মহারাষ্ট্রে বিজেপি শিবিরে আরো সেনা বিধায়ক

title
৬ দিন আগে
বুধবার ভোরে শিবসেনার বিক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহীবিধায়কদের সুরাত থেকে গুয়াহাটিতে নিয়ে আসা হয়েছে। গতরাতে উদ্ধব ঠাকরে ফোনে কথা বলেছিলেন বিক্ষুব্ধদের নেতা ও মন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সঙ্গে। তারপরই সুরাত থেকে রাত আড়াইটে নাগাদ শিন্ডে-সহ বিধায়কদের নিয়ে বিশেষ বিমান যাত্রা শুরু করে। ভোরে তা গুয়াহাটি পৌঁছায়। শিন্ডেদের রাখা হয়েছে একটি বেসরকারি বড় হোটেলে। তারা পৌঁছাবার আগে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা গিয়ে হোটেলে সব ব্যবস্থা দেখে নেন। বিমানবন্দরে শিন্ডেদের নেয়ার জন্য ছিলেন দুই বিজেপি নেতা। একনাথ শিন্ডের দাবি গুয়াহাটি পৌঁছে একনাথ শিন্ডে দাবি করেছেন, তার সঙ্গে মোট ৪৬ জন বিধায়ক আছেন। ৪০ জন শিবসেনা বিধায়ক এবং ছয়জন নির্দল। দল ভাঙাবার কথা অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, তারাই আসল শিবসেনা। বালাসাহেব ঠাকরে যে হিন্দুত্বের রাস্তায় হেঁটেছিলেন, তারা সেই পথেই চলবেন। উদ্ধব ঠাকরে সেই পথে হাঁটছেন না। মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি শিবসেনার বাকি বিধায়কদের দ্রুত মুম্বইয়ের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কংগ্রেস নেতারাও তাদের সব বিধায়কের সঙ্গে কথা বলার পর দাবি করেছেন, সকলেই দলের সঙ্গে আছেন। এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার বলেছেন, তার দলের কোনো বিধায়ক বিজেপি-র সঙ্গে হাত মেলায়নি। এটা শিবসেনার ঘরোয়া বিষয় বলে তিনি জানিয়েছেন। শিবসেনার বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের এখন দেখভাল করছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। কংগ্রেসনেতা কমলনাথ মুম্বই পৌঁছেছেন। তিনি উদ্ধব ঠাকরে ও শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তারপর মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা আছে। মহারাষ্ট্র জুড়ে শিবসেনা পোস্টার লাগিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিজেপি-র এই অহঙ্কার চারদিন স্থায়ী হবে। তবে এবার সংকট যে গভীর তা শিবসেনা নেতারা স্বীকার করে নিচ্ছেন। মঙ্গলবার রাতে ঠাকরে যখন শিন্ডের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন, তখন বিক্ষুব্ধ নেতা জানান, তিনি বিদ্রোহ শেষ করবেন এক শর্তে। তা হলো, উদ্ধব ঠাকরেকে আবার হিন্দুত্বের পথে ফিরতে হবে এবং বিজেপি-র সঙ্গে হাত মেলাতে হবে। প্রশ্ন হলো, উদ্ধব কি সেই শর্ত মেনে নেবেন? শিবসেনার মুখপাত্রসঞ্জয় রাউত বলেছেন, খুব বেশি হলে আর কী হবে, সরকার থাকবে না। সরকার যায় এবং আসে। দলের মর্যাদার প্রশ্নটাই বড়। শিবসেনার আরেক নেতা রাজীব গুপ্তা বলেছেন, শিন্ডে যে কথাগুলো বলছেন তা ঠিক। কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলানো উচিত হয়নি। বিজেপি-ই শিবসেনার স্বাবাবিক জোটশরিক। তার দাবি, তারা হিন্দুত্বের পথ থেকে সরছেন না। সাংবাদিকদের বাধা সুরাত থেকে শিবসেনার বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের যখন গভীর রাতে গুয়াহাটি যাওয়ার জন্য হোটেল থেকে বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়, তখন সাংবাদিকেরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে চান। কিন্তু পুলিশ সেই সুযোগ দেয়নি। পুলিশ সাংবাদিকদের সরিয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধ বিধায়করা দ্রুত গাড়িতে বসে পড়েন। জিএইচ/এসজি (পিটিআই, এএনআই)