আরও ২৪১৫ জনের হজে যাওয়ার সুযোগ

title
৫ দিন আগে
ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের খবর অনুযায়ী, ২৪১৫ মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১১৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৩০০ জন হজ করার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়৷ বুধবার মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত এই কোটা পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে৷ কোভিড মহামারির ধকল সামলে দুই বছর পর বাংলাদেশ থেকে এবার সরকারিভাবে চার হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৩ হাজার ৫৮৫ জনকে হজে যাওয়ার সুযোগ দেয় সৌদি সরকার৷ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৮ জুলাই হজ হবে; সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট গত ৫ জুন শুরু হলেও শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত আরও দুই হাজার ৪১৫ জনকে হজে যাওয়ার সুযোগ দিল সৌদি আরব৷ এই কোটা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট চার হাজার ১১৫ জন আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৫ হাজার ৮৮৫ জনসহ সব মিলিয়ে ৬০ হাজার যাত্রী এ বছর হজ করার সুযোগ পাচ্ছেন৷ হজ নিয়ে বিধান ও নির্দেশনা হজ ফরজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি হজ৷ আর্থিক ও শারীরিকভাবে সমর্থ পুরুষ ও নারীর ওপর হজ ফরজ৷ সুরা আল ইমরানের ৯৭ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘‘আল্লাহর তরফ থেকে সেই সব মানুষের জন্য হজ ফরজ করে দেওয়া হয়েছে, যারা তা আদায়ের সামর্থ্য রাখে৷’’ হজ নিয়ে বিধান ও নির্দেশনা বদলি হজ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, বিদায় হজে খাশ’আম গোত্রের এক নারী রাসুলুল্লাহ (সা.)কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘‘হে আল্লাহর রাসুল, আমার বাবার ওপর হজ ফরজ৷ কিন্তু তিনি এত বৃদ্ধ যে, গাড়িতে স্থির হয়ে বসে থাকতে পারেন না৷ আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করতে পারব?’’ নবী (সা.) বলেছিলেন, ‘‘হ্যাঁ, তুমি পারবে৷’’ (সহীহ বুখারী)৷ হজ নিয়ে বিধান ও নির্দেশনা তবে... হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তিকে হজের ইহরামের সময় ‘‘শুবরুমার পক্ষ থেকে লাব্বাইক’’ বলতে শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘‘শুবরুমা কে?’’ লোকটি বলল, ‘‘আমার ভাই৷’’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘‘তুমি কি নিজের হজ করেছ?’’ সে বলল, ‘‘না৷’’ নবী (সা.) বলেছিলেন, ‘‘আগে তোমার নিজের হজ করো, তারপর শুবরুমার পক্ষ থেকে করো৷’’ (সহীহ আবু দাউদ শরীফ)৷ হজ নিয়ে বিধান ও নির্দেশনা বদলি হজের খরচ অন্যের পক্ষ থেকে বদলি হজে গমনকারী ব্যক্তি হজে প্রেরণকারী ব্যক্তির কাছ থেকে কেবল হজের খরচই গ্রহণ করবেন এবং প্রেরণকারীও কেবল হজের খরচই বহন করবেন৷ কোনো রকমের বিনিময় বা পারিশ্রমিক লেনদেন হারাম৷ বদলি হজের জন্য পারিশ্রমিক দেওয়া হলে গ্রহণকারী ও প্রদানকারী উভয়েই গুনাহগার হবেন এবং প্রেরিত ব্যক্তির জন্য হজের খরচের অতিরিক্ত সব টাকা প্রেরণকারীকে ফেরত দেওয়া ওয়াজিব হবে৷ (দুররুল মুখতার)৷ হজ নিয়ে বিধান ও নির্দেশনা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, জুহায়না গোত্রের এক নারী হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে বলেছিলেন, ‘‘আমার মা হজের মানত করেছিলেন, কিন্তু তা আদায় করার আগেই তিনি মারা গেছেন৷ আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করবো?’ নবী (সা.) বলেছিলেন, ‘‘হ্যাঁ, তার পক্ষ থেকে তুমি হজ করবে৷ যদি তার কোনো ঋণ থাকে তবে কি তুমি তার ঋণ পরিশোধ করতে না? সুতরাং আল্লাহর ঋণ পরিশোধ কর৷’’ (সহীহ বুখারী) হজ নিয়ে বিধান ও নির্দেশনা হারাম সম্পদ দিয়ে হজ সংক্রান্ত হাদিস হযরত উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘‘যখন কোনো লোক হারাম সম্পদ দিয়ে অথবা হারাম উপায়ে হজ করতে গিয়ে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ বলেন তখন আল্লাহ তায়ালা তাকে লক্ষ্য করে বলেন, তোমার সম্পদ হালাল নয়৷ তোমার ‘লাব্বাইক’ এ দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়৷ তোমার হজ তোমার দিকেই ছুড়ে দেওয়া হলো৷’’ (হাইসামি)৷ হজ নিয়ে বিধান ও নির্দেশনা সরকারের টাকায় হজ বৈধ বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী বলেন, ‘‘কোনো রাষ্ট্র বা সরকার চাইলে কোনো ব্যক্তিকে হজে পাঠাতে পারে৷ সেক্ষেত্রে তারা বিশেষ তহবিল ব্যবহার করে থাকে৷ রাষ্ট্রের স্বার্থে, জণগণের কল্যাণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে থাকে৷ বিভিন্ন গুণীজনকে বিভিন্নভাবে সম্মানিত করে থাকে৷ এক্ষেত্রে অর্থায়ন করা হলে, তাতে দোষের কিছু নেই৷ এটি বৈধ, এটি জায়েজ৷’’ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ সংক্রান্ত হেল্প ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত মোট ৩১ হাজার ৫৩৯ জন হজ করতে সৌদি আরব গেছেন৷ তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায়গেছেন ৩ হাজার ৩৮৫ জন আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৮ হাজার ১৫৪ জন৷ হজযাত্রী নিয়ে বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত ৮৭টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে৷ এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪৭টি, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৩৫টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের পাঁচটি৷ সৌদি আরবের উদ্দেশে হজযাত্রীদের শেষ ফ্লাইট ৩ জুলাই৷ হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ১৪ জুলাই, আর ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে ৪ আগস্ট৷ বাংলাদেশ থেকে হজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃতু্ হয়েছে, তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও দুজন নারী৷ হজ বিষয়ক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়৷ এনএস/কেএম (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) বিভিন্ন দেশ থেকে হজে যাওয়ার খরচ বাংলাদেশ এবার সরকারিভাবে হজে যেতে প্যাকেজ-১ এ পাঁচ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ টাকা ও প্যাকেজ-২ এ চার লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা খরচ হবে৷ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে খরচ হবে চার লাখ ৫৬ হাজার ৬৩০ টাকা৷ ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান ১১ মে এসব তথ্য জানান৷ পরদিন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) জানায়, হজযাত্রীদের জন্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কোরবানির খরচ ব্যতীত হজ প্যাকেজের খরচ পড়বে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৪ টাকা৷ বিভিন্ন দেশ থেকে হজে যাওয়ার খরচ ভারত আনন্দবাজার পত্রিকা ২০২০ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে হজে যেতে জনপ্রতি খরচ হয়েছিল প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশি টাকা৷ তবে ঐ সময় পশ্চিমবঙ্গ হজ কমিটি ২০২১ সালের হজের খরচ অনেক বাড়িয়ে চার লাখ ২৩ হাজার ৫৭১ টাকা নির্ধারণ করেছিল৷ আর এবছর হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত খরচের হিসাব জানানো হয়নি৷ ২০১৮ সালে ভারতে হজ ভর্তুকি বন্ধ করে দেয়া হয়৷ বিভিন্ন দেশ থেকে হজে যাওয়ার খরচ পাকিস্তান এখনও চূড়ান্ত খরচ জানানো হয়নি৷ তবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুহাম্মদ উমর বাট গত শনিবার জানান, এবার জনপ্রতি খরচ তিন লাখ ১১ হাজার ৭৪২ বাংলাদেশি টাকা থেকে প্রায় সাড়ে চার লাখ বাংলাদেশি টাকা হতে পারে৷ আরো বিভিন্ন দেশ থেকে হজে যাওয়ার খরচ ইন্দোনেশিয়া এ বছর ইন্দোনেশিয়া থেকে হজে যেতে একজন মুসল্লিকে দুই লাখ ৩৮ হাজার ৪৫৩ বাংলাদেশি টাকা (৩,৯৮,৮৬,০০৯ ইন্দোনেশীয় রুপি) দিতে হবে বলে গত ১৪ এপ্রিল জানান দেশটির ধর্মমন্ত্রী ইয়াকুত ছলিল৷ যদিও মুসল্লি প্রতি খরচ হবে চার লাখ ৮৮ হাজার ২৬০ টাকা৷ বাকি টাকাটা ‘হজ ফাণ্ড ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি’ বা বিপিকেএইচ এর মাধ্যমে ভর্তুকি হিসেবে দেবে সরকার৷ বিস্তারিত জানতে উপরে (+) চিহ্নে ক্লিক করুন৷ বিভিন্ন দেশ থেকে হজে যাওয়ার খরচ মালয়েশিয়া গত ২২ এপ্রিল হজে যাওয়ার খরচ ঘোষণা করা হয়৷ বি৪০ গ্রুপের (যে পরিবারের মাসিক আয় সাড়ে ৯৬ হাজার টাকার কম) মুসল্লিদের জন্য খরচ দুই লাখ ১৮ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে৷ আর যাদের আয় বেশি তাদের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৫৮ হাজার ৬০০ টাকা৷ দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ধর্ম বিভাগের মন্ত্রী ইদ্রিস আহমাদ সম্প্রতি জানান, প্রতিবছর হজ ভর্তুকি হিসেবে সরকার প্রায় ছয়শ থেকে আটশ কোটি টাকা খরচ করে থাকে৷ আরো বিভিন্ন দেশ থেকে হজে যাওয়ার খরচ আসিয়ানে সর্বনিম্ন খরচ ইন্দোনেশিয়ায়? ২০১৯ সালে ইন্দোনেশিয়ার তৎকালীন ধর্মমন্ত্রী লুকমান হাকিম দাবি করেছিলেন, আসিয়ান অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে হজে যেতে একজন মুসল্লিকে সবচেয়ে কম টাকা খরচ করতে হয়৷ ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ব্রুনাই, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে হজে যাওয়ার খরচ উল্লেখ করে তিনি এই দাবি করেছিলেন৷ ইন্দোনেশিয়ার মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়ের এ সংক্রান্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি পড়তে উপরে (+) চিহ্নে ক্লিক করুন৷ লেখক: জাহিদুল হক