দোনেৎস্কের কাছে প্রবল লড়াই

title
১৪ দিন আগে
দোনেৎস্কের গভর্নর জানিয়েছেন, পূর্ব ইউক্রেনের এই শহরের একটি বাসস্ট্যান্ডে বৃহস্পতিবার একটি গোলা এসে পড়ে। সে সময় বাসস্ট্যান্ডে অনেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঘটনাস্থলেই বেশ কিছু বেসামরিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আহত অসংখ্য। শুধু তা-ই নয়, ইউক্রেনের সেনার সঙ্গে রাশিয়ার মদতপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রবল লড়াই হচ্ছে সেখানে। তোরেৎস্ক, পিস্কি অঞ্চলে প্রবল লড়াই হচ্ছে। ওই অঞ্চলের মানুষকে পালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও রাস্তায় মুহূর্মুহূ গোলাবর্ষণ হচ্ছে। ফলে বেসামরিক মানুষ পালানোরও সুযোগ পাচ্ছেন না। দোনেৎস্ক শহর এখন রাশিয়াপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে। ২০১৪ সাল থেকেই তারা সেখানে কার্যত দুর্গ বানিয়ে রেখেছে। কিন্তু শহরতলিতে ইউক্রেন সেনাঘাঁটি তৈরি করে রেখেছে। রাশিয়াপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা চেষ্টা করছে, শহরতলি থেকে ইউক্রেনের সেনাকে সরিয়ে দিতে। কিন্তু ইউক্রেনের সেনা পাল্টা দোনেৎস্ক শহর দখলের চেষ্টা করছে। সে কারণেই প্রবল লড়াই চলছে। যুদ্ধের মাঝে ইস্তাম্বুলে প্রথম ইউক্রেনীয় খাদ্য জাহাজ রাশিয়ার অভিযোগ, দোনেৎস্ক শহরের কেন্দ্রস্থলে রাশিয়ার সেনার একটি অনুষ্ঠান চলছিল। সে সময় ইউক্রেন সেখানে মিসাইল হামলা চালায়। তবে সেই ঘটনায় হতাহতের কোনো পরিসংখ্যান রাশিয়া দেয়নি। ইউক্রেন রাশিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দোনেৎস্কের ঠিক পাশে মাইকোলেইভেও তীব্র লড়াই চলছে। সেখানে গোলার আঘাতে একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। এই শহরেই ইউক্রেন সেনাঘাঁটি বানিয়ে লড়াই চালাচ্ছে। ফলে রাশিয়া একের পর এক মিসাইল আক্রমণ চালাচ্ছে। অন্যদিকে ঝাপোরিজ্ঝিয়া পরমাণু প্রকল্পের আশপাশেও লড়াই চলছে। বৃহস্পতিবার রাশিয়া সেখানে ৬০টি রকেট ছুঁড়েছে বলে অভিযোগ। এক লাখ সাত হাজার মানুষ এই অঞ্চলে থাকেন। তাদেরকেও পালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এখানেই পরমাণু কেন্দ্রটির দখল নিয়েছে রাশিয়া। অভিযোগ, তার ভিতর থেকে হামলা চালাচ্ছে তারা। জাতিসংঘের পরমাণু বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, তারা নিয়মিত ওই কেন্দ্রটি খবর পাচ্ছে না। ইউক্রেন থেকে আবার খাদ্যশস্য রপ্তানি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের ফসল জাতিসংঘ ও তুরস্কের উদ্যোগে এক চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেন থেকে আবার খাদ্যশস্য রপ্তানির পথ সুগম করা হয়েছে৷ ফলে কৃষ্ণ সাগরের মাধ্যমে ইউক্রেনের শস্য আবার বিশ্ব বাজারে পৌঁছাতে পারছে৷ রাশিয়ার হামলার প্রায় পাঁচ মাস পর এই প্রথম এমন এক বোঝাপড়া সম্ভব হলো৷ ইউক্রেন থেকে আবার খাদ্যশস্য রপ্তানি খাদ্য সংকটের মোকাবিলা করতে বোঝাপড়া বর্তমান যুদ্ধের আগে পর্যন্ত ইউক্রেন বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য রপ্তানি করে এসেছে৷ রাশিয়ার হামলার ফলে সেই সরবরাহ আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট সৃষ্টি হয়৷ কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার অবরোধের ফলে ইউক্রেনের বন্দরগুলি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে৷ তবে বর্তমান বোঝাপড়া কতদিন স্থায়ী হবে, সে বিষয়ে সংশয় এখনো কাটে নি৷ ইউক্রেন থেকে আবার খাদ্যশস্য রপ্তানি অবকাঠামো আবার সক্রিয় করার চ্যালেঞ্জ ইউক্রেন সংকটের শুরু থেকে ৭০ লাখ টন গম, এক কোটি ৪০ লাখ টন ভুট্টার দানা, ৩০ লাখ টন সূর্যমুখী গাছের তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছানো সম্ভব হয় নি৷ ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে৷ খাদ্য সংকটের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিও বেড়ে গেছে৷ এবার রেল ও জাহাজের মাধ্যমে আবার সরবরাহ চালু করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে৷ ইউক্রেন থেকে আবার খাদ্যশস্য রপ্তানি আন্তর্জাতিক তৎপরতা জাতিসংঘের কূটনৈতিক উদ্যোগের নেপথ্যে অনেক দেশই সক্রিয় হয়েছে৷ ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরে শিল্পোন্নত দেশগুলির গোষ্ঠী জি-সেভেনের রাষ্ট্রদূতদের উপস্থিতি সেই তৎপরতার ইঙ্গিত দিয়েছে৷ ২০২২ সালের ২৯শে জুলাই তাঁরা সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন৷ ইউক্রেন থেকে আবার খাদ্যশস্য রপ্তানি জার্মানির আগ্রহ ইউক্রেনে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত আনকা ফেল্ডহুসেন ইউক্রেনের অবকাঠামোর দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ওলেক্সান্ড্র কুবরাকভের সঙ্গে খাদ্যশস্য রপ্তানির খুঁটিনাটী বিষয়গুলি সম্পর্কে আলোচনা করেন৷ জি-সেভেন দেশগুলির রাষ্ট্রদূতদের প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে তিনি প্রস্তুতিপর্ব খতিয়ে দেখেন৷ ইউক্রেন থেকে আবার খাদ্যশস্য রপ্তানি সামরিক তত্ত্বাবধানে খাদ্যশস্য রপ্তানি ওডেসা বন্দরে জাহাজে শস্য বোঝাই করার প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী৷ বোঝাপড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওডেসায় রুশ হামলা গোটা প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে৷ ইউক্রেন থেকে আবার খাদ্যশস্য রপ্তানি প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা ২০২২ সালের ১লা আগস্ট সিয়েরা লিওনে নিবন্ধিত মালবাহী জাহাজ রাজোনি ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরে শস্য বোঝাই করে ইস্তানবুলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে৷ পানির উপর ভাসমান মাইন ও রাশিয়ার হামলার আশঙ্কায় নাবিকদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই কাজ করতে হয়েছে৷ তিনটি নতুন জাহাজ ইউক্রেনের বন্দর থেকে প্রথম জাহাজটি তুরস্ক হয়ে লেবাননের পথে। এবার ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য নিয়ে আরো তিনটি জাহাজ যাত্রার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে তুরস্ক। এই জাহাজগুলিও কৃষ্ণসাগরের পথ দিয়ে ইউরোপ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যাবে বলে জানানো হয়েছে। তুরস্কের মধ্যস্থতায় এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবদানে খাদ্যশস্য ভর্তি জাহাজগুলি একের পর এক যাত্রা শুরু করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছিল। অ্যামনেস্টির অভিযোগ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক রিপোর্টে ইউক্রেনের সেনাকে এক হাত নেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইউক্রেন সর্বদা যুদ্ধের নীতি মানছে না। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় তারা বেসামরিক মানুষকে লড়াইয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাদেরকে ঢাল বানানো হচ্ছে এমন কথা সরাসরি না বললেও অ্যামনেস্টির ইঙ্গিত তেমনই। এর ফলে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে তাদের দাবি। ইউক্রেন অবশ্য এই রিপোর্ট অস্বীকার করেছে। তাদের পাল্টা অভিযোগ, মানবাধিকার সংস্থাটি আক্রমণকারী এবং আক্রান্তের তফাত করতে ভুলে গেছে। এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এএফপি, এপি, ডিপিএ)