ফের উত্তপ্ত নাগর্নো-কারাবাখ

title
১২ দিন আগে
আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান দুই দেশই নতুন করে উত্তাপ ছড়ানোর কথা স্বীকার করেছে। দুই দেশই অপর দেশকে এর জন্য অভিযুক্ত করেছে। আজারবাইজানের অভিযোগ, আর্মেনিয়ার মদতপুষ্ট বিচ্ছিন্নতবাদী কারাবাখ সেনা ওই অঞ্চলে ক্যাম্প করে থাকা আজারবাইজানের সেনার উপর আক্রমণ চালায়। ঘটনায় এক সেনার মৃত্যু হয়। তারপরেই আজারবাইজান বাধ্য হয়ে ওই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অপারেশন চালায়। তাতে কিছু মানুষ আহত হয়েছেন এবং কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। তবে, কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা তারা জানায়নি। আজারবাইজান, আর্মেনিয়ার মধ্যে সংঘাতের কারণ কী? সংঘাতের কারণ ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে রাশিয়ার মিত্র আর্মেনিয়া ও তুরস্কের মিত্র আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত চলছে৷ এর কারণ নাগর্নো-কারাবাখ অঞ্চল৷ আজারবাইজান, আর্মেনিয়ার মধ্যে সংঘাতের কারণ কী? নাগর্নো-কারাবাখ অঞ্চল কোথায়? আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অঞ্চলটি আজারবাইজানের অংশ৷ পাহাড় ও বন ঘেরা দুর্গম এই অঞ্চলে প্রায় দেড় লাখ মানুষ বাস করেন৷ তাদের বেশিরভাগই আজারবাইজানের শাসনের বিরোধী আর্মেনীয়৷ অঞ্চলটির আয়তন প্রায় চার হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার৷ আজারবাইজান, আর্মেনিয়ার মধ্যে সংঘাতের কারণ কী? প্রথম সংঘাত গত শতকের আশির দশকের শেষদিকে যখন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার প্রক্রিয়া চলছে, তখন থেকেই নাগর্নো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাতের শুরু৷ ১৯৯৪ সালে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে এই সংঘাত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রাণ হারান প্রায় ৩০ হাজার মানুষ৷ সংঘাতের কারণে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আর্মেনীয়দের হাতে৷ আজারবাইজান, আর্মেনিয়ার মধ্যে সংঘাতের কারণ কী? আর্মেনিয়ার সহায়তা ১৯৯৪ সালের পর থেকে নাগর্নো-কারাবাখ অঞ্চলকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে আর্মেনিয়া৷ এছাড়া সারা বিশ্বে থাকা আর্মেনীয়রাও ঐ অঞ্চলের জন্য দান করে থাকেন৷ ছবিতে কারাবাখের সবচেয়ে বড় শহর স্টেপানাকিয়ার্ট দেখা যাচ্ছে৷ আজারবাইজান, আর্মেনিয়ার মধ্যে সংঘাতের কারণ কী? মাঝেমধ্যেই সংঘাত যুদ্ধবিরতি চললেও নাগর্নো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সৈন্যদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে৷ ২০১৬ সালে এক সংঘাতে (ছবি) প্রায় ২০০ জন প্রাণ হারান৷ এছাড়া গত জুলাইতেও মোটামুটি বড় আকারের সংঘাত হয়েছিল৷ রবিবার শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন৷ নিহতদের অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক৷ আজারবাইজান, আর্মেনিয়ার মধ্যে সংঘাতের কারণ কী? আবার কেন সংঘাত? জুলাইয়ের সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তার সমাধানে ততটা আগ্রহ দেখায়নি৷ অতীতে রাশিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র ঐ অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে মধ্যস্থতা করলেও বর্তমানে করোনা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, বেলারুশ, লেবানন পরিস্থিতি ইত্যাদির কারণে নাগর্নো-কারাবাখ অঞ্চলের দিকে পর্যাপ্ত মনোযোগ দেয়া যায়নি৷ তাই রবিবার থেকে যুদ্ধ শুরু হয়েছে৷ আজারবাইজান, আর্মেনিয়ার মধ্যে সংঘাতের কারণ কী? এবারের সংঘাত কতটা বড়? ‘জর্জিয়ান স্ট্র্যাটেজিক অ্যানালিসিস সেন্টার’-এর সিনিয়র ফেলো গেলা ভাসাদজে বলছেন, ১৯৯০ দশকের পর এই ‘প্রথম’ আর্মেনিয়া ও কারাবাখ ঐ অঞ্চলে সামরিক আইন জারি করে অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক যান জড়ো করছে৷ আজারবাইজানও সামরিক আইন জারি করেছে৷ এছাড়া আকাশ থেকে হামলা চালানোর সিস্টেম, ট্যাঙ্ক, আর্টিলারি সবকিছুর ব্যবস্থা করছে দেশটি৷ আজারবাইজান, আর্মেনিয়ার মধ্যে সংঘাতের কারণ কী? রাশিয়া, তুরস্ক যুক্ত হবে? খ্রিস্টানপ্রধান আর্মেনিয়ার সবচেয়ে বড় বন্ধু রাশিয়া৷ তাদের সঙ্গে সামরিক চুক্তিও আছে দেশটির৷ আর মুসলমানপ্রধান দেশ আজারবাইজানের সঙ্গে সামরিক চুক্তি আছে তুরস্কের৷ তবে বিশ্লেষক গেলা ভাসাদজে বলছেন, রাশিয়া ও তুরস্ক হয়ত সরাসরি এই সংঘাতে যুক্ত হবে না, কারণ, এতে যুক্ত হয়ে খুব বেশি লাভ নেই৷ বরং এর ফলে তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে৷ আজারবাইজান, আর্মেনিয়ার মধ্যে সংঘাতের কারণ কী? রাশিয়ার সুযোগ বেলারুশের প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোকে সমর্থন জানিয়ে এবং রুশ প্রেসিডেন্ট পুটিনের বিরোধী নাভালনিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ সমালোচনার মুখে আছে রাশিয়া৷ এই অবস্থায় রাশিয়া যদি আলোচনার মাধ্যমে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে, তাহলে বিশ্বমঞ্চে রাশিয়া প্রশংসিত হতে পারে৷ পুটিন ইতিমধ্যে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে৷ আর্মেনিয়ার অভিযোগ, বিতর্কিত এলাকায় আজারবাইজান প্রথম অত্যাচার চালিয়েছে। যেখানে শান্তিবাহিনীর পেট্রোলিং করার কথা, আজারবাইজান সেখানে ঢুকে পড়ায় তাদের বাধা দেওয়া হয়েছিল। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীটির বক্তব্য, আজারবাইজানের আক্রমণে অন্তত দুই যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। আহত অন্তত ১৪ জন আহত। এই পরিস্থিতিতে বাকুর দাবি, নাগার্নো-কারাবাখ অঞ্চল থেকে আর্মেনিয়াকে সমস্ত সেনা সরিয়ে নিতে হবে। কিন্তু আর্মেনিয়া তাতে রাজি নয়। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান জোসেপ বরেল জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে নাগার্নো-কারাবাখে উত্তেজনা প্রশমন করতে হবে। দুই দেশকেই সতর্ক করেছেন তিনি। রাশিয়া অবশ্য আজারবাইজানকে সাম্প্রতিক উত্তেজনার জন্য দায়ী করেছে। ২০২০ সালে নাগর্নো-কারাবাখ নিয়ে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়েছিল আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যে। রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সেই লড়াই বন্ধ হয়েছিল। দুই দেশের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছিল। এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এএফপি)