ভয়ংকর বন্যায় বেহাল চীন

title
৫ দিন আগে
চীনের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা গুয়াংডং-এ বৃষ্টির পর বন্যায় রাস্তা ভেসে গেছে, গাড়ি ভেসেছে, বাড়ি ভেঙে ভেসে গেছে। বন্যার জল বাড়তে থাকায় দুটি প্রদেশে বিপদসংকেত দেয়া হয়েছে বলে সংবাদসংস্থা জিনহুয়া জানিয়েছে। গুয়াংডংয়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষকে অন্যত্র সরানো হয়েছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি হতে পারে। তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। আপাতত ওই অঞ্চলে স্কুল, অফিস, যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। বন্যার জলে ডোবা শহর। জলসম্পদ মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, চীনের ১১৩টি নদীর জল আশপাশের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। সাতটি নদীতে জল বেড়ে চলেছে। গত রোববার চীনের প্রশাসন রেড অ্যালার্ট জারি করেছেন। বন্যার পাশাপাশি তারা ভয়ংকর ধসের আশঙ্কাও করছেন। পূর্ব চীনেও ঝড়ের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। বন্যাক্রান্ত এলাকায় মানুষ প্রচুর পরিমাণে খাবার মজুত করে রেখেছেন। ফলে অনেক দোকানেই খাবারের জিনিস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক দোকান থেকে তেল ও চাল উধাও হয়ে গেছে। বৃষ্টি এখনো থামেনি। সামাজিক মাধ্যমে একজন লিখেছেন, কেউ ভাবেননি, এত দ্রুতশহর ডুবে যাবে। তাই তারা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিলেন। অনেকের বাড়িতে উপযুক্ত পরিমাণে খাবার নেই। সাধারণত বর্ষার সময় মধ্য ও দক্ষিণ চীন ভাসে। কিন্তু এবার অস্বাভাবিক বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। সেজন্য নতুন নতুন এলাকা ভেসেছে। জিএইচ/এসজি (এপি, এএফপি, রয়টার্স) প্রবল বন্যার কবলে চীন পাঁচ দশকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টি ইয়াংৎজি নদীতে গত পাঁচ দশকের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে সোমবার৷ এর মধ্যেই ২৮ হাজার বাড়িঘর চলে গেছে পানির তলায়৷ প্রাণ হারিয়েছেন ১৪১ জন৷ কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন৷ হুবেই অঞ্চলের পাশাপাশি তিব্বত ও চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ প্রবল বন্যার কবলে চীন স্তব্ধ বাজার, ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি বন্যার ফলে ইতিমধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে৷ একদিকে করোনা সংকটের জেরে বন্ধ ছিল বাজার-হাট, এই বন্যা নতুন করে স্তব্ধ করছে চীনা অর্থনীতিকে৷ প্রবল বন্যার কবলে চীন করোনা-কেন্দ্রেও... চীনের হুবেই অঞ্চলের শহর উহান থেকেই শুরু হয় করোনা সংক্রমণ৷ বর্তমানে এক কোটি দশ লাখ মানুষের শহর এই উহান আবার শিরোনামে৷ এবার শিরোনামে আসার কারণ ইয়াংৎজি নদীর বন্যা৷ উহান ছাড়াও হুবেই অঞ্চলের আরো কয়েকটি বড় শহর দিয়ে বয়ে চলে ইয়াংৎজি৷ ছবিতে গুয়াংশি অঞ্চল৷ প্রবল বন্যার কবলে চীন নামানো হয়েছে সামরিক বাহিনী বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী ইয়াংৎজিতে এই ভয়াবহ বন্যা সামলাতে হুবেই ও জিয়াংশি অঞ্চলে এক লাখেরও বেশি কর্মী পাঠিয়েছে সরকার৷ এর মধ্যে রয়েছে সামরিক বাহিনীর সদস্য, চিকিৎসক ও উদ্ধারকারীদের দল৷ বালির বস্তা দিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছেন তারা৷ প্রবল বন্যার কবলে চীন প্রতি বছরই বন্যা যেখানে প্রতি বছরই চীনের এই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি নামে৷ বন্যাও হয় কম-বেশি সব বছরেই৷ কিন্তু এই বছর জুন মাসের শেষ থেকে শুরু হয় টানা বৃষ্টি৷ ১৯৬১ সালের পর থেকে এত ভয়াবহভাবে কখনো বাড়েনি ইয়াংৎজির জলসীমা৷ প্রবল বন্যার কবলে চীন পরিবেশবিদরা কী বলছেন? পরিবেশবিদরা বলছেন, কয়েক দশক ধরে গ্রীষ্মের তীব্রতা রোধ করতে সাহায্যকারী নদী, সংলগ্ন হ্রদ ও প্লাবনভূমির মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে নদীর বেশ কিছু বাঁধ৷ এমন আরো কয়েকটি কৃত্রিম নির্মাণের কারণে কয়েক দশক ধরে বন্যার হুমকি আরো বেড়েছে৷ পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা বহুদিন ধরেই এবিষয়ে সাবধান করে আসছিলেন৷ পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয়ের হিমবাহের দ্রুত গলে যাওয়াও ঝুঁকি বাড়াতে পারে৷