর নিশ্চিহ্নই নয়, টয়লেটের ইটগুলোও খুলে নেয়, পানির কল, ভিটির মাটি, কয়েক শ ফলজসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষগুলো কেটে সমস্ত মালামাল ভ্যান গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। তারা আমাদের ঘরের আসবাব, স্বর্ণালঙ্কার, টাকাসহ প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ভাঙচুর ও লুট করে নিয়ে যায়। অপরাধ আমার মা বাবার একমাত্র সন্তান হিসেবে তার পৈত্রিক ভিটিতে বাড়ি নির্মাণে বসবাস করে আসছিলেন। আর ওই বাড়ির অংশটি আমার মায়ের অজান্তে তথ্য গোপন করে আমার মায়ের চাচাতো ভাই মোহন মিয়া নিজ নামে বিএস রেকর্ড করিয়ে নিয়েছিল। পরবর্তীতে জানতে পেরে ওই বিএস রেকর্ডর বিরুদ্ধে আদালতে আমার মা মামলা করেন, আদালত ওই জায়গার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। থানা পুলিশ আমাদের কোনো আইনি সহায়তা দেননি। বাড়িঘর ভাঙচুরের আগে অর্থাৎ ঘটনার দিন থানা পুলিশকে আদালতের দেওয়া স্থিতাবস্থায় বজায় রাখার জন্য ১৪৪ ধারার নোটিশটি থানা পুলিশের নিকট পৌঁছার পরও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি আমাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং উচ্ছেদের পরিস্থিতিতে সহায়তা চাইলে পুলিশ কোনো সহযোগীতা করেনি। অনেক চাঁপাচাপির পর ঘটনার পর দিন যাবে বলে আমাদের বিদায় করে দেন। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় দেবীদ্বার উপজেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বরকামতা গ্রামের স্বর্ণপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে সন্ত্রাসী হামলায় উচ্ছেদ হওয়া কুলসুম বেগমের পরিবারের পক্ষে কুলসুম বেগমের ছেলে মো. সাকিব ওই অমানবিক ও করুণ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে ওই হামলার নেতৃত্বে মো. আব্দুর রহমান, মো. নজু মিয়া, মো. তারেক মিয়া, মো. আনিস মিয়া, মো. মমিন মিয়া, মো. জহির মিয়ার নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ৩/৪ শ দেশীয় মরণাস্ত্র নিয়ে ওই হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। এ পরিস্থিতিতে আমাদের পরিবারের সদস্যরা গৃহহারা হয়ে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আজকের এ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট সুষ্ঠু বিচার ও আমাদের সঠিক প্রাপ্যটা বুঝে পেতে হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ভুক্তভোগী সাকিবের মা কুলসুম বেগম, সাকিবের ভাই মো. শাহিন, স্ত্রী সুরাইয়া বেগম, বোন সাঞ্জিদা আক্তার, মামা মো. ইউছুফ মিয়া, ইউছুফ মিয়ার স্ত্রী সেলিনা বেগম প্রমুখ।