জোড়া পরীক্ষার সাঁড়াশিতেই কি ডাক্তারি পড়ুয়াদের মৃত্যুফাঁদ?

title
১২ দিন আগে
একের পর এক আত্মহত্যা গত সোমবার আত্মঘাতী হন কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ডাক্তারি পড়ুয়া প্রদীপ্তা দাস৷ মেডিকেলের চূড়ান্ত বর্ষের এই ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়৷ ৩০ জুলাই এনআরএস মেডিকেল কলেজের ছাত্র অনুপ ঢেলিয়া আত্মহত্যা করেছেন৷ হাওড়ায় নিজের বাড়ির ছাদ থেকে তিনি ঝাঁপ দেন৷ সপ্তাহ তিনেক আগে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজের আর এক ছাত্রী নিজের বাড়িতে আত্মঘাতী হন৷ কেন ক্রমশ বাড়ছে ডাক্তারি পড়ুয়াদের আত্মঘাতী হওয়ার প্রবণতা? সমাজের চোখে এখনো সবচেয়ে সম্মানজনক পেশা চিকিৎসকের৷ তাই উচ্চ মেধাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রীদের বড় অংশের লক্ষ্য থাকে ডাক্তার হওয়া৷ এই ডাক্তারি পড়ার সময় তাঁরা এতটাই মানসিক চাপে পড়ছেন যে তাঁদের আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হচ্ছে৷ কোনো ব্যক্তিগত কারণ থাকতেই পারে, তবে ঘনিষ্ঠ মহলের বয়ান অনুযায়ী পড়াশোনা সংক্রান্ত চাপ এই চূড়ান্ত পদক্ষেপের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় কারণ৷ জোড়া পরীক্ষার চাপ এই পর্বে আলোচনার কেন্দ্রে নয়া পরীক্ষা৷ ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের নিয়মে অনুযায়ী আগামী বছর থেকে এমবিবিএস-এর চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষার সঙ্গে জাতীয় স্তরের একটি পরীক্ষা হতে চলেছে৷ গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করছে হবু চিকিৎসকদের ভবিষ্যৎ৷ কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের চূড়ান্ত বর্ষের পড়ুয়া অয়ন চট্টোপাধ্যায় বলেন, "আমাদের ফাইনাল ইয়ারে মোটামুটি চারটি বিষয়ে পড়াশোনা করতে হয়৷ নতুন যে পরীক্ষাটা দিতে হবে, তাতে প্রথম থেকে ফাইনাল ইয়ার পর্যন্ত যে ১৯টা বিষয় পড়েছি, সবটা নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে৷ তার সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ ও তা মুখস্থ করার উপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে৷ এর সঙ্গে ডাক্তার হয়ে ওঠার সম্পর্ক খুব একটা নেই৷” পড়ুয়াদের দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করা ছাত্রনেতা, ডা. শামস মুসাফির বলেন, "পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন ও নতুন পরীক্ষার ফলে ছাত্রছাত্রীরা চাপে পড়ে যাচ্ছেন৷ আমাদের সময়ের থেকে সিলেবাস ক্রমশ বদলে যাচ্ছে, এর ফলে চাপ সহ্য করতে না পেরে আরও মানসিক অবসাদে চলে যাচ্ছেন পড়ুয়ারা৷” সমীক্ষার ফলে অবসাদের চিহ্ন পড়াশোনা নিয়ে চাপের কথা প্রদীপ্তা বা অনুপের সহপাঠীরা স্বীকার করে নিচ্ছেন বলে তাদের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানা যাচ্ছে৷ সে কারণে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে গত জানুয়ারি থেকে৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে হেল্পলাইন নম্বর দেয়া হয়েছে৷ মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ সম্বলিত ভিডিও দেখানো হয় ইউটিউব চ্যানেলে৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় সমীক্ষাও চালানো হয়৷ চিকিৎসাশাস্ত্রের পঠনপাঠনে সঙ্গে যুক্ত হাজার ছয়েক পড়ুয়া একটি সমীক্ষা ফর্ম অনলাইনে পূরণ করে জমা দেন৷ তাতে দেখা যাচ্ছে , ১০ শতাংশ পড়ুয়ার মধ্যে গভীর অবসাদ রয়েছেন, যার একাংশ আবার আত্মহত্যাপ্রবণ৷ বিষয়টি স্বাস্থ্য ভবনকে চিঠি দিয়ে জানায় স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়৷ তার পরও প্রদীপ্তা বা অনুপের মৃত্যু ঠেকানো যায়নি৷ কাউন্সেলিং কি পর্যাপ্ত? প্রদীপ্তার মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুহৃতা পালের প্রতিক্রিয়া, "আমরা কি হেরে যাচ্ছি? ছেলেমেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্য যাতে ঠিক থাকে, তার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে৷ তারপরেও এমন ঘটনা ভীষণ দুঃখের৷” যদিও চলতি প্রশিক্ষণ বা কাউন্সেলিং ব্যবস্থা সম্পর্কে খুব একটা আশাবাদী নন চিকিৎসকদের একাংশ৷ ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম-এর সদস্য ডা. পুণ্যব্রত গুণ ডয়চে ভেলেকে বলেন, "আমরা যখন পড়েছি, তার তুলনায় এখন প্রতিযোগিতা অনেক বেশি৷ তার উপর যে মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে, সেটা মোকাবিলা করার ঠিকঠাক ব্যবস্থা নেই৷ একটা কার্যকরী, উন্নত কাউন্সেলিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার৷ পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়লে বাবা-মা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন৷ এই কাজটা প্রতিষ্ঠানকে আরো নিবিড়ভাবে করতে হবে৷” একলা ঘর আমার দেশ… আত্মহত্যা ঠেকাতে চেষ্টা চলছে৷ ‘গেট কিপার'-এর মতো অভিনব প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে৷ কোনো পড়ুয়া অবসাদে ভুগলে বা তার মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হলে সেটা কিছু লক্ষণে প্রকাশ পায়৷ এই লক্ষণ সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের পরিচিত করাতে রাজ্যের মেডিকেল কলেজ-সহ স্বাস্থ্য-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘গেট কিপার' প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে৷ কিন্তু অনুপ-প্রদীপ্তাদের ক্ষেত্রে সেই লক্ষণ কি চোখে পড়েনি? ডাক্তারি পড়ুয়া অয়নের বক্তব্য, "সবাই আত্মকেন্দ্রিক আর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে৷ শুধু নিজেরটা বুঝে নিতে হবে৷ প্রতিযোগিতা এমনই৷ অন্যের দিকে কে লক্ষ্য রাখছে? সবাই তো দৌড়ে সামিল! শিক্ষা, শিক্ষকতা ও ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে শিক্ষাঙ্গন ও বাইরের প্রভাব আবদুল্লাহ রানা, সাংস্কৃতিক কর্মী সামগ্রিক পরিবেশের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক পরিবেশও অনেকটা দায়ী৷ আমার ছেলে যখন ক্লাস থ্রি-তে পড়তো, তখন একদিন সে আমাকে বলল, তার ক্লাসের একটা ছেলে হিন্দু বলে তার সঙ্গে কেউ কথা বলে না৷ আমি তখন হেডমাস্টারের সঙ্গে কথা বলি৷ ওই স্কুলের পরিবেশ কিন্তু এমন না৷ তার মানে, পরিবার থেকেই এটা এসেছে৷ আসলে বাচ্চাদের খেলার মাঠ নেই, এলাকায় লাইব্রেরি নেই৷ কীভাবে আমরা ধর্মান্ধ একটা জাতিতে পরিণত হতে পারি- সে দিকেই যাচ্ছি৷ শিক্ষা, শিক্ষকতা ও ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে শিক্ষাঙ্গন ও বাইরের প্রভাব তৌহিদুল হক, সমাজ গবেষক ও শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য নৈতিকভাবে বলিষ্ঠ জনগোষ্ঠী তৈরি করা৷ নৈতিক শিক্ষা আমরা পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ থেকে পেয়ে থাকি৷ ধর্মীয় বোধও গুরুত্বপূর্ণ৷ কিন্তু দেখা যাচ্ছে, নৈতিক শিক্ষার দায়টা পরিবার ও রাষ্ট্র শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর চাপিয়ে থাকে, যা একপেশে ধারণা৷ সমাজের সব স্তরেই যদি নৈতিকতার চর্চা না থাকে, তাহলে শুধুমাত্র শিক্ষকদের বক্তব্য বা বই পড়ে উদ্বুদ্ধ হবে, এমন মনে করা ঠিক নয়৷ শিক্ষা, শিক্ষকতা ও ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে শিক্ষাঙ্গন ও বাইরের প্রভাব আরেফিন শরিয়ত, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নৈতিক শিক্ষা বইপত্র পড়ে শেখা যায় না৷ পারিবারিক সংস্কৃতি, শিক্ষকের মানসিকতা- এসবের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে৷ মানসিকতার কারণে ধর্ম ও বিজ্ঞান আলাদা হয়ে যায়৷ দেখা যাচ্ছে, শিক্ষকদের ভাবনার জায়গা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রসার ঘটছে না, যে কারণে শিক্ষার্থীরা এখন অন্য ধর্মের শিক্ষককে ভিন্ন চোখে দেখছে৷ এখানে রাষ্ট্রের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ৷ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শিক্ষককে কীভাবে দেখছেন তারও প্রতিফলন ঘটছে৷ শিক্ষা, শিক্ষকতা ও ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে শিক্ষাঙ্গন ও বাইরের প্রভাব রুকাইয়া জহির, শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিন দিন আমরা বাঙালি সংস্কৃতি হারিয়ে ফেলছি৷ গত দুই বছর ধরে কোনো সাংস্কৃতিক চর্চা নেই৷ আমরা যদি বাঙালি সংস্কৃতি আরো বেশি তুলে ধরতে পারি, আরো বেশি চর্চা করতে পারি, তাহলে বিভাজনটা চলে যাবে৷ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই আমরা আবার বিশ্ব বাঙালি এক হতে পারি, আমাদের অন্ধত্ব দূর হতে পারে৷ শিক্ষা, শিক্ষকতা ও ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে শিক্ষাঙ্গন ও বাইরের প্রভাব সালমান সিদ্দিকী, সভাপতি, ছাত্রফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত৷ এই সম্পর্কের উপর নির্ভর করে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এগুবে, না পেছাবে৷ যত দিন যাচ্ছে, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে৷ এখন আমরা দেখি, ছাত্রকে অপহরণ করছেন শিক্ষক৷ আবার ছাত্ররা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে৷ এখন শুধু স্কুল না, পুরো রাষ্ট্রের মধ্যে ধর্মকে ব্যবহার করা, ধর্মকে ব্যবহার করে অন্যকে ফাঁসানো, একটা উন্মাদনা তৈরি করার প্রবণতা বাড়ছে৷ শিক্ষা, শিক্ষকতা ও ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে শিক্ষাঙ্গন ও বাইরের প্রভাব সায়মা সিদ্দিকা, উন্নয়নকর্মী আমাদের মধ্যে ধর্মভিরুতা তৈরি করা হচ্ছে৷ দীর্ঘদিনের যে সমাজ-সংস্কৃতি তা থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে৷ এটা হওয়া উচিত না৷ পরিবার থেকেই বাচ্চাদের আমাদের কৃষ্টি-কালচার শেখাতে হবে৷ যেমন কীভাবে আমরা একে অপরের ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে মিশে যেতাম, এখনও যেতে পারি৷ এতে আমাদের ধর্মের কোনো ক্ষতি হবে না৷ আমি এখনও বিশ্বাস করি, সমাজে এই ধরনের মানুষ এখনও আছে৷ তারাই পরিস্থিতি পালটে দেবে৷ শিক্ষা, শিক্ষকতা ও ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে শিক্ষাঙ্গন ও বাইরের প্রভাব অনিক রায়, সভাপতি, ছাত্র ইউনিয়ন আমাদের সময় যেভাবে পাঠ্যবইয়ে ধর্ম পড়ানো হতো, এখন সেভাবে হচ্ছে না৷ এখন ধর্মকে সাম্প্রদায়িকীকরণ ও উগ্রবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে৷ ওয়াজগুলো কোনো সেন্সর ছাড়াই চলছে৷ সেখানে নারীর বিরুদ্ধে বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে কথা বলা হয়, যেটা বারবার বলার কারণে মানুষের মাথায় গেঁথে যায়৷ শিক্ষক হৃদয় মন্ডলের যে ঘটনা, সেখানে একটি ছেলে বারবার বলছে, সে ওয়াজে শুনেছে৷ শিক্ষা, শিক্ষকতা ও ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে শিক্ষাঙ্গন ও বাইরের প্রভাব উৎপল বিশ্বাস, সাবেক ভিপি, জগন্নাথ হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে যে সম্পর্কটা আমরা ছোটবেলায় দেখেছি এখন সেটা আর নেই৷ শিক্ষকরা এখন অনেক হীনমন্যতায় ভুগছেন৷ নৈতিক শিক্ষা দিতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর আক্রমণের শিকার হতে হয় কিনা তা তাদের ভাবনায় থাকছে৷ এই সুযোগটা শিক্ষার্থীরা নিচ্ছে৷ কোনো শিক্ষক যদি কিছু বলেনও, শিক্ষার্থীরা সেটিকে ঘুরিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছে৷ এই যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে দূরত্ব, এর জন্য জাতিকে আগামী দিনে চড়া মাশুল দিতে হবে৷ শিক্ষা, শিক্ষকতা ও ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে শিক্ষাঙ্গন ও বাইরের প্রভাব সুস্মিতা রায় সুপ্তি, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ঢাকার সমন্বয়ক আমরা যেটা দেখছি, শিশুদের অ্যাকাডেমিক শিক্ষা এত বেশি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তারা নৈতিক শিক্ষার কথা ভাবতেই পারছে না৷ শুধু বই পড়ছে৷ এখন বেশি নম্বর পাওয়ার এক ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে৷ স্কুলের প্রশ্ন ফাঁস করছেন শিক্ষক৷ এগুলো তো ভয়াবহ ব্যাপার৷ যে শিক্ষক নৈতিক শিক্ষা দেবেন, তিনি যদি প্রশ্ন ফাঁস করে দেন, তাহলে কোথায় শিখবে৷ আবার অভিভাবকরাও এই প্রশ্ন সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছেন৷ শিক্ষা, শিক্ষকতা ও ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে শিক্ষাঙ্গন ও বাইরের প্রভাব শান্তনু মজুমদার, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা যে খুব একটা গুরুত্ব পায়, তা নয়৷ শিক্ষার ক্ষেত্রে সহনশীলতা এবং বৈচিত্র খুবই প্রয়োজন৷ আমি এখনও বিশ্বাস করি না, বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ধর্মের ভিত্তিতে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক রচনা করে৷ সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যে প্রবণতা দেখছি, সেটা একটা দুষ্টু প্রবণতা৷ শিক্ষার্থীদের মনোজগৎ নষ্ট করার রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক চেষ্টা তো আছেই৷ তবে আমি মনে করি না, এখনও সব ধ্বংসের মুখে চলে গেছে৷ লেখক: সমীর কুমার দে (ঢাকা)