মাদক সরবরাহ বন্ধ না করেই ডোপ টেস্ট?

title
২ মাস আগে
গাড়ি চালকদের পর এবার সরকারি চাকরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের চিন্তা করছে সরকার৷ কিন্তু মাদকের সরবরাহ বন্ধ না করে এই ধরনের ডোপ টেস্ট কতটা ফল দেবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক নির্মূলেঅনেকগুলো প্রক্রিয়ার একটি ডোপ টেস্ট৷ শুধু ডোপ টেস্ট দিয়ে কোন ফল মিলবে না৷ সরকারের সবগুলো সংস্থাকে একসঙ্গে মাদক নির্মূলে কাজ করতে হবে৷ রোববার ছিল আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস৷ সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও পালিত হয়েছে দিবসটি৷ প্রতি বছরই ২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়৷ এবারের প্রতিপাদ্য, ‘মাদক সেবন রোধ করি, সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ি৷' দিবসটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে দেশেও৷ কারণ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মাদক সেবন, ব্যবসা ও পাচারের দিক থেকে বাংলাদেশ অন্যতম৷ মাদকের ভয়াল গ্রাস দেশে ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা৷ সব ধরনের মাদকের বিষয়ে আমাদের সতর্কতা রয়েছে: আজিজুল ইসলাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণঅধিদফতরের মহাপরিচালক আজিজুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সব ধরনের মাদকের বিষয়ে আমাদের সতর্কতা রয়েছে৷ পাশাপাশি নতুন নতুন মাদক নিয়েও আমরা গবেষণা করছি৷ যখন যে মাদকটি সামনে আসছে সেটার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷'' মাদক বিরোধী দিবসের এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করে শিগগিরই আইন হচ্ছে৷ একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রেও ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করে আইন সংশোধন করা হচ্ছে৷ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী দাবি করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে৷ শুধু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ নয়, যুব সমাজকে মাদকদ্রব্যের ছোবল থেকে রক্ষার কাজও করছে বাহিনীগুলো৷ প্রতিবেশী দেশ থেকেমাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও কাজ করছে সরকার৷ ভয়ঙ্কর ইয়াবা ও আইস মিয়ানমার থেকে আসছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘সে দেশকে (মিয়ানমার) অনুরোধ করেছি, তারা কথা রাখেন না৷ ইয়াবা সাপ্লাই বন্ধ করতে বলেও কাজ হয়নি৷ তবে ভারত সরকার ইতোমধ্যে সীমান্তঘেঁষা ফেনসিডিল কারখানাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে৷'' টাকা নয়, অস্ত্র দিয়ে কোকেন কেনা রোহিঙ্গাদের অনেকেই মাদক ব্যবসায় জড়িত বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, তারা মিয়ানমার থেকে এ দেশে মাদক নিয়ে আসে৷ মিয়ানমার সীমান্তে ইতোমধ্যে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে৷ মাদকের সঙ্গে যারাই জড়িত, প্রশাসন বা রাজনীতিক সবাইকে আইনের মুখোমুখি করা হচ্ছে৷ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে৷ কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না৷ বর্তমানে গাড়ি চালকদের ক্ষেত্রে লাইসেন্স পেতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷ এ নিয়েও চালকদের ভোগান্তির শেষ নেই৷ আইন করে বাধ্যতামূলক করলেও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও আরেকটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোথাও টেস্ট হচ্ছে না৷ ফলে এই দু'টি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার জন্য চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে৷ এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা৷ শুধু ডোপ টেস্ট দিয়ে হবে না:ডা. বিধান রঞ্জন রায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে সবগুলো হাসপাতালে গাড়ি চালকদের ডোপ টেস্টের নির্দেশনা দেওয়া হলেও এখনও চালু হয়নি৷ আর মাদক নির্মূলে অনেকগুলো প্রক্রিয়ার একটি ডোপ টেস্ট৷ শুধু ডোপ টেস্ট দিয়ে হবে না৷ সবকিছু মিলিয়ে চেষ্টা করলে সুফল পাওয়া যেতে পারে৷'' জানা গেছে, গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ মাদক সংশ্লিষ্ট ২০ হাজারেরও বেশি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে৷ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে সব সংস্থা মিলে ইয়াবা জব্দ করেছে ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৮১ হাজার৷ ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৮ হাজার বোতল৷ কোকেন জব্দ করা হয় প্রায় ৪ কেজি, হেরোইন ২১০ কেজি৷ ২০২১ সালে মাদক-সংক্রান্ত ৪৭ শতাংশ মামলায় আসামির সাজা হয়েছে৷ এই হার ২০২০ সালে ছিল ৪৩ শতাংশ৷ এদিকে, ফেনসিডিল ও ইয়াবার পর নেশা হিসেবে এখন ক্রিস্টাল মেথ বা আইস ‘জনপ্রিয়' হয়ে উঠছে৷ প্রায়ই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জব্দ হচ্ছে আইস৷ দেশে যেসব রুট দিয়ে ইয়াবা ঢুকছে, তার প্রায় সব ক'টি দিয়ে আইসও আসছে৷ দেশের যে কোনো প্রান্তে হাত বাড়ালেই এখনও মিলছে ইয়াবা ও ফেনসিডিল৷ একইভাবে আইসও ছড়িয়ে পড়ছে৷ এদেশে তুলনামূলক নতুন এই মাদক ঠেকানোকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা৷ পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকেও আইস আসছে: মশিউর রহমান ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এতদিন আইস আসত বিমানে৷ ফলে দেশে আইসের প্রভাব কম ছিল৷ কিন্তু সম্প্রতি একটা চালান ধরার পর জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকেও আইস আসছে৷ ফলে এখন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এটা ছড়িয়ে পড়ার৷ আমরা সব ধরনের মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি৷'' গত বছর মাদক বহনের দায়ে ১৩ হাজার ৯০৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার ২০৬ জনকে গ্রেপ্তার করে সাজা দেওয়া হয়৷ ২০২০ সালে ২৩ হাজার ১৯৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হয় ১০ হাজার ৪৯৮ জনকে৷ এ ছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণে ঢাকা ও টেকনাফের জন্য গঠন করা হয়েছে বিশেষ টাস্কফোর্স৷ এর আওতায় সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে৷ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনেও আইসের ক্ষতিকর দিক উঠে এসেছে৷ এতে বলা হয়, এটি শক্তিশালী আসক্তি সৃষ্টিকারী মাদক৷ এতে আসক্ত ব্যক্তির ক্ষুধামান্দ্য ও প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়৷ অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরি করে উচ্চ রক্তচাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়৷ এ কারণে অনেকে সহিংস আচরণও করেন৷ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মাদক নিয়ন্ত্রণে আন্তঃবাহিনী ও সংস্থার সমন্বয় নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ৷ মাদকের চাহিদা, সরবরাহ ও ক্ষতি হ্রাস এবং নানামুখী কাজে ১১টি মন্ত্রণালয় জড়িত৷ ২০১৮ সালের ৪ মে থেকে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করেছিল র‌্যাব৷ এরপর পৃথকভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালায় পুলিশ, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর৷ একের পর এক ‘বন্দুকযুদ্ধের' ঘটনা ঘটে৷ অনেকে ‘বন্দুকযুদ্ধ'-কে মাদক নির্মূলে শেষ ভরসা মনে করলেও এটা খুব ফলপ্রসূ হয়নি৷ গাঁজা: সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যার দিকগুলি কী কী? গাঁজায় নিষেধ গাঁজা শুনলে মনে হয় নিষিদ্ধ মাদক৷ তবে নেশা করার গাঁজা নির্দিষ্ট প্রজাতির গাছ থেকে পাওয়া যায়৷ জার্মানিতে শণজাতীয় এই প্রজাতির চাষ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত৷ ২০০ বছর আগেও জনসাধারণের চোখে পড়ত না এই গাছ৷ তাই গাঁজা নিয়ে নানারকম জনশ্রুতি তৈরি হয়৷ গাঁজা: সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যার দিকগুলি কী কী? ফরাসি সেনারা নিয়ে এসেছিল হাশিশ ইউরোপের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, হাশিশ অথবা গাঁজার নেশার মতো বিষয়টি এ মহাদেশে তুলনামূলকভাবে নতুন৷ ফরাসি সেনারা ১৭৯৮ সালে নেপোলিয়নের মিশর অভিযানের সময় গাঁজা গাছের (স্ত্রী উদ্ভিদ) রজন (পাতা থেকে প্রাপ্ত আঠালো কষের মতো অংশ) থেকে তৈরি একটি অংশ নিয়ে আসেন৷ তারাই মূলত এগুলির ব্যবহার ছড়িয়ে দেন৷ নেপোলিয়ন মিশরে এটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও প্যারিসে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে৷ গাঁজা: সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যার দিকগুলি কী কী? ঋতুকালীন ব্যথা কমাতে গাঁজা! ১৯৯০ সাল থেকে যুক্তরাজ্য গাঁজার আইনি বৈধতার দিকটি নিয়ে ভাবছে৷ একসময় গুজব রটেছিল রানি ভিক্টোরিয়াকে নাকি ঋতুকালীন ব্যথা কমাতে গাঁজা ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল৷ এ কথার একটি প্রমাণও রয়েছে৷ ১৮৯০ সালে রানির ব্যক্তিগত চিকিত্সক জন রাসেল রেনল্ডস মেডিকেল জার্নালে একাধিক সমস্যা সমাধানে গাঁজার উল্লেখযোগ্য ব্যবহারের কথা লিখেছিলেন৷ গাঁজা: সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যার দিকগুলি কী কী? পার্চমেন্ট নাকি শণ? জনশ্রুতি রয়েছে যে আমেরিকান স্বাধীনতাপত্র যে কাগজে লেখা হয়েছিল সেটি এই গাছের তন্তু থেকে তৈরি৷ তবে এটি সম্পূর্ণ সত্যি নয়৷ নথিটি ভ্যাকুয়ামের মাধ্যমে সিল করা হয়েছিল ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল আর্কাইভসের কাচের মোটা প্যানের পিছনে৷ এটি পার্চমেন্ট কাগজে লেখা হয়েছিল৷ স্বাধীনতাপত্রের প্রথম দুটি খসড়া সম্ভবত শণ প্রজাতির গাছের আঁশের তৈরি কাগজে লেখা হয়েছিল৷ গাঁজা: সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যার দিকগুলি কী কী? রিফার ম্যাডনেস ১৯৩৬ সালে অ্যামেরিকা প্রচারমূলক একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে৷ চলচ্চিত্রে অর্থ বিনিযোগ করেছিল গির্জার একটি গোষ্ঠী৷ এতে দেখানো হয়েছিল নতুন প্রজন্ম সহজেই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে৷ গাঁজা সেবন করলেই তারা হিংস্র হয়ে যাচ্ছে৷ খানিকটা অতিরঞ্জিত করে হাস্যরস মিশিয়ে নির্মিত হয়েছিল সেই চলচ্চিত্র৷ ভুল তথ্যও ছিল তাতে৷ ফলে সে সময়ে গাঁজা নিয়ে যে আতঙ্ক ছিল, এই চলচ্চিত্র তার প্রমাণ৷ গাঁজা: সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যার দিকগুলি কী কী? বর্ণবৈষম্যমূলক মনোভাব ইউএস ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান ছিলেন হ্যারি অ্যান্সলিঙ্গার৷ তিনি বর্ণবৈষম্যে বিশ্বাস করতেন৷ ১৯৩০ সাল থেকে গাঁজা নিষিদ্ধ করতে লড়াই করছিলেন৷ অভিযোগ উঠেছিল মেক্সিকান এবং আফ্রিকান অ্যামেরিকানরা গাঁজা সেবন করতেন৷ অ্যান্সলিঙ্গার বলেছিলেন, গাঁজা সেবনের ফলে কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিরা মনে করেন, তারা শ্বেতাঙ্গদের মতো ভাল৷ ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে,অ্যামেরিকার ড্রাগ নীতির কারিগর তিনি৷ গাঁজা: সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যার দিকগুলি কী কী? ধর্মের ছায়া অন্যান্য সংস্কৃতি সম্ভবত গাঁজার নেশা সংক্রান্ত প্রভাব সম্পর্কে অনেক খোলামেলা৷ হিন্দু দেবতা শিব সম্পর্কে পবিত্র গ্রন্থে বলা হয়েছে যে তিনি নাকি গাঁজা সেবন করতেন৷ জীবনের বাকি সব আনন্দ তিনি ত্যাগ করেছিলেন৷ যদিও একাধিকবার ব্যবহারে গাঁজার প্রতি আসক্তি জন্মাতে পারে, এমন দাবিও রয়েছে৷ গাঁজা: সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যার দিকগুলি কী কী? গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা গাঁজা অর্থাৎ ক্যানাবিসে থাকা রাসায়নিক যৌগ নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা৷ আদৌ কোনো ভেষজ গুণ রয়েছে কি, গবেষণা করে দেখছেন তারা৷ এই ক্যানাবিস প্রজাতির শণ থেকে শুকনো দড়ি বানানো হত৷ শণের আঁশ দিয়ে পোশাকের ব্যবহারের কথাও উল্লেখ রয়েছে একাধিক বইয়ে৷