গর্ভপাত আইন সংস্কার করতে চলেছে জার্মানি

title
২ মাস আগে
অন্তঃসত্ত্বার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে বা ধর্ষণের ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আসেন না তারা৷ নইলে বাধ্যতামূলক কাউন্সেলিংয়ের পর গর্ভধারণের প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যে (শেষ ঋতুস্রাব থেকে ১৪ সপ্তাহ) গর্ভপাত করা যেতে পারে৷ তবে অনেক বাধা রয়েছে৷ জার্মান সংসদ বুন্ডেসটাগ আইন সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে অর্থাৎ ডাক্তারদের এখন অতিরিক্ত তথ্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷ সে ক্ষেত্রে কোনো মামলার ভয় ছাড়াই গর্ভপাত সম্পর্কে তথ্য দিতে পারবেন তারা৷ আগের আইন অনুযায়ী, জার্মানিতে ডাক্তারদের বলার অনুমতি ছিল যে তারা গর্ভপাতের প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু আরো বিস্তারিত তথ্য জানানোর অনুমতি ছিল না৷ জার্মানিতে গর্ভপাত বেআইনি৷ তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এর অনুমোদন রয়েছে এবং সেক্ষেত্রে গর্ভধারণের ১২ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত করতে হবে এমনটাই বলে আইনে৷ আইনমন্ত্রী মার্কো বুশমান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে গর্ভপাত করাতে চান এমন নারীদের সচেতন করাটা চিকিৎসকদের জন্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করা হতো৷ এমনকি জরিমানাও দিতে হতো তাদের৷ নারীদের প্রতি অবিশ্বাস এবং ডাক্তারদের প্রতি অবিশ্বাসের সময় এবার শেষ৷'' গর্ভপাতের অধিকার হারানোর আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ ২২ বছরের ভেরেনা বলেন, ‘‘আমি সত্যিই অনলাইনে তথ্য খুঁজে হয়রান হয়ে গিয়েছি৷ কোন চিকিৎসক গর্ভপাত করেন, তারা কোথায় বা কীভাবে এ কাজ করেন, তা জানতে সহজ কোনো উপায় ছিল না৷'' বর্তমান সরকার জোট গড়ার সময়ই আইনটি সংস্কার করার পরিকল্পনা করেছে৷ এই নিয়ে ২০২১ সালের নভেম্বরে জোটের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে৷ জার্মানির মধ্য-বাম সামাজিক গণতন্ত্রী দল এসপিডি, সবুজ দল এবং মুক্ত গণতন্ত্রী দল এফডিপির জোট সরকার শুক্রবার সংসদে গর্ভপাত আইনে ২১৯এ ধারা খারিজ করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে৷ ক্রিস্টিনা হানেল জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের গিসেন শহরের একজন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ৷ তিনি ৩০ বছর ধরে গর্ভপাত করেছেন৷ ওয়েবসাইটে গর্ভপাত পরিষেবা উল্লেখ করায় তাকে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ছয় লাখ টাকা জরিমানার শাস্তি দেওয়া হয়েছিল৷ এই মামলার ফলে জার্মানিতে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়৷ পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘যদি এখন ২১৯এ খারিজ করা হয়, জার্মানি রোগীদের জন্য তথ্য সরবরাহে ঠিক পদক্ষেপ করবে৷'' ক্রিস্টিনা হানেল গিসেন শহরের একজন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ৷ পাঁচ বছর আগে ভেরেনা দেখেছিলেন তথ্য সহজে না মেলার অর্থ স্থানীয় ক্লিনিকে কল করার আগে কয়েক ঘণ্টা অর্থহীনভাবে অনুসন্ধান করা৷ তাকে নিজের এলাকার তিনজন ডাক্তারের মধ্যে একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল৷ কিন্তু তারপরে তিনি দেখতে পেলেন যে তথ্য পাওয়ার কোন উপায় নেই যেমন: অস্ত্রোপচার করে গর্ভপাত এবং ঔষধের মাধ্যমে গর্ভপাতের পার্থক্য কী? পরবর্তী প্রক্রিয়াটি কেমন এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো কী কী? ইয়ানা মায়েফের্ট নামে একজন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘‘জার্মানিতে ১০ জন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞের মধ্যে একজন গর্ভপাত সংক্রান্ত অস্ত্রোপচার করেন৷তারা এর বিরুদ্ধে এমনটা নয়৷ কারণটা হল বাধা অনেক বেশি৷'' মায়েফের্ট প্রজননের অধিকার সংক্রান্ত সংগঠন ‘ডক্টরস ফর চয়েস'-এর সঙ্গে যুক্ত৷ তার কথায়, ডাক্তার খুঁজে পেতে ১৫০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হবে, বিশেষ করে গ্রামীণ এবং বাভারিয়ার ক্যাথলিক অঞ্চলে৷ তবে, কয়েকটি বড় শহরেও পরিস্থিতি সমীচীন৷ স্থানীয় মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে স্টুটগার্টে একটি হাসপাতালেও গর্ভপাতের পরিস্থিতি নেই৷ মুনস্টার শহরে শেষ যিনি গর্ভপাতের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি ২০১৯ সালে অবসর নিয়েছেন৷ গর্ভপাতের হার কম ১৯৯৬ সালের পর থেকে জার্মানিতে গর্ভপাতের সর্বনিম্ন হার দেখা গিয়েছে ২০২১ সালে৷ ফেডারেল পরিসংখ্যান অফিসের মতে, ২০২১ সালে প্রায় ৯৪ হাজার গর্ভপাত হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৫.৪ শতাংশ কমেছে এবং এক দশক ধরে গর্ভপাতের হারের নিম্নমুখী প্রবণতারই অংশ৷ মায়েফের্ট বলেন, অনেক সময় এইসব চিকিৎসকদের হেনস্থা করা হয়৷ তিনি নিজে বার্লিনে কখনো এর মুখোমুখি হননি৷ তার কথায়, ‘‘বাভারিয়ার কিছু অংশে প্রতিবাদকারীরা সব সময় ক্লিনিকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন৷ এটা রোগী এবং ডাক্তারদের জন্য সত্যি ভয়ঙ্কর৷'' ইয়ানা মায়েফের্ট, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা মেডিকেলের পড়ুয়ারা অর্থাৎ জুনিয়র চিকিৎসকরা এ প্রসঙ্গে প্রশিক্ষণ পাওয়ার জন্য সৃজনশীল উপায় খুঁজে পেয়েছে৷ একটি পেঁপেকে মহিলা প্রজনন সিস্টেমের মডেল হিসাবে ব্যবহার করে কর্মশালার আয়োজন করেছে৷ যদিও এই ধরনের কর্মশালায় উপস্থিত থেকে একজন চিকিৎসক গর্ভপাত করাতে আত্মবিশ্বাসী হবেন এমন নয়৷ এটি জার্মান চিকিৎসা শিক্ষার একটি খামতিও৷ পড়ুয়ারা বলেন, ‘‘গর্ভপাত নিয়ে আলোচনা করা হয়, তা ওই ১০ মিনিটের মতো৷'' বার্লিনের পাবলিক ব্রডকাস্টার আরবিবি-এর মতে, ওয়ার্কশপগুলি সম্পূর্ণ বুকিং হয়ে যায়৷ একজন অংশগ্রহণকারী আরবিবিকে বলেন ‘‘কর্মশালায় অংশ নিয়ে ভালো ধারণা পেয়েছি৷ এই প্রক্রিয়া কীভাবে হয়, কোন সরঞ্জামগুলি ব্যবহার করা হয় সেগুলো জানা গিয়েছে৷আমি এটিকে খুব কঠিন ভাবতাম৷ এখন এতে এত ভয় পাই না৷'' জার্মানির কয়েকজন ডাক্তার এখন টেলিমেডিসিন প্রকল্পে গর্ভপাতের জন্য ট্যাবলেট দিচ্ছেন যেখানে অন্তঃসত্ত্বা গর্ভপাত করতে চান কিন্তু অস্ত্রোপচার চান না৷ তবে এই ট্যাবলেটকে মর্নিং-আফটার পিলের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে হবে না৷ এটি ২০১৫ সাল থেকে জার্মানিতে অবাধে পাওয়া যায়৷ আরকেসি/এআই (রয়টার্স) গর্ভপাত সংক্রান্ত আইনে বদল বাইডেন প্রশাসনের ওবামা প্রশাসনের আইনে ফিরে গেলেন বাইডেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা দপ্তর সোমবার জানিয়েছে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি অতীতের ওবামা প্রশাসনের নীতি অনুযায়ীই চলবে৷ অর্থাৎ গর্ভপাতে আগ্রহী নারীদেরকে এই কাজের জন্য উপযুক্ত সেবাদাতার কাছে পাঠাতে পারবেন চিকিৎসকেরা৷ গর্ভপাত সংক্রান্ত আইনে বদল বাইডেন প্রশাসনের ট্রাম্পের নীতিমালায় পরিবর্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর গর্ভপাত সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তন এনেছিলেন৷ পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিকগুলো তখন গর্ভপাতে আগ্রহীদের এই কাজের জন্য কোনো সেবাদাতার কাছে পাঠাতে পারতো না৷ গর্ভপাত সংক্রান্ত আইনে বদল বাইডেন প্রশাসনের ১,৩০০ কেন্দ্র পুনরায় চালু হতে পারে বাইডেন প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তের কারণে যেসব স্থানীয় গর্ভপাত কেন্দ্র ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রতিবাদে সরকারের সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেগুলো আবার ফিরে আসবে বলে আশা করছে মার্কিন ক্লিনিকগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো৷ গর্ভপাত সংক্রান্ত আইনে বদল বাইডেন প্রশাসনের সমালোচনার মুখে বাইডেন প্রশাসনও তবে গর্ভপাত সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন আনলেও এই সংক্রান্ত একটি বিষয়ের সমালোচনা করেছে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সবচেয়ে বড় প্রকল্প ‘প্লানডপেরেন্টহুড’৷ টুইটারে তারা জানিয়েছে যে নতুন আইনে একটি বিধান আছে যেটি ব্যবহার করে গর্ভপাতবিরোধী চিকিৎসকেরা এখনো গর্ভপাতের সুপারিশ করা থেকে বিরত থাকতে পারবেন৷ সরকার অবশ্য জানিয়েছে, প্রচলিত কেন্দ্রীয় আইনের আলোকেই এমন সুযোগ রাখা হয়েছে৷ গর্ভপাত সংক্রান্ত আইনে বদল বাইডেন প্রশাসনের আড়াইশ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্প ‘টাইটেল এক্স’ নামে মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় জন্মনিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা খাতে আড়াইশ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হয়৷ মূলত নিম্ন আয়ের মানুষেরা এই সেবা গ্রহণ করে থাকেন৷ তবে, ট্রাম্প গর্ভপাত সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন আনায় অনেক সেবাদাতা প্রতিবাদ হিসেবে প্লানডপেরেন্টহুড প্রকল্প থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন৷ গর্ভপাত সংক্রান্ত আইনে বদল বাইডেন প্রশাসনের দেশজুড়ে প্রতিবাদ গর্ভপাত আইনটির প্রতিবাদে গত শনিবারও মার্কিন রাজপথে নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ৷ ট্রাম্প প্রশাসন এই আইন চালু করার পর থেকেই এমন প্রতিবাদ চলছিল৷