এইচআইভি/এইডসের ‘বিপদ' এড়াতে প্রয়োজন শত কোটি টাকার অর্থায়ন

title
১০ দিন আগে
করোনা ভাইরাসের মহামারি খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনেক কিছু পালটে দিয়েছে৷ এইচআইভি এবং এইডসের সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ এবং আক্রান্তদের চিকিৎসার বিষয়ে নেয়া বৈশ্বিক কৌশলেও এসেছে পরিবর্তন৷ ডয়চে ভেলেকে পাঠানো এক ইমেইলে ইউএনএইডসের নির্বাহী পরিচালক উইনি বায়ানিমা বলেছেন, ‘‘পশ্চিম, মধ্য আফ্রিকা এবং ক্যারিবিয়ানে আমরা নতুন সংক্রমণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমতে দেখেছি৷'' তিনি বলেছেন, ‘‘বিশ্বজুড়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে আড়াই কোটিরও বেশি মানুষ এইচআইভির চিকিৎসা নিচ্ছেন৷ এটা এমন এক অর্জন, যা কয়েক বছর আগেও এটা অবিশ্বাস্য ছিল৷'' সংক্রমণের হার বাড়ছে জুলাই মাসের শেষ দিকে ইউএনএইডস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে৷ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালে এইচআইভির সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে৷ পূর্বাভাসের তুলনায় ১০ লাখ বেশি মানুষের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে৷ পূর্ব ইউরোপ, মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং লাতিন অ্যামেরিকায় এইচআইভি সংক্রমণ বেশি বাড়ছে৷ ২০২১ সালে এইডসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাড়ে ছয় লাখ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে৷ এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে প্রতি মিনিটে একজনের মৃত্যু ঘটেছে৷ মহামারিই দায়ী? ইউএনএইডস জানিয়েছে, বিশ্বের নজর করোনা ভাইরাসের দিকে সরে আসার পর থেকেই এইডসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে৷ সংস্থাটির উপ নির্বাহী পরিচালক ম্যাথিউ কাভানাহ জানিয়েছেন, ‘‘অনেক দেশে এইডসের ব্যবস্থাপনা কোভিড মোকাবিলায় নিয়োগ করা হয়েছে৷ এর ফলে কোভিড মোকাবিলায় দারুণ সফল হওয়া গেছে কিন্তু দুটোতে একসঙ্গে মনোযোগ দেয়ার মতো সম্পদ ছিল না৷ এর যা ফল হয়েছে সেটি হলো, এইডস মোকাবিলার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে৷'' তবে কেবল মহামারি নয়, লিঙ্গ, অর্থনীতি এবং জাতি সম্পর্কিত বৈষম্যও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে৷ উদাহরণস্বরূপ, আফ্রিকান দেশগুলোতে অল্পবয়স্ক নারী এবং বয়সন্ধিকালে থাকা কিশোরীরা বেশি আক্রান্ত হয়েছে৷ এসব দেশে অল্পবয়স্ক তরুণদের তুলনায় অল্পবয়স্ক নারীরা তিনগুণ বেশি আক্রান্ত হয়েছেন৷ ধনী দেশগুলোতে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় অন্য বর্ণের মানুষের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বেশি৷ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ক্যানাডার ক্ষেত্রে এমনটা দেখা গেছে৷ ইউএনএইডসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে সমকামী পুরুষদের মধ্যে একই বয়সি বিসমকামী পুরুষদের তুলনায় এইচআইভি সংক্রমণ ২৮ গুণ বেশি৷ নতুন ওষুধ আসছে কাভানাহ জানিয়েছেন, এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে লং অ্যাক্টিং ইনজেক্টেবল কাবোটেগ্রাভির (কাব-লা) নামের একটি ওষুধ প্রতি দুই-তিন মাস অন্তর ব্যবহার করা যায়৷ ইইচআইভির জিনকে প্রতিরোধ করার মাধ্যমে এটি কাজ করে৷ এর ফলে এই ভাইরাস মানুষের শরীরের ডিএনএতে কোনো প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারে না৷ ফলে নিজের সংখ্যা বাড়িয়ে শরীরে ছড়িয়েও পড়তে পারে না৷ এইচআইভি ঠেকাতে বিভিন্ন দেশকে তাদের কৌশলে এই ওষুধটিও অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে৷ কিন্তু এই ওষুধের দাম এখন সাধারণ মানুষের পক্ষে অনেক বেশি, সেটিও বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে৷ এইচআইভির টিকা নিয়েও কাজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে৷ ২০২২ সালের মার্চে তিনটি টিকার ট্রায়াল শুরু হয়েছে৷ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকা সফল হলে বিশ্বজুড়ে এইচআইভি এবং এইডস সংক্রমণ প্রতিরোধে আসবে দ্রুতগতি৷ ২০১৯ সালের ছবিঘর এইডস নির্মূলে কী করছে বাংলাদেশ? বাড়ছে সংখ্যা চলতি বছর ৯১৯ জন নতুন এইডস রোগী সনাক্ত হয়েছে৷ এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো প্রায় ১৪ হাজার৷ এইডস নির্মূলে কী করছে বাংলাদেশ? পুরুষরা বেশি আক্রান্ত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ৭৪ ভাগ পুরুষ, ২৫ ভাগ নারী ও ১ ভাগ ট্রান্সজেন্ডার৷ এইডস নির্মূলে কী করছে বাংলাদেশ? কোন জেলায় বেশি? ইউনিসেফ বলছে, দেশের প্রায় সবকটি জেলাতেই দেখা দিয়েছে এ রোগ৷ তবে সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলে এর মাত্রা একটু বেশি৷ এইডস নির্মূলে কী করছে বাংলাদেশ? ঝুঁকিতে অভিবাসীরা অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে এ রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি বলে জানায় ইউনিসেফ৷ এইডস নির্মূলে কী করছে বাংলাদেশ? তালিকায় রোহিঙ্গারাও চলতি বছরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে মোট ১০৫ জন রোহিঙ্গা এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে৷ ফলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৯৫ জন, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি৷ এইডস নির্মূলে কী করছে বাংলাদেশ? ব্যহত হতে পারে নির্মূলের চেষ্টা সরকারের এইডস নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা ব্যহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইউনিসেফ৷ সংস্থাটি বলছে, অপ্রতুল কর্মসূচি, চিকিৎসা ও সেবায় তহবিল কমে আসার কারণে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব না-ও হতে পারে৷ এইডস নির্মূলে কী করছে বাংলাদেশ? চেষ্টা করছে সরকার এইডসের বিষয়ে সঠিক নজরদারির অভাব আছে বলে স্বীকার করছে সরকার৷ এদিকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এর বিস্তার শঙ্কায় ফেলেছে সরকারকে৷ তবে লক্ষ্য অর্জনে সর্বোচ্চ চেষ্টার কথা বলছে কর্তৃপক্ষ৷ ফ্রেড শ্ভালার/এডিকে