অনেক যুদ্ধ করে এই কোচ এনেছি

title
এক মাস আগে
অস্কার ব্রুজোনের অধীনে জাতীয় দলের অনুশীলন দেখে খুশি কাজী সালাউদ্দিন। তিনি ঠিক যেরকম অনুশীলন চেয়েছিলেন সেরকমই হচ্ছে, যা বাফুফে সভাপতিকে সাফে আশাবাদী করে তুলছে, আমি আশাবাদী দলটা এবার ভালো করবে। অনেক যুদ্ধ করে এই কোচকে এনেছি। রেজাল্ট যা হওয়ার তা-ই হবে, তবে কোচ বদল করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিবর্তনটা দরকার ছিল। কী যুদ্ধ, কার সঙ্গে যুদ্ধ সেগুলো সভাপতি পরিষ্কার করেননি। যুদ্ধের ফল কোচ পরিবর্তন, তবে এটা সাফের আগে আগে হয়েছে বলেই খানিকটা সমালোচনা আছে। আবার সাড়ে তিন বছরে কোচ জেমি ডের পারফরম্যান্সও উল্লেখ করার মতো নয়। রক্ষণাত্মক ফুটবলে কোনো অর্জন নেই বাংলাদেশের। তাই সাফের আগে নাটকীয় কোচ বদলে অস্কার ব্রুজোনের হাতে উঠেছে লাল-সবুজের দায়িত্ব। তাঁর অধীনে গতকাল জাতীয় দলের অনুশীলন দেখে কাজী সালাউদ্দিন খুশি, এমন প্রস্তুতিই আশা করেছিলাম। তার সঙ্গে আমার তিন-চারটি সভা হয়েছে। টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে যে বিষয়গুলো আলাপ করেছিলাম, তার সঙ্গে আমার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মেলে। দু-একটি জায়গায় এদিক-ওদিক হয়েছিল। আমার বিষয়গুলো তাকে বোঝালাম, সে-ও বুঝল। সে-ও কিছু বিষয় আমাকে বোঝাল। অনুশীলন এবং খেলার কৌশলের দিক থেকে আমাদের মত একই রকম। অর্থাৎ কোচ ও বাফুফে সভাপতির মত ও পথ একবিন্দুতে গিয়ে মিলছে। সেটা হলো, আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ রাঙাতে হবে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে মালদ্বীপে শুরু সাফ ফুটবলে এবার পাঁচ দল খেলবে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে। ফাইনালে খেলবে শীর্ষ দুই দল। সুতরাং ফাইনালের স্বপ্ন সফল করতে হলে ম্যাচ জিততে হবে, অন্তত দু-তিনটি ম্যাচ জিততে হবে। কিন্তু অল্প সময়ে জাতীয় দলের গিয়ার বদল নিয়ে অনেকের সংশয় আছে। রক্ষণাত্মক ফুটবল থেকে সরে গিয়ে দ্রুত আক্রমণাত্মক ফুটবলের অভ্যাস তৈরি করাও কঠিন। তবে বসুন্ধরা কিংসের এই কোচের জন্য এটা কঠিন মনে করছেন না কাজী সালাউদ্দিন, দুটি বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ। দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় বসুন্ধরা কিংসের। সেরা একাদশের মধ্যে অন্তত চার-পাঁচজন থাকে কিংসের খেলোয়াড়, এর বাইরে যারা থাকবে তারাও যথেষ্ট পরিণত। দলের ৫০ শতাংশ খেলোয়াড় কোচের কৌশল আগে থেকে জানে ও বোঝে, তাহলে জামাল ভুঁইয়ার মতো সিনিয়রদের না বোঝার কথা নয়। আসলে এর চেয়ে ভালো বিকল্প আমাদের ছিল না। সাফের আগে কোচ বদল অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ায় সামগ্রিক বিবেচনায় এগিয়ে যায় বসুন্ধরা কিংসের কোচ। প্রথমত, মৌসুমের পুরোটা জাতীয় দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় থাকে তাঁর অধীনে। অন্য দলের ফুটবলারদের পারফরম্যান্স সম্পর্কেও আছে তাঁর স্পষ্ট ধারণা। সব মিলিয়ে ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে সফল কোচের ভালো ধারণা আছে এ দেশের ফুটবল সম্পর্কে। এটাকেই বড় করে দেখছেন বাফুফে সভাপতি। তাঁর কাছে ভালো লেগেছে কোচের আরেকটি অভিব্যক্তি, ব্রুজোনের একটা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হলো এই দলটাকে সে নিজের ভাবে। যেদিন ওর দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে সেদিন থেকে সে কাজে ঢুকে গেছে। ভাবনা-চিন্তা শুরু করে দিয়েছে। চার দিন কথা বলার পর তিনি দল নিয়ে মাঠে নেমেছেন, কিন্তু তার আগেই তিনি দলে ঢুকে গেছেন। এটা আমি আগের কোচগুলোর মধ্যে পাইনি, যারা দলকে নিজের ভাবে। সভাপতি এই স্প্যানিশ কোচ সম্পর্কে এত উচ্চকণ্ঠ হলেও তিনি অন্তর্বর্তীকালীন কোচ। বসুন্ধরা কিংস থেকে লোনে আনা এই কোচ কাজ করবেন শুধু সাফ টুর্নামেন্টে।