হিরো আলম ও আমাদের 'গলাচিপা ঐতিহ্য'

title
১০ দিন আগে
জাত, পাত, ক্লাস, এসব বিভেদের শিক্ষা পাঠ্যপুস্তকেই ছিল। তাই সেই বিদ্যার জোর নিয়ে আমরা হিরো আলমের গলা চিপে ধরবো না এমনটা হতেই পারে না। আমরা বলতে কবি এখানে আমাদের এই মধ্যবিত্ত সুশীল সমাজকেই বুঝিয়েছেন। যদিও স্বেচ্ছায় হিরো আলমকে শোনা হয়নি। ইউটিউবে শোনার মতো বা দেখার মতো কয়েক লাখ কনটেন্ট আছে। সেখানে হিরো আলমকে শুনে, তাকে বিকৃতির অভিযোগে আইনি নোটিশ দেওয়া বা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে দিয়ে মুচলেকা দেওয়ানোর মতো সুশীল এখনো হয়ে উঠতে পারিনি বলেই আমাদের ‘গলাচিপা ঐতিহ্য' নিয়ে দুই কলম লেখার সাহস করছি। সুশীলবিত্তের বুদ্ধির বলিহারি বাবা। আইটেম হিসেবে বেছেন নিয়েছেন ‘রবীন্দ্রনাথ'। উপমহাদেশে ধর্মের পরে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু বলা চলে। ধর্মীয় মৌলবাদের পাশাপাশি রবীন্দ্রমৌলবাদ একইসঙ্গে মাথাচাড়া দিচ্ছে বা দিয়ে ফেলেছে বলা চলে। হিরো আলম আর কখনো বিকৃত সুরে রবীন্দ্র বা নজরুল সঙ্গীত গাইবেন না- এই মুচলেকার খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে মন চলে গেল অতীতে। সেই ১৯৯৯ সালে। তখন এত স্যাটেলাইট টিভি ছিল না, না ছিল এফএম রেডিওর চর্চা। সেই সময় বিখ্যাত ভোকালিস্ট ব্যান্ড গায়ক মাকসুদুল হকের নাকানি-চুবানি খাওয়ার ঘটনাটাই মনে পড়লো। ‘না চাহিলে যারে পাওয়া যায়' ব্যান্ডের তালে একটু নেচে নেচে গাইলেন। এর পর আর যায় কই। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর যেমন তৌহিদি জনতা স্লোগান দিতেন ‘বাংলা হবে আফগান, আমরা হবো তালেবান'। সেই একই সুরে রবীন্দ্র বিকৃতির অভিযোগ উঠলো তার বিরুদ্ধে। বিটিভি থেকে তাকে কারণ দর্শাও নোটিশ, সংগীতাঙ্গন থেকে নিষিদ্ধ করার মতো ঘটনাও ঘটে। তখন রবীন্দ্রপন্থীদের তাকদ এত বেশি ছিল যে- তার পাশে সহশিল্পী বলে কেউই ছিলেন না। সংগীত চর্চায় সমাজের খড়গ টপ্পা দমন আন্দোলন ভারতীয় মার্গ সংগীতের প্রধান চারটি ধারার একটি টপ্পা৷ বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে, আঠারো শতকে বাংলায় টপ্পার সূত্রপাত করেন রামনিধি গুপ্ত ওরফে নিধুগুপ্ত৷ শ্রোতাপ্রিয় হলেও রামনিধি গুপ্তের জীবিত অবস্থাতেই ‘ভদ্রসমাজে’ এই গান নিষিদ্ধ হয়েছিল৷ ‘নিধুবাবুর টপ্পা ভদ্রসমাজে গাইতে মানা’ - এমন স্লোগান নিয়ে রক্ষণশীলরা তার বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়৷ অশ্লীলতার অভিযোগ এনে এই গান বর্জনের ডাক দেয় তারা৷ সংগীত চর্চায় সমাজের খড়গ ‘বাইজিবাড়ির গান’ ঠুমরি কাজরি, ঠুমরি বা ঠুম্রিতে উত্তর ভারতের লোকসংগীতের প্রভাব বিরাজমান৷ একসময় এই ঠুমরি নিয়েও সমাজের অনেকের আপত্তি ছিল৷ বাইজিবাড়ির গান বলে প্রচলিত থাকায় ভদ্রসমাজে এই গান কার্যত নিষিদ্ধ ছিল এবং যারা গাইতেন তারা বাইজিপাড়ার মানুষ হিসেবেই চিহ্নিত হতেন৷ যদিও পরবর্তীতে কাজরি ও ঠুমরি ভারতীয় ধ্রুপদী সংগীতের অন্যতম শাখায় পরিণত হয়৷ সংগীত চর্চায় সমাজের খড়গ রবীন্দ্র সংগীত গাইতে মানা স্বনামধন্য রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী দেবব্রত বিশ্বাসকেও রবীন্দ্র সংগীত গাওয়া নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছিল৷ ১৯৬৪ সালে তার দুইটি গান নিয়ে আপত্তি তোলে বিশ্বভারতী মিউজ়িক বোর্ড৷ স্বরলিপি না মানা আর অতিরিক্ত যন্ত্রানুষঙ্গ ব্যবহারের অভিযোগে ১৯৬৯ সালে আরো দুইটি গানকে রীতিমত বাতিল করে তারা৷ রবীন্দ্র সংগীত গেয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বাংলাদেশে ব্যান্ডশিল্পী মাকসুদও৷ সংগীত চর্চায় সমাজের খড়গ ব্যান্ড সংগীত ‘অপসংস্কৃতি’ আশির দশকে বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীত বিস্তার লাভ করে৷ বর্তমানে জনপ্রিয় হলেও শুরুর দিকে এই ধরনের গান নিয়ে সমাজের এক অংশের ব্যাপক আপত্তি ছিল৷ ব্যান্ড সংগীতকে দেখা হতো ‘পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসন’ বা ‘অপসংস্কৃতি’ বা এমনকি ‘বাজে ছেলেদের’ গান হিসেবেও অভিহিত ছিল৷ তবে তরুণদের মধ্য এই গান ঠিকই জনপ্রিয়তা পায়৷ সংগীত চর্চায় সমাজের খড়গ ‘ভদ্র সমাজে’ নিষিদ্ধ জ্যাজ নিউ অরলিয়েন্সের অ্যাফ্রো-অ্যামেরিকানদের হাত উনিশ-বিশ শতকে জ্যাজ সংগীতের সূচনা ঘটে৷ বর্তমানে এটি গানের জনপ্রিয় একটি ধারা হলেও শুরুর দিকে তা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ছিল না৷ বয়স্ক প্রজন্ম জ্যাজকে পুরনো সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করতেন৷ অনেকে এটিকে সংগীত বলেই মানতেন না৷ জ্যাজ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন খবরও ছড়ানো হয়েছিল৷ পাবলিক স্কুলগুলোতে এই সংগীত নিষিদ্ধ ছিল৷ সংগীত চর্চায় সমাজের খড়গ ‘ভদ্র সমাজে’ নিষিদ্ধ জ্যাজ নিউ অরলিয়েন্সের অ্যাফ্রো-অ্যামেরিকানদের হাত উনিশ-বিশ শতকে জ্যাজ সংগীতের সূচনা ঘটে৷ বর্তমানে এটি গানের জনপ্রিয় একটি ধারা হলেও শুরুর দিকে তা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ছিল না৷ বয়স্ক প্রজন্ম জ্যাজকে পুরনো সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করতেন৷ অনেকে এটিকে সংগীত বলেই মানতেন না৷ জ্যাজ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন খবরও ছড়ানো হয়েছিল৷ পাবলিক স্কুলগুলোতে এই সংগীত নিষিদ্ধ ছিল৷ ভাগ্যিস এরপর স্যাটেলাইট এলো, আকাশ সংস্কৃতির জেরেই জানলাম যে রবীন্দ্র সত্ত্বাকে আমরা কড়া পাহাড়ায় আগলে রেখেছি তা ওই বঙ্গে ফিউশন হয়ে গেছে। ব্যান্ড বাজিয়ে, ইংলিশ বাংলা ফিউশন করে রবীন্দ্র সংগীত গাইছে পশ্চিমবঙ্গের তরুণ প্রজন্ম। বোদ্ধারা যে বিরোধিতা করেননি তা নয়। ঋতুপর্ণ ঘোষ ২০১০ সালে রবীন্দ্র গোড়া প্রজন্ম আর তরুণদের সংঘাত নিয়ে ‘গানের ওপারে' নামে একটি ডেইলি সোপ নির্মান করে ফেলেন। কীভাবে সোনার তরী নামক এক রবীন্দ্রনাথের ধারক-বাহক এক বাড়ির ভেতর থেকে তরুণ প্রজন্ম বের হয়ে আসে, কীভাবে প্যারোডি তৈরি হয় সেই প্যারোডি বিরোধীপক্ষের টিভি শোতে প্রচার হয়-এইসব নিয়ে এই ডেইলি সোপ আড়াই বছর চলে। সে সময় পশ্চিমবঙ্গেও বেশ হইচই হয় রবীন্দ্র বিকৃতি চলছে বলে। কিন্তু ইউটিউবে ভিউ আর কোটি টাকার আয় ও দুই বাংলায় এই নাটকের তুমুল জনপ্রিয়তা এইসব অভিযোগ উড়িয়ে দেয়। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে দুই বাংলায় কম হইচই হয়নি। কিন্তু এখন বিষয়টা হচ্ছে হিরো আলম। তার বিরুদ্ধে বিকৃতির অভিযোগ সাইবার ক্রাইমে। কে কবে কীভাবে অভিযোগ করেছেন সেসব উহ্যই আছে। কিন্তু অভিযোগের পাল্লা বিশাল। সংস্কৃতির বিকৃতি হচ্ছে। - প্রশ্ন হচ্ছে কে বিকৃতি করছেন না। ইউটিউবের মতো সোশাল মিডিয়ায় হরদম বিকৃতি হচ্ছে। টিকটকের বিকৃতি কি রুখে দেওয়া গেলো? টিকটক স্টাররা পাড়া-মহল্লায় গ্যাংস্টার হয়ে খুন-খারাবি পর্যন্ত করে ফেলছে। সেসব নিয়ে কী আমরা কখনো আইনী নোটিশ দিয়েছি? তাহলে হিরো আলম কার বাড়া ভাতে ছাই ফেললেন যে তাকে রীতিমতো পুলিশি হয়রানি করতে হবে? হিরো আলমের সঙ্গে যা ঘটেছে তাকে আমি হয়রানিই বলবো। কারণ পুলিশ তাকে দিয়ে লিখিত নিয়েছে। অথচ তিনি যখন টাইটানিক ছবি খ্যাত সেলিন ডিওনের সেই ‘মাই হার্ট উইল গো অন' গাইলেন কেউ টুঁ শব্দটি করলেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ একবারও বললেন না এরকম একটি বিখ্যাত গানের বিকৃতি মানা যায় না। বরং সোশ্যাল মিডিয়ার শেয়ার সংখ্যা আপনাকে চমকে দেবে। সব কি আর পেইড বা বুস্টেড শেয়ার। আমার বন্ধু তালিকার কয়েক শত মানুষ শেয়ার দিয়েছেন নিছক মজা হিসেবেই। এরপর গাইলেন শ্রীলঙ্কার কোটি ভিউ হওয়া গান ‘মানিকে মাগে হিতে'। এখানেও আমরা চুপচাপ রইলাম। কারণ এরকম বহু চটুল গানের সঙ্গে আমরাই ঠোঁট মিলিয়ে টিকটক করে শেয়ার করি নিত্য। হিরো আলম আর কীইবা করবে। কিন্তু হিরো আলম ধরা খেলেন রবীন্দ্র সংগীতে। এখনো নজরুল সংগীত গাননি তবে আগাম সেই বিষয়ে লিখিত নেওয়া হয়েছে। এটিকে নিতান্তই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই বিশ্বাস করছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভাষায় মোস্ট ভিউড, মোস্ট পপুলার ব্যক্তিটিকে এক হাত দেখে নেওয়ার উদ্দেশ্য আমাদের থাকতেই পারে। একটি দল দাবি করছেন হিরো আলম ভিউ পাওয়ার জন্য নিজেই এই মুচলেকা প্লট সাজিয়েছেন। কেউ কেউ তার ম্যানেজারের বুদ্ধির প্রশংসা করছেন। যদি তাই হয় তবে বাপু তাকে লাল সেলাম। অগাধ বাক-স্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতার যুগে সব কিছুই যখন ‘হিজ/হার চয়েজ' ব্যাখ্যায় ছাড় পেয়ে যায় তখন ক্লাস বা শ্রেণি নির্ধারণ করে দেওয়াটাকেও বিকৃতিই বলবো। কে কী গাইবেন আর গাইবেন না কোন সুরে গাইবেন এই ঠিক করার দায়িত্ব কার? আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর? তাহলে বিকৃত উচ্চারণে যারা নিত্য বাংলা বলে চলেছেন। টিভি চ্যানেল খুললেই র/ড় উচ্চারণ আর বাংলা, ইংরেজি, উর্দু, হিন্দির খিচুড়ি মিশেলের জোয়ারে ভাষা হারিয়ে যায় তাদের বিরুদ্ধে আইনী নোটিশ দেই না কেন আমরা? তাদের জন্য বাহিনী দায়িত্ব তুলে নেন না কেন? হিরো আলম এক টিভি ইন্টারভিউতে বলেছিলেন, 'আমি গান গাইতে চাইনি। অভিনয় পারি না জানি।কিন্তু এরপরও আমি আমার মনের আনন্দের জন্য অভিনয় করতাম। আমি কয়েকটা সিনেমা বানিয়েছি। সেই সিনেমায় গানের জন্য যখন আমি বিভিন্ন গীতিকার, সুরকার, শিল্পীদের কাছে গান চাইলাম, তারা দিলেন না। তারা বললেন, আমাকে গান দিলে তাদের মান সম্মান থাকবে না। তখন আমি বাধ্য হয়ে নিজে গাওয়া শুরু করলাম। আমি গাইতে পারি না তাও জানি। তাই বলে কি আমি আমার আনন্দের জন্য গাইতে পারব না?' ফাতেমা আবেদীন, সাংবাদিক মনের আনন্দকে গলা টিপে ধরার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে। তিনি কিন্তু টিভিতে এয়ার টাইম কিনে কাউকে বাধ্য করেননি তার শো দেখতে। দেওয়ালে দেওয়ালে পোস্টার বা গলির মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে তার গানই বাজে না। নিজের আনন্দের জন্য নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম গান গাইছেন, নাচছেন, অভিনয় করছেন, কখনো মন চাইলে নির্বাচনেও দাঁড়াচ্ছেন। এসবই করছেন নিজস্ব গণ্ডির ভেতরে থেকেই। চাপিয়ে দেননি কিছুই। হাসিমুখেই মেনে নেন সব। যেহেতু গুগলে বাংলাদেশের হিরো বলে সার্চ করলেই হিরো আলম আসে, মোস্ট ভিউড বাংলাদেশি ভিডিওর তালিকায় হিরো আলমের গান আছে তাই বোধহয় প্রাণে এত জ্বালা। শ্রেণি নির্ধারণ বা বিকৃতি রুখে দেওয়ার অবাধ চর্চাটা তার ওপরই করতে পারি। কারণ তিনি তো ‘অশিক্ষিত' শ্রেণির প্রতিনিধি বলেই বিবেচিত আমাদের কাছে। শ্রেণি বিভেদের এই যুগে হিরো আলম তো আমাদের কাছে অস্পৃশ্য বা নিম্নবর্ণ। তার ওপর এসব করা চলে। সমসাময়িক একটা গল্প বলি- এক শিক্ষক একবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকে দেখলেন- তার এলাকার গম চোর চেয়ারম্যানের ফেসবুক আইডি সততা ও ধর্মীয় বাণীতে পরিপূর্ণ। স্কুলের সবচেয়ে বেশিবার ফেল করা ছাত্রটি ভালো ফল কীভাবে করতে হবে সেই বিষয় ভিডিও টিউটোরিয়াল প্রকাশ করেছে। তুমুল হিট। শতবর্ষের মেধাবী হিসেবে স্বীকৃতিও দিচ্ছে কেউ কেউ। এলাকার চোরটি (চুরির কারণে একাধিকবার কারাবরণ করা) ফেসবুকে চুরি করা মহাপাপ দর্শনের প্রচারক। নিতান্ত দরিদ্র, সৎ ও মেধাবী স্কুল শিক্ষকটি ‘আমিই বড় অপরাধী' স্ট্যাটাস দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পরিত্যাগ করলেন। হিরো আলমের মুচলেকার ঘটনায় এই গল্পটাই বারবার মনে হচ্ছে। হিরো আলমের গান গাওয়া নিয়ে নাকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ প্রতিবাদ করেছিলেন এক গায়িকা। তেমন চেনা কেউ না। হিরো আলমের প্রসঙ্গেই সংবাদে তার নাম পড়া হয়। গান বা নাম এর আগে শোনা হয়নি কখনো। সেই গায়িকা তার বক্তব্যে বলেন, সুস্থ সংস্কৃতির জন্য এটা বিরাট সুখবর। হিরো আলমের মতো যারা অপসংস্কৃতি চর্চা করছেন তাদেরকেও নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।– অপসংস্কৃতির ব্যাখ্যাটা কেউ বলবেন আরেকবার? এটা কী নিছকই ঈর্ষা নয়? হিরো আলম প্রান্তিক অশিক্ষিত একজন। অশিক্ষা বলতে আমি পুঁথিগত বিদ্যা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদকেই বোঝাচ্ছি। তেমন ক্ষমতাবান কেউ না। তার টুঁটি চেপে ধরলে হাজার ফ্যান দাঁড়িয়ে যাবে না। তাই কি বারবার গলাচিপে ধরবো আমরা? পাঠকদের জন্য একটু বলি। এই লেখাটা লেখার জন্যই আমি প্রথমবারের মতো হিরো আলমের ইউটিউব চ্যানেলে গেলাম। টুকটাক বিভিন্ন জনের শেয়ার থেকে গান শোনা হয়েছে, সিনেমার ক্লিপ দেখা হয়েছে। আগ্রহ নিয়ে দেখা হয়নি কখনো। কারণ তিনি আমার ‘কাপ অব টি' নয়। কিন্তু তাই বলে তার সঙ্গে হওয়া অন্যায়, আবারও বলছি হিরো আলমের সঙ্গে যা হয়েছে সেটা অন্যায় এবং এটা নিয়ে কথা বলবো না এমন নয়। নয়তো কাল যখন আপনাদের সুশীল হৃদয় আমার গলাচিপে ধরার ছুঁতো খুঁজবেন তখন পাশে হয়তো কাউকেই পাবো না। ফরাসী দার্শনিক ভলতেয়ারের একটি উক্তি বলি- আমি তোমার কথার সাথে বিন্দুমাত্র একমত না হতে পারি, কিন্তু তোমার কথা বলার অধিকার রক্ষার জন্য আমি জীবন দেব।' আমাদেরও বাক স্বাধীনতা বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের স্বাধীনতার জন্য চর্চাটা জারি রাখা উচিত। নইলে গলাচিপা ঐতিহ্য প্রকট হয়ে ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবারই কণ্ঠ রোধ করে দেবে একদিন...