মমতার মন্ত্রিসভায় নতুন পূর্ণমন্ত্রী বাবুল সহ পাঁচজন

title
১৩ দিন আগে
পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেয়ার পর বেশি দেরি করলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্রুত মন্ত্রিসভার রদবদল করে ফেললেন। দুই প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও সাধন পান্ডের শূন্যপদও পূরণ করলেন তিনি। মমতা বলেছেন, ছোট রদবদল করা হলো। পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে বাবুল সুপ্রিয়, পার্থ ভৌমিক, উদয়ন গুহ, প্রদীপ মজুমদার, স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে। বীরবাহা হাঁসদা আগে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তাকে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। বিপ্লব রায়চৈধুরীকেও স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। তাজমুল হোসেন ও সত্যজিৎ বর্মনকে প্রতিমন্ত্রী করা হলো। চারজনকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিতে হবেমমতাকে। কারণ, মোট ৪৪ জনকেই মন্ত্রী করতে পারেন তিনি। মোট চারটি পদ খালি ছিল। নতুন আটজন নতুন মন্ত্রী নেয়া হয়েছে। আর বীরবাহা হাঁসদা আগে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, এখন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হলেন। ফলে মমতাকেচারজনকে বাদ দিতে হবে। বাবুল সুপ্রিয়র ক্ষেত্রে একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো। তিনি আগে আসানসোল থেকে সাংসদ ছিলেন। জেতার পর নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হন। কিন্তু মোদী মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার পর তিনি বিজেপি ছেড়ে দেন। সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দেন। পরে বাবুল তৃণমূলে যোগ দেন, বিধায়ক নির্বাচিত হন। এবার তিনি পূর্ণমন্ত্রী হলেন। বিজেপি ছাড়ার এক বছর পর রাজ্যে মন্ত্রী হলেন বাবুল। পিকনিকের মেজাজে তৃণমূলের একুশে জুলাই একুশে জুলাই ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন বাম সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিল কংগ্রেস। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তখন কংগ্রেসের যুবনেত্রী। কলকাতার রাজপথে মিছিল করে তারা মহাকরণের দিকে যাচ্ছিলেন। তখনই পুলিশ গুলি চালায়। ১৩ জন কংগ্রেসকর্মীর মৃত্যু হয়। পিকনিকের মেজাজে তৃণমূলের একুশে জুলাই শহিদ দিবস পরবর্তীকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন। সেই তখন থেকেই এই দিনটিতে কলকাতার ধর্মতলা অঞ্চলে তৃণমূল শহিদ দিবস পালন করে। ২১ জুলাই তৃণমূল সবচেয়ে বড় দলীয় সমাবেশ করে। রাজনৈতিক রোডম্যাপ ঘোষণা করে। পিকনিকের মেজাজে তৃণমূলের একুশে জুলাই করোনাকালের ২১ জুলাই করোনাকালে বন্ধ ছিল সভা। ভার্চুয়াল সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল নেতৃত্ব ভিডিওবার্তা দিয়েছিল। এবছর ফের আগের মতো আয়োজন করা হয়েছে ২১ জুলাই সভার। পিকনিকের মেজাজে তৃণমূলের একুশে জুলাই পিকনিকের মেজাজ দিনটি শহিদ স্মরণে আয়োজিত হলেও, তৃণমূলকর্মীরা থাকেন খোশমেজাজে। কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে সভাস্থলে মিছিল করে পৌঁছান তারা। পিকনিকের মেজাজে তৃণমূলের একুশে জুলাই অঘোষিত ছুটি কলকাতার কেন্দ্রস্থলে এই সভার আয়োজন হয়। ফলে শহরের বিভিন্ন প্রান্তের রাস্তা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। বিভিন্ন রুটের বেসরকারি বাস তৃণমূলকর্মীরা ভাড়া নিয়ে নেন। ফলে গণপরিবহন প্রায় ভেঙে পড়ে। এদিনও বিভিন্ন স্কুল ছুটি ঘোষণা করে দিয়েছে। পিকনিকের মেজাজে তৃণমূলের একুশে জুলাই সকাল থেকে প্রস্তুতি সভার দুইদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। এদিন সকাল থেকেই কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন ধর্মতলায়। পিকনিকের মেজাজে তৃণমূলের একুশে জুলাই কর্মী-শিবির রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রেন বোঝাই করে কলকাতায় এসেছেন তৃণমূলকর্মীরা। তাদের জন্য দলের ভল্যান্টিয়াররা খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। পিকনিকের মেজাজে তৃণমূলের একুশে জুলাই রকমারি সাজ উৎসবের মেজাজে কর্মীরা। রংবেরঙের সাজে তারা পৌঁছে গেছেন সভা প্রাঙ্গনে। পিকনিকের মেজাজে তৃণমূলের একুশে জুলাই বেড়ানোর দিন বিভিন্ন জেলার তৃণমূলকর্মীরা রথ দেখা কলা বেচা দুই কাজই সেরে ফেলেন এদিন। সভায় যোগ দেওয়ার পর তারা বেরিয়ে পড়েন কলকাতা ভ্রমণে। পিকনিকের মেজাজে তৃণমূলের একুশে জুলাই করোনা মামলা করোনাকালে ২১ জুলাইয়ের সভা বন্ধ করার আর্জি জানিয়ে আদালতে মামলা হয়েছিল। আদালত সভা করার অনুমতি দেয়। পিকনিকের মেজাজে তৃণমূলের একুশে জুলাই পুলিশের পরীক্ষা কয়েক লাখ মানুষ জড়ো হন এই সভায়। ফলে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয় পুলিশকে। পিকনিকের মেজাজে তৃণমূলের একুশে জুলাই সভামঞ্চে নেতারা মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাকে ঘিরে বসে আছেন তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা। পিকনিকের মেজাজে তৃণমূলের একুশে জুলাই রাজনৈতিক বার্তা বৃষ্টিভেজা সভায় বেলা দেড়টা নাগাদ বক্তৃতা করতে ওঠেন মমতা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে তিনি কর্মীদের বার্তা দেন। পিকনিকের মেজাজে তৃণমূলের একুশে জুলাই বিজেপির কারাগার ভাঙো এদিনের সভা থেকে মমতা বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর শপথ নিতে হবে। তার কথায়, ''বিজেপির কারাগার ভাঙো।'' লেখক: সুব্রত গোস্বামী (কলকাতা) উত্তরবঙ্গ থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন উদয়ন গুহ। মন্ত্রী হওয়ার পর তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে প্রথম বাবা ও ছেলে মন্ত্রী হলেন এবং সেটাও দুই দলের সরকারে। উদয়নের বাবা কমল গুহ দীর্ঘদিন ধরে বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। উদয়ন তৃণমূল মন্ত্রিসভায় এলেন। এদিন একমাত্র বীরবাহা হাঁসদা অলচিকি ভাষায় শপথ নিলেন। বাকিরা বাংলায় নিয়েছেন। দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মতো বীরবাহাও সাঁওতাল। নতুন মন্ত্রীদের এবার দপ্তরবন্টন করবেন মমতা। তখন বোঝা যাবে, পুরনো মন্ত্রীদের মধ্যে কারো মন্ত্রক বদল করা হয়েছে কি না। তবে এদিনের রদবদল থেকে একটা কথা স্পষ্ট, এবার অপেক্ষাকৃত তরুণদের বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন মমতা। উদয়ন গুহ সহ দুইজন প্রবীণ নেতা। বাকিরা সকলেই তরুণ। নতুন মন্ত্রী হওয়া পার্থ ভৌমিক বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় তিন প্রজন্মের নেতাদের তৈরি করেছেন এবং করছেন। জিএইচ/এসজি(ডিডি বাংলা)