স্কুলে সুপেয় পানি পায় না, টয়লেটও পায় না ৩০ লাখ শিশু!

title
২ মাস আগে
সরকারি স্কুল এবং মাদ্রাসার একাংশের কর্তৃপক্ষের দাবি অবশ্য ভিন্ন৷ জরিপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রতি পাঁচটি স্কুলের মধ্যে একটি স্কুলে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ঘাটতি রয়েছে৷ যা মোট স্কুলের ১৯ শতাংশ৷ এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ৮৫ লাখ শিশু৷ আর সাত শতাংশ স্কুলে পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতা সুবিধা একবারেই নেই৷ এর মানে হলো, দেশের ৩০ লাখ স্কুলগামী শিশুর জন্য তাদের স্কুলে নেই নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, ওয়াশরুম ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা৷ জরিপে আরো বলা হয়েছে, ৪০ শতাংশেরও বেশি স্কুলে মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধার ঘাটতি রয়েছে৷ এর ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে এক কোটি ৯ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী৷ ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট নেই ৪৩ শতাংশ স্কুলে৷ সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার মতো মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার ঘাটতিও রয়েছে ৪৪ শতাংশ স্কুলে৷ ইউএন এজেন্সিগুলো বলছে, এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া কঠিন করে তোলে৷ শিশুদের শিক্ষা সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য কোভিড মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারের পথে অবশ্যই স্কুলগুলোকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের সংক্রামক রোগগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করার উপযোগী হয়ে উঠতে হবে৷ এর জন্য সবার আগে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করতে হবে৷ মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল সম্পর্কে জরিপে যা রয়েছে মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন বলেন, ‘‘সরকারের পরিকল্পনা আছে শতভাগ স্কুলে সুপেয় পানি, সেনিটেশন ব্যবস্থা ও ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা ওয়াশ রুম নিশ্চিত করা৷ নতুন যে স্কুল ভবন হবে, তার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশ হলো- ছেলে এবং মেয়েদের জন্য আলাদা ওয়াশ রুম রাখতেই হবে৷ আর পুরনো যে স্কুল ভবন আছে, সেখানেও আলাদা ওয়াশ রুম ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ তবে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা এখনো এটা করতে পারিনি৷ কিছু পুরনো ভবন আছে, সেখানে এখনো করা সম্ভব হয়নি৷” এটা তো বাংলাদেশ সরকারের প্রতিবেদন না: দীলিপ কুমার বণিক তার কথা, ‘‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আমাদের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইনও আছে৷ আর তা বাস্তবায়নের জন্য আমরা স্কুলগুলোর সঙ্গে এনজিওদেরও যুক্ত করেছি৷ কোভিডের সময় আমরা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, হাত ধোয়াসহ আরো যেসব বিষয় বাধ্যতামূলক করেছি তা অব্যাহত আছে৷’’ অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কিউ এম শফিউল আজম দাবি করেন, ‘‘এখন শিক্ষার্থীদের পুষ্টির দিকেও নজর দেয়া হয়েছে৷ ছাত্রীদের ফলিক অ্যাসিড দেয়া হচ্ছে৷ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ আমরা এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার জন্য আলোচনা শুরু করেছি৷ আর বিশেষ করে কোভিড-১৯-এর কারণে আমরা স্বাস্থ্য সচতেনতামূলক কর্মসূচিগুলো জোরদার করেছি৷’’ দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও কলেজে ইউনিসেফের সহায়তায় সুনির্দিষ্ট কিছু স্কুল ও মাদ্রাসায় জেনারেশন ব্রেক থ্রু প্রকল্প চলছে৷ এই প্রকল্পের অধীনে তারা বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য শিক্ষা পাচ্ছে৷ মেয়েদের জন্য স্কুলগুলোতে আলাদা স্বাস্থ্য কর্নার চালুর একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বলে জানান এই কর্মকর্তা৷ সেখানে স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ আরো প্রয়োজনীয় জিনিস থাকবে৷ সরকারি প্রাথমিকে শতভাগ স্বাস্থ্য সুরক্ষা! তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সুপেয় পানি, আলাদা ওয়াশ রুম এবং স্যানিটেশনের কোনো সমস্যা নেই বলে দাবি করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক দিলীপ কুমার বণিক৷ তিনি বলেন, ‘‘ইউনিসেফের প্রতিবেদন তো ইউনিসেফের৷ এটা তো বাংলাদেশ সরকারের প্রতিবেদন না৷ আমাদের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে৷ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাথে আমাদের এমওইউ করা আছে৷ তাদের জন্য আমাদের সারা বছরই বরাদ্দ আছে৷ দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা ওয়াশ রুম করা৷ এটা সব স্কুলেই আছে৷ তাই এই প্রতিদেনটা আমাদের জন্য প্রযোজ্য না৷ অন্যদের জন্য হতে পারে৷ সারা দেশে কিছু বেসরকারি স্কুল আছে, কিন্ডার গার্টেন আছে, কওমি মাদ্রাসা আছে৷ তাদের ক্ষেত্রে এরকম হতে পারে৷’’ আলীয়া এবং এমপিওভুক্ত মাদ্রাসাগুলোতে পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভালো: কে এম রুহুল আমিন মাদ্রাসার অবস্থা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কে এম রুহুল আমিন জানান, দেশের এক হাজার ৮০০ মাদ্রাসায় নতুন ভবন হচ্ছে৷ এইসব ভবনে আলাদা ওয়াশ রুম, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা থাকতেই হবে৷ সেইভাবেই পরিকল্পনা করা হয়েছে৷’’ তার কথা, ‘‘ইউনিসেফ যে হিসাব দিয়েছে সেটা সঠিক বলে মনে হয় না৷ আলীয়া মাদ্রাসা এবং এমপিওভুক্ত মাদ্রাসাগুলোতে সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভালো৷ তবে এর বাইরেও কিছু মাদ্রাসা আছে, যা আমাদের অধীনে নয়৷ সেগুলোর অবস্থা খারাপ হতে পারে৷’’ তিনি বলেন, ‘‘মাদ্রাসাগুলোতে জেনারেশন ব্রেক থ্রূসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় আরো কিছু স্বাস্থ্য সচেতনতার কার্যক্রম চালু আছে৷’’ আরো তিনটি বৈশ্বিক শিক্ষা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বৈশ্বিক জ্ঞান সূচক ইউএনডিপি ও মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম নলেজ ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত ২০২১ সালের বৈশ্বিক জ্ঞান সূচকে ১৫৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম৷ সাতটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে৷ প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, প্রযুক্তিগত ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং সাধারণ সক্ষমতার পরিবেশ৷ সূচক সম্পর্কে আরও জানতে উপরে (+) চিহ্নে ক্লিক করুন৷ তিনটি বৈশ্বিক শিক্ষা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান বৈশ্বিক জ্ঞান সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে পাকিস্তান (১২৩), নেপাল (১২৮) ও আফগানিস্তান (১৫১)৷ দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে আছে শ্রীলঙ্কা (৮৬)৷ ভারত ও ভুটান আছে যথাক্রমে ৯৭ ও ১০৮তম স্থানে৷ আরো তিনটি বৈশ্বিক শিক্ষা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান প্রতিভা সূচক ফ্রান্সভিত্তিক বিজনেস স্কুল ‘ইনসিয়েড’ ও ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘পোর্টুল্যান্স ইনস্টিটিউটের’ গত অক্টোবরে প্রকাশিত ২০২১ সালের ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট কম্পিটিটিভনেস ইনডেক্সে’ ১৩৪ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩ নম্বরে৷ মেধা অর্জনের সক্ষমতা, আগ্রহ, বিকাশ, ধরে রাখা, বৃত্তিমূলক, কারিগরি দক্ষতা ও বৈশ্বিক জ্ঞান- এই সাতটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সূচকটি তৈরি করা হয়েছে৷ সূচক সম্পর্কে আরও জানতে উপরে (+) চিহ্নে ক্লিক করুন৷ তিনটি বৈশ্বিক শিক্ষা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান প্রতিভা সূচক দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সবার নীচে৷ এই অঞ্চলে শীর্ষে আছে ভারত (৮৮)৷ এরপর আছে শ্রীলঙ্কা (৯৩), পাকিস্তান (১০৭) ও নেপাল (১১৩)৷ আরো তিনটি বৈশ্বিক শিক্ষা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচক জাতিসংঘের সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের’ প্রকাশিত ২০২১ সালের বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে ১৩২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৬ নম্বরে৷ সূচক সম্পর্কে আরও জানতে উপরে (+) চিহ্নে ক্লিক করুন৷ তিনটি বৈশ্বিক শিক্ষা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান উদ্ভাবন সূচকেও দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নীচে আছে বাংলাদেশ৷ সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ভারত (৪৬)৷ এরপর আছে শ্রীলঙ্কা (৯৫), পাকিস্তান (৯৯) ও নেপাল (১১১)৷ আরো তিনটি বৈশ্বিক শিক্ষা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বাংলাদেশে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ সবচেয়ে কম ইউনেস্কো ইনস্টিটিউট ফর স্ট্যাটিস্টিকসের হিসেব বলছে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে শিক্ষাখাতে সবচেয়ে কম বাজেট বরাদ্দ করা হয়৷ ১৯৭১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে৷ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে জিডিপির মাত্র ১.৮৩ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে৷ একটি দেশের জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা উচিত বলে মনে করে ইউনেস্কো৷ প্রতিবেদনটি পড়তে উপরে (+) চিহ্নে ক্লিক করুন৷ লেখক: জাহিদুল হক