মহাসড়কে ডাকাতি, হাইওয়ে পুলিশ করে কী?

title
১০ দিন আগে
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাড়কে মধুপুর "ঈগল পরিবহনে” ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার পর এখন গা শিউরে ওঠা বর্ণনা দিচ্ছেন আহতরা। শিশুদেরও রেহাই দেয়নি ডাকাতেরা। তারা যাত্রী বেশে কয়েক পর্যায়ে বাসে ওঠার পর ডাকাতি শুরুর আগে সবার মোবাইল ফোন কেড়ে নয়। ফলে যাত্রীরা ৯৯৯ নম্বারেও ফোন করতে পারেননি। তারা বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের ইচ্ছেমত গাড়ির গতিপথ পরিবর্তন করে তিন ঘন্টা ধরে ডাকাতি ও ধর্ষণ করে। কিন্তু এই সময়ে কোনো হাইওয়ে পুলিশ বা তাদের টহল গাড়ি ওই এলাকায় দেখা যায়নি। ডাকাত দল ডাকাতি শেষে মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যায়। হাইওয়ে পুলিশ দাবি করেছে তারা অন্য একটি সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। গত ১৩ বছরে ওই এলাকায় বাস চলন্ত বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডাকাতির সময় দুই নারীকে হত্যা ও চারজনকে ধর্ষণের রেকর্ড আছে পুলিশের কাছে। ২০০৯ সালে বাস ডাকাতেরা টাঙ্গাইলের মহাসড়কে ডাকাতি করতে গিয়ে বাসন্তী মাংসাং নামে এক স্কুল শিক্ষিকাকে হত্যা করে। ২০১৬ সালে টঙ্গাইলের ধনবাড়ি এলাকায় "বিনিময় পরিবহনে” বাস ডাকাতেরা এক নারীকে ধর্ষণ করে। ২০১৭ সালে ওই মহাসড়কেই বাসে জাকিয়া সুলতানা রূপা নামে এক যাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ওই মহাসড়কে বাসে আরো তিনজন নারী বিভিন্ন সময় বাস ডাকাতদের হাতে ধর্ষণের শিকার হন। বাস ডাকাতরা বেপরোয়া: গত ১১ জুন ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (ব়্যাব) ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে বাসে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ একটি চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। তারা ১১মে আশুলিয়ায় হানিফ পরিবহন, ২৫ মে রাজশাহীতে ন্যাশনাল ট্রাভেলস এবং ২৯ মে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানিতে ষ্টার লাইন পরিবহনে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। শুধু তাই নয়, গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার স্বীকার করে যে গত দেড় বছরে অন্তত ১৫ টি ডাকাতি করেছে মহাসড়কের বাসে। ডাকাত দল আরো জানিয়েছে তারা চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কে সৌদিয়া বাসে ডাকাতির সময় বাসচালকের হাতে ও হেলপারের পেটে ছুরিকাঘাত করে। এছাড়া তারা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ফাল্গুনি ট্রাভেলস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও কণক পরিবহন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সুরভী পরিবহন, হানিফ পরিবহন, সিলেট-রাজশাহী মহাসড়কে শ্যামলী পরিবহন ও রইস পরিবহন, ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে পাবনা এক্সপ্রেস ও সরকার ট্রাভেলস, রাজশাহী-বরিশাল মহাসড়কে সেবা গ্রীণলাইন পরিবহন ও তুহিন পরিবহনে ডাকাতি করেছে বিভিন্ন সময়ে। এই চক্রটি কমপক্ষে ১৫ বছরে ধরে মহাসড়কে ডাকাতি করে আসছে। এই ডাকাতির সময় তারা একাধিক ধর্ষণের কথাও স্বীকার করেছে৷ নিয়ম থাকলেও ছবি ও ভিডিও নেয়া হয় না: খন্দকার এনায়েতুল্ল্যাহ প্রতিদিন তিনটি কল: হাইওয়ে পুলিশের কাছে মহাসড়কে ডাকাতির কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে মহাসড়কে বাস ডাকাতির বেশ কিছু খবর প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যায় গত সাত মাসে অন্ততঃ ২৫টি বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বাসে। আর গত তিন মাসে পুলিশের ৯৯৯-এ যানবাহনে ডাকাতিসহ নানা অঘটনের ঘটনায় কল এসেছে ২৪৮টি। গড়ে প্রতিদিন এই সংক্রান্ত কল আসে তিনটি। সারাদেশে হাইওয়ে আছে ১১ হাজার ৮০৬ কিলোমিটার। ২০০৫ সাল থেকে মহাসড়কের নিরাপত্তায় কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ। তাদের মোট জনবল আছে দুই হাজার ১৯২ জন। পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ হয়ে ভাগ করে তারা। প্রতিটি অঞ্চলের দায়িত্বে একজন করে পুলিশ সুপার। ডাকাতির ঘটনা নিয়ে জানার জন্য চেষ্টা করেও হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এডিশনাল ডিআইজি মিজানুর রহমানকে পাওয়া গেলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তবে হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান বলেন, "আমাদের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় অনেক জায়গায় টহল দেয়া সম্ভব হয় না।” যাত্রীর সাজে ডাকাত: এদিকে বাসে ডাকাতির ঘটনা বিশ্লেষণে দেয়া যায় ডাকাত দল সড়কের মাঝখান থেকে যাত্রী সেজে বাসে ওঠে। মধুপুরে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় দেখা গেছে ডকাত দল তিন জায়গা থেকে যাত্রী হিসেবে ওঠে। কিন্তু দূরপাল্লার বাসে মাঝপথে যাত্রী ওঠানো নিষেধ। চালক ও সুপারভাইজাররা বাড়তি আয়ের জন্য এই কাজটি করেন। যার পরিণতি হয় ভয়বাহ। আবার দুই-একটি ঘটনায় বাসের চালক সুপারভাইজারদের সংশ্লিষ্টতাও খুঁজে পাওয়া গেছে তদন্তে। অস্বাভাবিক কিছু না দেখলে আমরা গাড়ি থামাই না: নজমুস সাকিব খান দূরপাল্লার বাসে যাত্রীদের সবার ছবি ও ভিডিও যাত্রার শুরুতে তুলে রাখার নিয়ম থাকলেও তা এখন মানা হচ্ছে না। পুলিশেরও এই দায়িত্ব আছে। তারা যেকোনো স্পটে বাস থামিয়ে অন্তত একবার ছবি তুলবে ও ভিডিও করবে। কিন্তু মধুপুরের ঈগল পরিবহণের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। আর শুরুতে ছবি তোলা হলেও মাঝপথে যাত্রী ওঠালে তাদের ছবি থাকে না। ডাকাতেরা এই সুযোগ কাজে লাগায়। হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তারা সড়কে টহলের সময় তাদের নজর থাকে পণ্যবাহী ট্রাকের দিকে। চাঁদা আদায়ের জন্যই তারা ট্রাকের দিকে নজর রাখে। বাসের দিকে তাদের কোনে নজর থাকে না। ফলে ডাকাতির সময় হাইওয়ে পুলিশকে পাওয়া যায় না। মধুপুরে তিন ঘন্টা ধরে বাসে ডাকাতি হলেও কোনো হাইওয়ে পুলিশকে ওই এলাকায় টহলে দেখা যায়নি। এমনকী পরবর্তীতেও তাদের কোনো তৎপরতা ছিল না। যা করার স্থানীয় থানা পুলিশ করেছে। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্ল্যাহ চালক ও সুপারভাইজারদের লোভের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, "নিষিদ্ধ থাকার পরও তারা মাঝপথে যাত্রী তোলেন। আর অধিকাংশ ঘটনায়ই মাঝপথ থেকেই যাত্রীবেশে ডাকাত ওঠে। নিয়ম থাকলেও ছবি ও ভিডিও নেয় হয় না। পুলিশও এটা এখন আর করে না।” তিনি বলেন, "মহাসড়কে ২০-২৫টি জায়গা আছে যেখানে নিয়মিত ডাকাতি হয়। ওইসব এলাকায় নিয়মিতভাবে হাইওয়ে পুলিশ টহল দিলেই ডাকাতি বন্ধ হবে। আমরা অনেক দিন ধরেই এটা বলে আসছি। হাইওয়ে পুলিশ ট্রাকের দিকেই বেশি নজর দেয় লাভের আশায়।” হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তা নজমুস সাকিব খান দাবি করেন, "বাসের ভিতরের লাইট বন্ধ থাকলে আমরা কিছু বুঝতে পারি না। আর অস্বাভাবিক কিছু না দেখলে আমরা গাড়ি থামাই না। বাইরে থেকে তো আর বোঝা যায় না।” তিনি হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবজির দিকে মনোযোগের অভিযোগের কথা স্বীকার করে বলেন,"আমরাও অভিযোগ পাই। কিন্তু প্রমাণ না পেলে তো ব্যবস্থা নিতে পারি না।” তিনি দাবি করেন, "মধুপুরে ঈগল পরিবহনের ডাকাতির কাছেই এলেঙ্গা এলাকায় টহল ছিল। তবে তারা একটি সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।” ২০২১ সালের ছবিঘর গণপরিবহন নিয়ে যাত্রীদের যত হতাশা, ভয় আর আশঙ্কা ‘জানটা হাতে নিয়ে বাসা থেকে বের হই’ ঢাকার গুলশান ১ এর একটি এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী সবুর মোল্লা জানান, “গণপরিবহনে প্রতিনিয়তই পরিবহণ শ্রমিকদের দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়। এতটাই বেপরোয়া তারা যে, কারো জীবনেরই মূল্য নেই তাদের কাছে। বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিরাপদে ফিরতে পারবো কিনা এর নিশ্চয়তা নেই।“ গণপরিবহন নিয়ে যাত্রীদের যত হতাশা, ভয় আর আশঙ্কা ‘দায়িত্বপ্রাপ্তরা চড়েন বিলাসবহুল গাড়িতে’ ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত নাজমি শাহাদাত বলেন, “গণপরিবহনকে নিরাপদ করার দায়িত্ব যাদের, তারা নিজেরা কি কখনো গণপরিবহনে চলাচল করেন? তাদের বিলাসবহুল গাড়ির আগেপিছে থাকে পুলিশি প্রহরা, সুতরাং তাদের কাছ থেকে এ সেক্টরের নিরাপত্তা অথবা সমাধান চাওয়াটা অকল্পনীয়।“ গণপরিবহন নিয়ে যাত্রীদের যত হতাশা, ভয় আর আশঙ্কা ‘আমরা সবাই আসলে জিম্মি’ একটি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “ঢাকা শহরে রাত দশটার পরে গণপরিবহনে মেয়েদের পক্ষে চড়াটা একরকম অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে সিএনজি বা রিকশা করে যাতায়াত করি, যদিও এতে আমার খরচ কয়েকগুণ বেশি হয়। কিন্তু নিরাপত্তার দিকটা ভেবে এইটুকু ছাড় আমাকে দিতেই হয়। আমরা সবাই জিম্মি আসলে।“ গণপরিবহন নিয়ে যাত্রীদের যত হতাশা, ভয় আর আশঙ্কা ‘পরিবহন শ্রমিকেরা যেন আইন-কানুনের ঊর্ধ্বে’ ঢাকার গুলশান ১-এর মুদি দোকানি রিয়াজ হোসেন বলেন, দূর্ঘটনা বা ধর্ষণের মতো ঘটনায় বাংলাদেশে কোনো ড্রাইভার বা হেল্পারের ফাঁসি হয়েছে এমন নজির জানা নেই। উপরন্তু, পরিবহনমালিকদের প্রায় সবাই রাজনীতিবিদ হওয়ার ফলে দেশের প্রচলিত আইনে তাদের বিচার হয় না। তার প্রশ্ন, তাহলে কি গুটিকয়েক পরিবহনশ্রমিক সাধারণ মানুষের চেয়ে শক্তিশালী? গণপরিবহন নিয়ে যাত্রীদের যত হতাশা, ভয় আর আশঙ্কা ‘কার জীবন গেল তাতে তাদের কিছু যায় আসে না’ ব্যক্তিগত গাড়িচালক মোঃ ইউনুস হাওলাদার বলেন, “আমি নিজে একজন গাড়িচালক, কিন্তু গণপরিবহনে, বিশেষ করে দূরপাল্লার যানে উঠলে আমার নিজেরই ওদের গাড়ি চালানো দেখে ভয় লাগে। একেকজন যেন প্রতিযোগিতায় নামে, কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি না। কার জীবন গেল তাতে তাদের কিছু যায় আসে না।“ গণপরিবহন নিয়ে যাত্রীদের যত হতাশা, ভয় আর আশঙ্কা ‘পরিবহন শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ এবং কাউন্সেলিং প্রয়োজন’ একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নুসরাত তারিন তন্বী বলেন, “যেখানে মানুষ আছে, সেখানে অপরাধ হবেই। পরিবহন শ্রমিকদের প্রয়োজন প্রশিক্ষণ এবং কাউন্সেলিং। পাশাপাশি তাদের সংগঠনের ভিতর ভালো কাজের পুরস্কার এবং অপরাধের জন্য শাস্তির কঠোর বিধান থাকা প্রয়োজন। সরকার বা জনগণ, কোনো পক্ষকেই তাদের বিপক্ষে দাঁড় করানো যাবে না। তারা যে সমাজের গুরুত্বপুর্ণ এবং দায়িত্বশীল একটা অংশ, এটা তাদের অনুধাবন করানো জরুরি।“ গণপরিবহন নিয়ে যাত্রীদের যত হতাশা, ভয় আর আশঙ্কা ‘আইন আছে, প্রয়োগ নেই’ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী জুনায়েদ আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশে অনেক কিছুরই আইন আছে, কিন্তু যথাযথ প্রয়োগ নেই ১ শতাংশও। আইন শুধু দুর্বলদের জন্য। পরিবহন মালিক যারা আছে, তারা অনেক শক্তিশালী। সরকারকে আন্দোলন এবং গণদুর্ভোগের ভয় দেখিয়ে তারা সবরকম আইনকে বুড়ো আঙুল দেখায়। আইনের প্রয়োগ সবার জন্য সমান করতে না পারলে গণপরিবহনের দুর্ভোগ বা নিরাপত্তা কখনোই নিশ্চিত করা সম্ভব না।” গণপরিবহন নিয়ে যাত্রীদের যত হতাশা, ভয় আর আশঙ্কা ‘প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে’ একটি সরকারি কলেজে স্নাতকের শিক্ষার্থী তিথী সাংমা বলেন, “কিছুদিন পরপর ধর্ষণ বা কোনো দুর্ঘটনার খবর আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক। একটু উন্নত দেশের দিকে তাকালে দেখবেন, তারা সড়ক এবং গণপরিবহনের নিরাপত্তায় কতরকম প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। সিসিটিভি, গতিনির্ধারক নির্দেশনা, পুলিশের সার্বক্ষণিক মনিটরিং ইত্যাদি আধুনিক ব্যবস্থা আমাদের দেশেও কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি।“ গণপরিবহন নিয়ে যাত্রীদের যত হতাশা, ভয় আর আশঙ্কা ‘দেশটাই তো অনিরাপদ’ একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আহাদ ইসলাম বলেন, “ঘরে কিংবা বাইরে, আমরা কোথাও নিরাপদ না। চারদিকে অব্যবস্থাপনার ছড়াছড়ি। আর গণপরিবহনের কথা যদি বলেন তো আমি বলবো, এটা নিয়ে কারো কোন মাথাব্যথা নেই। সরকারের চরম অবহেলিত একটি খাত হচ্ছে এটা, যেখানে মাঝে মধ্যে কিছু ভালো পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অসাধু মহলের চাপে সেগুলো আলোর মুখ দেখে না।” গণপরিবহন নিয়ে যাত্রীদের যত হতাশা, ভয় আর আশঙ্কা ‘নিজেকে নিরাপদ রাখতে মার্শাল আর্ট শিখি’ এ লেভেল শিক্ষার্থী আইদা মোস্তফা জানান, গণপরিবহনে তাকে নিয়মিতই চলাফেরা করতে হয়। অনেক সময় বাস থেকে নামতে বা উঠতে বাসের স্টাফরা অশোভন আচরণ করেন, অধিকাংশ সময়েই যেসবের প্রতিবাদ করার সুযোগ থাকে না। এ ধরণের ঘটনা থেকে বাঁচতে তিনি নিজের জমানো টাকা দিয়ে মার্শাল আর্ট শেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং চলমান সময়ে প্রত্যেক মেয়েরই আত্মরক্ষার এই কৌশল শেখা উচিত বলে মনে করেন তিনি। লেখক: মর্তূজা রাশেদ (ঢাকা)