মাত্র আড়াই মাসের গ্যাস আছে জার্মানির হাতে

title
১৯ ঘন্টা আগে
এখনই সমস্যা হবে না, কিন্তু জার্মান প্রশাসনের চিন্তার কারণ হলো, মাত্র আড়াই মাস চলার মতো গ্যাসের সঞ্চয় আছে তাদের হাতে। রাশিয়া থেকে গ্যাস না নিলে বা না পেলে বিপাকে পড়বে জার্মানি। এই অবস্থায় গ্যাসের দাম তিনগুণ বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবারই গ্যাস কিনতে যে বাড়তি দাম লাগছে, তা ক্রেতাদের উপর চাপিয়ে দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ফেডারেল নেটওয়ার্ক এজেন্সির প্রধান মুলার বলেছেন, যদি জার্মানির কাছে গ্যাসের পুরো সঞ্চয় থাকতো, তাহলে রাশিয়ার গ্যাসের উপর এখন নির্ভর করতে হতো না। কিন্তু হাতে মাত্র আড়াই মাস চলার মতো গ্যাস আছে। তারপরই ট্যাংকগুলি সব খালি হয়ে যাবে। তার মতে, জার্মানিকে গ্যাস বাঁচাতে হবে এবং অন্য জায়গা থেকে গ্যাস আনার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্য একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, গ্যাসের দাম তিনগুণ বাড়তে পারে। রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা যেভাবে কমাবে ইউরোপ রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা এখন পর্যন্ত রাশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৪০ ভাগ গ্যাস ও ২৭ ভাগ তেলের চাহিদা মেটাচ্ছে৷ ইউরোপজুড়ে এই জ্বালানি ঘর গরম রাখতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে এবং শিল্পে ব্যবহৃত হয়৷ এতটা নির্ভরশীলতা হুট করে কমানো সম্ভব নয়৷ তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ ইউরোপকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে৷ অবশ্য এই নির্ভরশীলতা কাটাতে অন্তত আরো পাঁচ বছর প্রয়োজন৷ রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা যেভাবে কমাবে ইউরোপ নবায়নযোগ্যে ভরসা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল৷ কিন্তু ইউরোপীয় কমিশন সেই পরিকল্পনাকে আরো ত্বরান্বিত করতে চাইছে এখন৷ আগের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্যের পরিকল্পনাকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করতে চাইছে তারা৷ ২০২০ সালের হিসেবে, তাদের ২২ শতাংশ জ্বালানি আসে বায়ু, সৌর ও জৈবশক্তি থেকে৷ রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা যেভাবে কমাবে ইউরোপ আইনে পরিবর্তন লক্ষ্যে পৌঁছাতে ইউরোপীয় কমিশন আইনে পরিবর্তন আনার ঘোষণাও দিয়েছে৷ কড়া বিধিনিষেধের কারণে অনেক প্রকল্প পাস হতে সময় লাগে৷ সেগুলো কিছুটা শিথিলের উদ্যোগ নেয়া হবে৷ এছাড়া বড় বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনগুলোর ওপর সৌর প্যানেল বসানো বাধ্যতামূলক করার নিয়মও করা হবে৷ রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা যেভাবে কমাবে ইউরোপ জ্বালানি সাশ্রয় কমিশন ২০৩০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি সাশ্রয়ও ১৩ ভাগ কমাতে চায়৷ আগের প্রস্তাবে তা ছিল ৯ শতাংশ৷ এর জন্য অনেক ভবনকে সংস্কার করা হবে, যেন সেগুলোতে কম জ্বালানি খরচ হয়৷ তাদের হিসেব বলছে, মানুষ চাইলে নিজ উদ্যোগে তাদের জ্বালানি খরচ কমাতে পারে৷ এতে করে অন্তত পাঁচ শতাংশ গ্যাসের চাহিদা কমানো সম্ভব৷ রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা যেভাবে কমাবে ইউরোপ গ্যাসের নতুন অবকাঠামো ইউরোপ রাশিয়া থেকে বছরে ১৫৫ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস আমদানি করে থাকে৷ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার ও জ্বালানি সাশ্রয় করে এর বিকল্প তৈরি সম্ভব৷ কিন্তু স্বল্পমেয়াদে ইউরোপ এখন সেই গ্যাসের বিকল্প উৎস খুঁজছে৷ সেক্ষেত্রে হাইড্রোজেন গ্যাস এর বিকল্প হতে পারে৷ কিন্তু এর অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে৷ কারণ যে-কোনো সময় রাশিয়া গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিলে বিপদ তৈরি হবে, যেমনটি তারা পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়ার ক্ষেত্রে করেছে৷ রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা যেভাবে কমাবে ইউরোপ অর্থায়ন সবমিলিয়ে জ্বালানি খাতে ২০২৭ সালের মধ্যে ২১০ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করতে চায় ইইউ৷ ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ৩০০ বিলিয়ন হবে৷ এর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য ৮৬ বিলিয়ন, হাইড্রোজেন অবকাঠামোর জন্য ২৭ বিলিয়ন ইউরো, ২৯ বিলিয়ন ইউরো বিদ্যুৎ গ্রিড উন্নয়নে ও ৫৬ বিলিয়ন ইউরো জ্বালানি সাশ্রয় অবকাঠামো ও হিট পাম্প তৈরিতে খরচ হবে৷ বৃহস্পতিবার থেকে জরুরি গ্যাস পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্বে প্রবেশ করেছে জার্মানি। সেখানে সরবরাহকারীদের ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। মুলার বলেছেন, যদি জার্মানিকে এই পরিকল্পনার তৃতীয় পর্যায় রূপায়ণ করতে হয়, তাহলে ভয়ংকর পরিণতি হবে। তখন গ্যাস রেশন করা হবে, প্রয়োজনভিত্তিক অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাশিয়া সরবরাহ কমিয়েছে জার্মানি এবং অন্য ইইউ দেশগুলি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু বার্লিন এখনো রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি বন্ধ করেনি। নিষেধাজ্ঞাও জারি করেনি। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা গ্যাজপ্রোম জানিয়েছে, নর্ড স্ট্রিমের মাধ্যমে তারা জার্মানিকে যে গ্যাস দেয়, তার সরবরাহ আরো কমিয়ে দেওয়া হবে। তারা ফ্রান্স, ইটালিকেও কম গ্যাস দিচ্ছে। জার্মানি সম্প্রতি কাতার থেকে গ্যাস আনার জন্য চুক্তি করেছে। জিএইচ/এসজি (রয়টার্স, ডিপিএ)