পদ্মা সেতু নিয়ে পদ্মার ওপারের তারকাদের ভাবনা

title
২ মাস আগে
বাংলাদেশের নাটক কিংবা চলচ্চিত্রের শুটিং স্পট এক অর্থে পুরোপুরি ঢাকাকেন্দ্রিক৷ সবই হয়ে থাকে ঢাকার আশেপাশে কিংবা ঢাকার ভেতরে উত্তরার বিভিন্ন বাড়িতে৷ ঢাকার আশেপাশে বলতে ঘুরেফিরে মানিকগঞ্জ কিংবা পূবাইল৷ ঢাকার বাইরের স্পটের ক্ষেত্রে সাধারণত বেছে নেওয়া হয় কক্সবাজার৷ পদ্মা সেতু হওয়ায় শুটিং লোকেশনে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা৷ অভিনেতা-নির্মাতা মীর সাব্বিরের বিশ্বাস, ‘‘পদ্মা সেতুর সুবাদে বাংলাদেশের নাটক-চলচ্চিত্র আর এত বেশি ঢাকাকেন্দ্রিক থাকবে না৷ দুটি শিল্পেরই পরিসর আরো বড় হবে৷ তাতে আমরা যেমন উপকৃত হবো, তেমনি যারা আমাদের কাজ দেখেন সেই দর্শকদের মধ্যেও এটি চমৎকারভাবে ছড়িয়ে যাবে৷’’ নাটক-চলচ্চিত্রে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন মনোরম জায়গা তুলে ধরা হলে পর্যটনেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন মীর সাব্বির৷ তার কথায়, ‘‘কৈশোরে বড় পর্দায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দেখে মনে হতো, যদি সেখানে যেতে পারতাম! আমি মনে করি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যদি আমরা নাটক ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারি, তাহলে সাধারণ মানুষ সেসব জায়গায় যেতে উদ্বুদ্ধ হবে৷ আমার ‘রাত জাগা ফুল’ছবির সম্পূর্ণ শুটিং বরিশালে করেছি৷ ছবিটিতে এসব সুন্দর লোকেশন দেখে অনেকে বিস্মিত হয়েছেন৷ দক্ষিণবঙ্গে এমন আরো অনেক দারুণ জায়গা আছে৷ সেসব স্পটে শুটিং করতে পদ্মা সেতু অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে৷’’ পদ্মা সেতুর ফলে এখন প্রচুর শুটিং হবে দক্ষিণাঞ্চলে: নাদিয়া আহমেদ ছোট পর্দার অভিনেত্রী নাদিয়া আহমেদ স্বীকার করলেন, ‘‘সত্যি কথা বলতে, লঞ্চে যাতায়াত করতে হবে বলে দক্ষিণাঞ্চলে গিয়ে কাজ করা হতো না৷ পদ্মা সেতুর ফলে এখন প্রচুর শুটিং হবে ওইদিকে৷’’ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর দৃষ্টিতে, ‘‘পদ্মা সেতুর মাধ্যমে শুটিংয়ের জন্য নতুন লোকেশন পাওয়া যাবে৷ একইসঙ্গে এটি আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পকে অনুপ্রেরণাও জোগাবে৷’’ ছোট পর্দার এই প্রজন্মের অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব ডয়েচে ভেলেকে বলেন, ‘‘শুটিংয়ের জন্য আমাদের অনেক লোকেশনে যাওয়ার প্রয়োজন হয়৷ কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলে পুরো ইউনিট নিয়ে যাওয়া অনেক খরচের ব্যাপার৷ এ কারণে কেউ সেই চিন্তাই করতো না৷ ২৫ জুন থেকে ৩০ জুন আমার একটি নাটকের শুটিং হওয়ার কথা ভোলায়৷ কিন্তু পরিচালক বারবার ভাবছিলেন, ৬০-৭০ জন মানুষ নিয়ে ভোলা পর্যন্ত যাওয়া অনেক ব্যয়বহুল৷ তবে পদ্মা সেতু হওয়ায় ইউনিটের মাইক্রোবাস ব্যবহার করে ভোলা চলে যেতে পারবো৷ এভাবে আমাদের জন্য বিভিন্ন লোকেশনে যাওয়া এখন থেকে সহজ হবে৷’’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রগ্রাহক নিয়াজ মাহবুব ডয়েচে ভেলেকে জানালেন, পদ্মার ওপারে কিছু জায়গাকে শুটিং স্পটে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন অনেকে৷ তার মতে, ‘‘এখন অনেক সুন্দরভাবে শুটিং করা যাবে৷ পূবাইল আর মানিকগঞ্জ ছাড়া কিন্তু আমাদের সেভাবে শুটিং স্পট নেই৷ শরীয়তপুর ও বরিশালে আমার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে, তারা ইতোমধ্যে শুটিং স্পট বানানোর চিন্তা-ভাবনা করেছে৷’’ নিয়াজ মাহবুব, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রগ্রাহক সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসানের আশা, পদ্মা সেতুর সুবাদে কনসার্টের সংখ্যা বাড়বে৷ তার মতে, ‘‘যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো এখন৷ দক্ষিণবঙ্গে অনেকে গানের অনুষ্ঠান আয়োজন করছে৷ ২৫ জুন থেকে পদ্মার ওপারে আমার কয়েকটি কনসার্ট শুরু হবে৷ মাদারীপুরের শিবচর থেকে শুরু করবো৷ তারপর খুলনায় শো আছে৷ বলা যায়, পদ্মা সেতু সংগীতশিল্পীদের জন্য একটি নতুন ডানা৷’’ পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সংগীতাঙ্গনের পালে নতুন হাওয়া লেগেছে৷ বেশ কয়েকটি নতুন গান তৈরি হয়েছে৷ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পীদের জন্য এ যেন অন্যরকম এক উৎসব৷ শোবিজ ও ক্রিকেট তারকাদের চোখে পদ্মা সেতু সারাদেশের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের সংযোগ ঘটিয়ে অনেক সময় বাঁচিয়ে দেবে৷ ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচও কমবে৷ নিয়াজ মাহবুব নিজের পরিচালিত নাটকের শুটিং বরাবরই দক্ষিণাঞ্চলে করে থাকেন৷ এর মধ্যে অন্যতম বরিশাল ও শরীয়তপুর৷ বর্তমানে বিটিভিতে প্রচার হতে থাকা ১০ পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘দশ দিগন্ত'র শুটিং শরীয়তপুরে করেছেন তিনি৷ তখন বিভিন্ন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল তাকে৷ তিনি বলেন, ‘‘এতদিন কখনো লঞ্চ, কখনো ফেরি, আবার কখনো গাড়ি বা মোটরবাইকে করে যাতায়াত করতে হয়েছে৷ পদ্মা সেতু হওয়ায় এখন ঢাকা থেকে একটি গাড়ি নিয়ে সরাসরি লোকেশনে পৌঁছে যেতে পারবো৷ দক্ষিণবঙ্গে খুব ভালো কিছু লোকেশন আছে৷ এগুলো ভালোভাবে ব্যবহার করা যাবে৷ পদ্মা সেতুর ফলে দক্ষিণাঞ্চলে শুটিংয়ের জন্য অনেক সুবিধা হয়েছে৷’’ ‘রাত জাগা ফুল’ছবির শুটিংয়ের সময়কার ভোগান্তি ডয়েচে ভেলের কাছে তুলে ধরলেন মীর সাব্বির, ‘‘অনেক মানুষ নিয়ে বরিশালে যাওয়া অনেক কষ্টের ছিল৷ দলবল নিয়ে আরিচা দিয়ে যাওয়া-আসায় ১৪-১৫ ঘণ্টা লেগেছে শুধু বাসে৷ তারপর ধরুন খরচ৷ এছাড়া লঞ্চে ইউনিটের একাংশ গেছে৷ এসব বিষয় এখন একমুখী আর ছোট পরিসরে হয়ে যাবে৷ খুব কম খরচে আমরা বরিশাল যেতে পারবো৷ আগের তুলনায় যাতায়াত ব্যবস্থার খরচ ধরলে সেটি ৫০ শতাংশ কমে আসবে৷’’ নিয়াজ মাহবুব ডয়েচে ভেলেকে উল্লেখ করলেন, ‘‘আগে ফেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো৷ এখন চাইলে শিল্পী-কুশলীরা দিনে গিয়ে শুটিং করে দিনেই ফিরে আসতে পারবেন৷’’ পিরোজপুরের মেয়ে নাদিয়া আহমেদ ডয়েচে ভেলেকে বলেন, ‘‘এখন আমরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় অনেক দ্রুত যেতে পারবো৷ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের আর ফেরি পার হওয়ার দরকার নেই৷যদিও লঞ্চযাত্রা বেশ আনন্দময়৷ কিন্তু এখন খুব কম সময়ে পিরোজপুর ও খুলনাবাসী যাতায়াত করতে পারবে, যা আগে চিন্তাই করা যেতো না৷’’ তৌসিফ মাহবুবের গ্রামের বাড়ি ভোলায়৷ তিনি কখনো কল্পনা করেননি ভোলায় গাড়িতে চড়ে যেতে পারবেন! পদ্মা সেতু হওয়ার আগে বরিশাল পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে ফেরিতে করে ভোলা যেতে হতো তাকে৷ এখন আর সেই বাড়তি ঝক্কি নেই৷ বরিশাল পর্যন্ত যেতে আগে ২৫০ থেকে ২৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো৷ এখন সরাসরি গেলে ১০০ থেকে বড়জোর ১৪০ কিলোমিটার রাস্তা পেরোলেই চলবে৷ তৌসিফের ভাবনায়, ‘‘তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে পারবো৷ এখন শুধু বরিশাল থেকে ভোলা পর্যন্ত ফেরি পার হওয়া লাগবে৷ এতে খরচ অনেক কমবে৷ অনেক সময়ও বাঁচবে৷ মোট কথা, আগে ভোলায় যেতে ভাবতে হতো- অর্ধেক দিন লাগবে৷ এখন আর সেই দুশ্চিন্তা নেই৷ এখন খুব সকালে রওনা দিলে হয়তো গ্রামে গিয়ে নাশতা করাও সম্ভব৷’’ তৌসিফ মাহবুব, অভিনেতা ক্রিকেটার কামরুল ইসলাম রাব্বি যখন প্র্যাকটিসের জন্য ঢাকার বিভিন্ন অ্যাকাডেমিতে যাওয়া-আসা করতেন, তখনকার দিনগুলো যেন তার কাছে বিভীষিকা! তিনি ডয়েচে ভেলেকে বলেন, ‘‘বরিশালে তখন বিমানবন্দর ছিল না৷ আমাদের সঙ্গে থাকা বড় বড় ব্যাগ নিয়ে লঞ্চে ওঠা খুব কষ্টের ছিল৷ ফেরির দুশ্চিন্তায় গত কয়েকটা কোরবানি ঈদে বাড়িতে যাওয়া হয়নি৷ কীভাবে যাবো? একটাই চিন্তা ছিল– লঞ্চঘাটের প্রচণ্ড ভোগান্তি৷ গাড়ি দিয়ে গেলেও ফেরির জন্য বিশাল লাইন থাকতো৷ আমাদের নাইনটিন অ্যাকাডেমি ঈদের দুই-তিন দিন আগে ছুটি হতো৷ এরপর ফের শুরু হতো ঈদের দুই-তিন দিন পর৷ ওই সময়টা আমাদের জন্য খুবই কঠিন ছিল৷ বড় বড় ট্রলি নিয়ে লঞ্চে ওঠানামা ছিল সীমাহীন দুর্ভোগের৷ কারণ, তখন লঞ্চের দরজার সামনেও যাত্রীরা বসে থাকতো৷ এসব ঝক্কি থেকে এখন রেহাই পাবো৷ কিছু সড়ক হয়ে গেলে সকালে নাশতা করে রওনা দিলে দুপুরে গিয়ে বরিশাল পৌঁছে যাবো৷ এখন ঈদের দিন যদি গ্রামে যেতে চাই তাহলে নামাজ পড়ে রওনা দিলেও দুপুরে বরিশাল গিয়ে ভাত খাওয়া যাবে৷ আগে কিন্তু এটা কল্পনাও করা যেতো না৷’’ সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসানের আশা, ‘‘এখন আমার নিজের গ্রামের বাড়ি যেতে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগবে৷ অথচ আগে লাগতো ৯ ঘণ্টা৷ আমি এখন ইচ্ছে হলেই গ্রামে চলে যেতে পারবো৷ আগে ইচ্ছে থাকলেও শরীর চাইতো না৷ শরীর চাইলেও সময় হতো না৷ বিশেষ করে ফেরির ঝক্কি মেনে নেওয়া কষ্টকর ছিল৷’’ মীর সাব্বির স্মৃতি হাতড়ে ডয়েচে ভেলেকে জানালেন, বরগুনার গ্রামের বাড়ি থেকে লঞ্চে চড়ে প্রথমবার ঢাকায় আসতে তার দেড় দিন লেগেছিল৷ তিনি এখন ভাবছেন, ‘‘পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে বরগুনা চলে যেতে পারবো পাঁচ-ছয় ঘণ্টার মধ্যে৷ এটি আমার কাছে খুব অবিশ্বাস্য লাগে৷ পদ্মা সেতু আমাদের বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠির জন্য একটি বিস্ময়৷’’ নাটক-চলচ্চিত্র আর ঢাকাকেন্দ্রিক থাকবে না: মীর সাব্বির জাতীয় দলের সাবেক বাঁহাতি ওপেনার শাহরিয়ার নাফীস মনে করেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড’ও ‘অফিসিয়াল কার্যক্রম’সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পদ্মা সেতু ব্যাপক ভূমিকা রাখবে৷ তার বিশ্বাস, ‘‘লঞ্চ বা নৌ-পথে যাত্রার আবেদন কমবে না৷ কিন্তু দিনে দিনে দরকারি কাজ সম্পন্ন করতে বরিশাল, পিরোজপুর, খুলনাসহ দক্ষিণবঙ্গের যেকোনো জেলায় যাতায়াত সহজ হবে৷ দক্ষিণবঙ্গ কৃষিপ্রধান৷ আগে মাছ ও ফসল ঢাকায় আসতে যতক্ষণ লাগতো, সেই সময় অর্ধেক করে দেবে পদ্মা সেতু৷ দক্ষিণবঙ্গের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক শক্তিশালী ও চাঙা হবে৷’’ পদ্মা সেতু হওয়ার আগে দক্ষিণবঙ্গে যাতায়াত ছিল অনেক সময়সাপেক্ষ ও কষ্টের৷ ফেরির বিড়ম্বনার কারণে ওই অঞ্চলে এখনো কোনো কনসার্ট করেননি সংগীত শিল্পী খালিদ হাসান মিলুর ছেলে প্রতীক৷ তার মন্তব্য, ‘‘সবচেয়ে বড় কষ্ট ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরিঘাটে বসে থাকা৷ আমার দাদি যেদিন মারা গিয়েছিলেন সেদিন তাকে শেষবার দেখতে ৯ ঘণ্টা পর যেতে হয়েছিল৷ এটি আমার কাছে সবচেয়ে বড় কষ্টের ঘটনা৷’’ পটুয়াখালীর ছেলে কামরুল ইসলাম রাব্বি টেনে আনলেন ডানহাতি স্পিনার সোহাগ গাজীর বাবার মৃত্যুর প্রসঙ্গ, ‘‘আঙ্কেলের হার্টের সমস্যা দেখা দেওয়ায় বরিশালে আনা হয়৷ কিন্তু সোহাগ গাজী ঢাকা নিয়ে আসতে চেয়েছিল৷ কিন্তু পারেনি৷ কারণ, সে জানতো ঢাকায় আনার জন্য পুরো একটা দিন লাগবে৷ আর লঞ্চে তো চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই৷ দক্ষিণাঞ্চলের প্রচুর মানুষ কিন্তু ফেরিতেই মারা গেছে৷ আমারও এক আত্মীয়ের মৃত্যু হয়েছে ফেরিতে৷ দেখা গেল– অসুস্থ রোগী নিয়ে রওনা দিয়ে ফেরিতে ওঠার জন্য অপেক্ষা, এরপর আবার ফেরিতে উঠে পার হওয়ার অপেক্ষা- সবকিছু মিলিয়ে যত সময় ব্যয় হতো তাতে কিন্তু অনেকে লঞ্চেই প্রাণ হারিয়েছেন৷ ওই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষকেই এমন দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে৷’’ মীর সাব্বিরের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যেও এমন ঘটনা আছে, ‘‘আমার আত্মীয়-স্বজনরা বরিশাল ও বরগুনায় থাকে৷ তাদের ঢাকায় আসতে হলে লঞ্চ, নয়তো আরিচা বা মাওয়া দিয়ে আসতে হতো৷ আগে আমাদের ফেরিতে লাগতো দুই ঘণ্টার ওপরে৷ আমাদের আত্মীয়-স্বজন যারা অসুস্থ হতেন, তাদের অনেক সমস্যা হতো৷ ফেরিতে বিলম্বের কারণে আপনজনের মারা যাওয়ার ঘটনাও আমাদের মধ্যে আছে৷’’ ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮’জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী পিরোজপুরে মেয়ে৷ তার কাছে আগে বাড়িতে যাওয়া ছিল বেশ ঝক্কির৷ লঞ্চ, যাতায়াত আনন্দের হলেও পরে বাস পাল্টাতে হতো৷ সাম্প্রতিক সময়ে এমনও হয়েছে যে, ফেরির জন্য ১২-১৩ ঘণ্টা অপেক্ষায় ছিলেন৷ জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, মডেল ও অভিনেত্রী ‘‘ফেরির ভয়ে বছরের পর বছর বাড়ি যাওয়া হয়নি৷ এমনও হয়েছে যে, বিমানে উড়ে যশোর গিয়েছি, সেখান থেকে বাড়ি গিয়েছি৷ এখন আমার জন্য বাড়ি যাওয়া খুব সহজ হয়ে যাবে৷ এজন্য দারুণ ভালো লাগছে৷ আমি একদিন ছুটি পেলেও এখন গ্রামের বাড়িতে বাবা-মায়ের কাছে চলে যাবো’- ঐশীর অভিব্যক্তি এমনই৷ ডানহাতি পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি বললেন, ‘‘পদ্মা সেতু শুধু আমাদের প্রজন্মের নয়, আমাদের বাবা-দাদারও স্বপ্ন ছিল৷ দক্ষিণাঞ্চলে বড় বড় বেশ কয়েকটি নদী আছে৷ মোটামুটি সব নদীতেই সেতু হয়েছে৷ বাকি ছিল পদ্মা সেতু৷ সেটিও হয়ে গেল৷ এটি আমাদের জন্য বিশাল একটি পাওয়া৷’’ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-র ক্রিকেট অপারেশন্স ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফীস ডয়েচে ভেলেকে বলেন, ‘‘যেকোনো রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে অর্থনীতি৷ আর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা৷ পুরোপুরি মানুষের হৃদয়ের মতো৷ মানুষের হৃৎপিণ্ড ঠিক থাকলে যেমন সব ঠিক থাকে, তেমনি একটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক থাকলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও দ্রুত বর্ধিত হয়৷ পদ্মা সেতুর ফলে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে সারাদেশে যোগাযোগের জন্য ফেরি বা নৌ-পথের কারণে যে সময় লাগতো, সেটি কমে আসবে৷’’ শাহরিয়ার নাফীস যোগ করেন, ‘‘বাংলাদেশ এখন অনেক দেশের জন্য রোল মডেল৷ পদ্মা সেতু বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে শক্তিশালী একটা অবস্থানে নিয়ে গেছে৷ ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাংলাদেশ সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে করেছে৷ এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শক্তির একটা বড় প্রাপ্তির জায়গা৷ পদ্মা সেতু তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ বুঝিয়ে দিয়েছে, আমাদের যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে যেকোনো কিছু করা সম্ভব৷’’ ইউরোপের দৃষ্টিনন্দন ১১টি সেতু পোন্তে ভেকিও সেতু, ফ্লোরেন্স ইতালির ফ্লোরেন্সের এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল ১৩৪৫ সালে৷ প্রথমদিকে মাংসবিক্রেতা আর চামড়ার ব্যবসায়ীরা সেখানে পণ্য বেচাকেনা করত৷ তাঁরা আবর্জনা ফেলে নদী দূষিত করার কারণে ১৫৬৫ সালে এক ডিক্রির মাধ্যমে তাঁদেরকে সেখান থেকে সরানো হয়৷ এরপর সেখানে জায়গা হয় স্বর্ণকারদের৷ বর্তমানে স্বর্ণকারদের সঙ্গে চিত্রশিল্পীদের মিশেলে বিশেষ পরিবেশ তৈরি হয়েছে ওই সড়কে৷ ইউরোপের দৃষ্টিনন্দন ১১টি সেতু রিয়ালতো সেতু, ভেনিস ইতালির ভেনিসের সান পোলো ও সান মার্কো ডিস্ট্রিক্টকে সংযুক্ত করেছে গ্র্যান্ড ক্যানেলের উপরের নির্মিত রিয়ালতো সেতু৷ সেতুর অবকাঠামোকে ধরে রাখতে দেয়া আছে ওক গাছের ১২ হাজার খুঁটি৷ সেতুটির চারপাশে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে৷ পণ্যের পসরা সাজিয়ে সেতু এলাকায় অবস্থান করে অনেক জাহাজ৷ ছাদবিশিষ্ট ওই সেতুর দেয়ালের দৃষ্টিনন্দন সব চিত্রকর্ম নজর কাড়ে পর্যটকদের৷ ইউরোপের দৃষ্টিনন্দন ১১টি সেতু চার্লস সেতু, প্রাগ ভিয়ালিতাভায় ১৬ একর এলাকা জুড়ে প্রকাণ্ড আর অভিজাত আকৃতি নিয়ে চার্লস সেতু৷ এটি সংযুক্ত করেছে পুরান শহরের সঙ্গে নতুন শহরকে, যেখানে প্রাগ প্রাসাদের অবস্থান৷ সেতুর রেলিংয়ে আছে অনেক সেন্টের প্রতিকৃতি৷ এর মধ্যে বিখ্যাত একটি প্রতিকৃতি নেপুমুকা এলাকার ‘সেন্ট জন’-এর৷ ধারণা করা হয়, এই স্থানেই তাঁকে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়েছিল৷ ইউরোপের দৃষ্টিনন্দন ১১টি সেতু চ্যাপেল সেতু, লুসার্ন এক সময় যোদ্ধাদের আসা-যাওয়ার রাস্তা ছিল চ্যাপেল সেতু৷ এখন এটি সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন শহরে পর্যটক আকর্ষণের অন্যতম জায়গা৷ ১৩৩২ সালে নির্মিত এই স্থাপনা ইউরোপের সবচেয়ে পুরাতন কাঠবেষ্টিত সেতু হিসাবে বিবেচিত হয়৷ ১৯৯৩ সালের অগ্নিকাণ্ডে সেতুটির একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়, সিগারেটের আগুনে ওই ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছিল বলে মনে করা হয়৷ এরপরের বছর পুনর্নির্মাণের পর সেতুটি খুলে দেয়া হয় পথচারীদের জন্য৷ ইউরোপের দৃষ্টিনন্দন ১১টি সেতু ওল্ড ব্রিজ, হাইডেলব্যার্গ জার্মানির শুদ্ধতম রোমান্টিক শহর হচ্ছে হাইডেলব্যার্গ৷ কেবল পুরাতন শহর আর পুরাতন প্রাসাদ নয়, হাইডেলব্যার্গের বিখ্যাত ওল্ড ব্রিজও তেমন প্রেমময় আবেশ তৈরি করে৷ যুদ্ধ আর বন্যায় আগের কাঠের সেতু নষ্ট হয়ে গেলে ১৮ শতকে এটিকে পাথর দিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়৷ ইউরোপের দৃষ্টিনন্দন ১১টি সেতু মার্চেন্টস ব্রিজ, এয়ারফুর্ট এটা কি সেতু, না বাড়িঘর? দুটোই বলা যেতে পারে৷ ইউরোপে সবচেয়ে বেশি বাসভবন নিয়ে গড়া হয়েছে জার্মানির এয়াফুর্টের মার্চেন্টস ব্রিজ৷ প্রথমে সেতুটি তৈরি করা হয়েছিল কাঠ দিয়ে, পরবর্তীতে ১৩২৫ সালে এটিকে রূপান্তর করা হয় পাথুরে স্থাপনায়৷ সেখানে মসলা ও দামি মেটালসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে থাকেন হকাররা৷ সেতুর উপরে বিশেষ পণ্যের দোকান আর গ্যালারি দেখাও পাবেন আপনি৷ ইউরোপের দৃষ্টিনন্দন ১১টি সেতু ওবারবাউম সেতু, বার্লিন বার্লিনের সুদৃশ্য ও আড়ম্বরপূর্ণ সেতু ওবারবাউম, যেটি ক্রয়েৎসব্যার্গ ও ফ্রিডরিশহাইন ডিস্ট্রিক্টকে সংযুক্ত করেছে৷ সেতুর আশপাশে রয়েছে অগণিত ক্লাব আর ডিসকো বার৷ এমন পরিবেশের কারণে এটি যেমন পার্টির জন্য জনপ্রিয়, তেমনি সূর্যস্নানকারীদেরও পছন্দের জায়গা৷ ক্ষণে ক্ষণে বার্লিন মেট্রোর আসা-যাওয়া দুর্গের আবহ দেয় স্প্রে নদীকে৷ ইউরোপের দৃষ্টিনন্দন ১১টি সেতু পঁ নউফ, প্যারিস যদিও ‘পঁ নউফ’-এর মানে নতুন সেতু, কিন্তু এটি সিন নদীর উপরে নির্মিত সবচেয়ে পুরাতন সেতু৷ ১৬০৭ সালে যখন সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়, তখন এটি ছিল এক যুগান্তকারী ব্যাপার৷ কারণ এই ধরনের সেতুতে অনেক সময় বসবাসের ভবন থাকলেও ‘পঁ নউফ’ ছিল ভিন্ন৷ এটি পথচারীদের চমৎকার নদী আর শহরের দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা দেখার সুযোগ করে দেয়৷ ইউরোপের দৃষ্টিনন্দন ১১টি সেতু টাওয়ার ব্রিজ, লন্ডন বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত টানাসেতু টাওয়ার ব্রিজ৷ সেতুটির উপরে দু’টি টাওয়ার থাকলেও মূলত এর নামকরণ করা হয়েছে ‘টাওয়ার অফ লন্ডন’ থেকে৷ প্রতিদিন ৪০ হাজার যানবাহন চলে সেতুটির উপর দিয়ে, আর নীচ দিয়ে রয়েছে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা৷ বড় জাহাজ পার করতে সেতুর মধ্যভাগ যখন উঁচিয়ে তোলা হয়, তখন এটি মোহনীয় দৃশ্যের অবতারণা করে৷ ইউরোপের দৃষ্টিনন্দন ১১টি সেতু গ্লেনফিনান রেলসেতু, স্কটল্যান্ড অভিজাত ও প্রেমময় এই রেলসেতু ‘হ্যারি পটার’ সিনেমার মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে৷ বাস্তবে বাষ্পীয় ইঞ্জিনের রেল ‘দ্য জ্যাকোবিট’ এই সেতু দিয়ে পার হলেও সিনেমায় দেখানো হয়েছে হগওয়ার্টস এক্সপ্রেস৷ ২১ একর জায়গা নিয়ে ৩৯০ মিটার লম্বা গ্লেনফিনান৷ ইউরোপের দৃষ্টিনন্দন ১১টি সেতু থ্রি ব্রিজেস, এডিনবরা থ্রি ব্রিজেসের বিস্তৃতি ‘ফার্থ অফ ফোর্থে’, যেটি ফাইফ এলাকাকে এডিনবরা-র সঙ্গে সংযুক্ত করেছে৷ লাল রঙের ‘ফোর্থ রেল ব্রিজ’ পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ একক খিলানের সেতু৷ ১৮৯০ সালে নির্মিত এই সেতু এখন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ৷ এই সেতুর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৪ সালে চার লেনের ‘ফোর্থ রোড ব্রিজ’ নির্মাণ করা হয়৷ আর ২০১৭ সালে নির্মিত ‘কুইন্সফেরি ক্রসিং’ উত্তরাধুনিক প্রকৌশল শিল্পের অন্যতম নির্দেশকে পরিণত হয়েছে৷