ব্রিকসের সহযোগিতা চাইলেন পুটিন

title
৪ দিন আগে
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং সাউথ আফ্রিকাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্রিকস। বৃহস্পতিবার চীনে এই দেশগুলির সম্মেলন বার্ষিক শুরু হয়েছে। সেখানে ভিডিওর মাধ্যমে বক্তৃতা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন। পশ্চিমা দেশগুলিকে এক হাত নিয়ে পুটিন ব্রিকস দেশগুলির কাছে রাশিয়ার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পুটিনবলেছেন, রাশিয়ার উপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে গোটা বিশ্বে সংকট তৈরি করেছে পশ্চিমা দেশগুলি। ব্রিকসের দেশগুলি এক বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে। ব্রিকস সম্মেলনে আফগানিস্তান আফগানিস্তান নিয়ে কথা ব্রিকস মানে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত একটি মঞ্চ। বৃহস্পতিবার ব্রিকসের ১৩ তম শীর্ষ সম্মেলনে আফগানিস্তান নিয়ে কথা হলো। তালেবানের নাম নেয়া হয়নি। তাদের দোষও দেয়া হয়নি। কিন্তু আফগানিস্তানের পরিস্থিতি, মানবাধিকার, সন্ত্রাসবাদ নিতে চিন্তা প্রকাশ করেছে ব্রিকস। ব্রিকস সম্মেলনে আফগানিস্তান দিল্লির ঘোষণাপত্র প্রধানমন্ত্রী মোদীর সভাপতিত্বে এই বৈঠক হয়। বৈঠক ছিল ডিজিটাল। সেখানে গৃহীত নতুন দিল্লি ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে মানবাধিকার, বিশেষ করে নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের অধিকার বজায় রাখতে হবে। মানবিক সংকটের মোকাবিলা করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলা হয়েছে। ব্রিকস সম্মেলনে আফগানিস্তান সন্ত্রাসবাদ নয় ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের জমি থেকে যেন কোনো সন্ত্রাসবাদী কাজ করা না হয়। আফগানিস্তান যেন সন্ত্রাসবাদের অভয়ারণ্য না হয়ে ওঠে। ব্রিকস সম্মেলনে আফগানিস্তান পুটিনের কড়া মন্তব্য আফগানিস্তান নিয়ে সব চেয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুটিন। তিনি বলেছেন, আফগানিস্তানে অস্থিরতা থাকলে প্রতিবেশী দেশগুলিতে তার প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, আফগানিস্তান যেন মাদক পাচার ও সন্ত্রাসের কেন্দ্র না হয়। সে দেশের মানুষকে অধিকার দিতে হবে, তারাই ঠিক করবেন তাদের দেশ কীরকম হবে। ব্রিকস সম্মেলনে আফগানিস্তান অভিযোগের আঙুল পুটিনের অভিযোগ হলো, অ্যামেরিকা ও তার বন্ধু দেশগুলি আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার পর নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে আবিশ্ব নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। কৌশলগত স্থিরতা নষ্ট হয়েছে। আঞ্চলিক বিরোধও মেটেনি। একটা গোলমেলে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উপরের ছবিতে শেষ মার্কিন সেনা কাবুল ছাড়ার জন্য বিমানের দিকে যাচ্ছেন। ব্রিকস সম্মেলনে আফগানিস্তান শি জিনপিংয়ের বক্তব্য চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, পরিবর্তনকে স্বাগত জানাতে হবে। পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। নিজেদের অগ্রাধিকার ঠিক করে নিতে হবে। সহযোগিতার ভিত্তিতে চলতে হবে। সেই সহযোগিতা যেন ফলপ্রসূ হয়। বাস্তব চাহিদার কথা মাথায় রেখে দরকার হলে সহযোগিতার ক্ষেত্রে পরিবর্তন করতে হবে। ব্রিকস সম্মেলনে আফগানিস্তান মোদী যা বললেন নরেন্দ্র মোদাী বলেছেন, ব্রিকসের সভাপতিত্ব করতে পেরে তিনি খুবই খুশি। করোনা সংকটের সময় ব্রিকস দেশগুলি নিজেদের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করেছে। ভারত চায়, আগামী ১৫ বছরে ব্রিকস দেশগুলি নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা যেন অনেকটাই বাড়াতে পারে। ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা চালানোর পর ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইউরোপ এবং অ্যামেরিকা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ছয় দফায় নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ জারি করেছে। সপ্তম প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বেই কমবেশি অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। আফ্রিকায় শুরু হয়েছে খাদ্য সংকট। কারণ, কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেন কৃষ্ণসাগরে মাইন পেতে রেখেছে বলে তারা সেখানে অবরোধ তৈরি করেছে। কোনো জাহাজকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে, ইউক্রেনের দাবি রাশিয়া অবরোধ তৈরি করে রেখেছে বলেই খাদ্যশস্য বোঝাই জাহাজ আফ্রিকার দিকে যেতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে পুটিন বলেছেন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে পশ্চিমা দেশগুলি রাশিয়াকে কোণঠাসা করতে চাইছে। কিন্তু এর ফলে গোটা বিশ্বে সংকট তৈরি হচ্ছে। এর দায় পশ্চিমকে নিতে হবে। গোটা পরিস্থিতির জন্য পশ্চিমা দেশগুলিকে দায়ী করে পুটিন বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলির স্বার্থসিদ্ধির কারণেই আজ এই পরিস্থিতি উদ্ভূত হয়েছে। এই অবস্থায় পুটিন বলেছেন, এক বিকল্প পথ গড়ে তুলতে হবে। এবং সেখানেই ব্রিকস দেশগুলির সাহায্য প্রয়োজন। তারা রাশিয়ার পাশে থাকলে অর্থনীতির এক বিকল্প পথ গড়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ব্রিকস দেশগুলি সরাসরি রাশিয়ার সমালোচনা করেনি। ইউরোপ রাশিয়ার তেল নেওয়া ্নেকটাই বন্ধ করে দিলেও রাশিয়া একাধিক ব্রিকস দেশকে তেল বিক্রি করছে। বিশ্ব বাজারে এখনো পর্যন্ত রুবলের দাম পড়েনি। চীনের প্রতিক্রিয়া চীন প্রথম থেকেই রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে। ব্রিকস সম্মেলনে রাশিয়াকে কার্যত সমর্থন জানিয়েছে চীন। চীনের রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিং বলেছেন, যে কায়দায় পশ্চিম নিষেধাজ্ঞা জারি করছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। নিজেদের স্বার্থে নিষেধাজ্ঞার অস্ত্রটিকে তারা ব্যবহার করছে বলে শিয়ের অভিযোগ। এর ফলে ঠান্ডাযুদ্ধের আবহাওয়া তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা কঠিন কাজ বলে মনে করেন চীনের প্রধান। ব্রিকস বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে চীন। বছরে ২৭ দশমিক পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করে ব্রিকস রাষ্ট্রগুলি। এর ৭০ শতাংশই করে চীন। রাশিয়া এবং চীনের এই আহ্বানের পর ব্রিকসের বাকি দেশগুলি কী পদক্ষেপ নেয়, সে দিকেই তাকিয়ে বিশেষজ্ঞরা। ভারতের অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। ভারত এখনো পর্যন্ত কূটনৈতিকভাবে রাশিয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলির মধ্যে একটি ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু ব্রিকসে যেভাবে রাশিয়া এবং চীন সরাসরি বিকল্প পথের ডাক দিয়েছে, তাতে ভারতকে এবার স্পষ্ট অবস্থান নিতে হতে পারে বলে মনে করছেন কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ। এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, পিটিআই, এএফপি)