নওয়াজ শরীফকে নিয়ে সরগরম পাকিস্তানের রাজনীতি

title
এক মাস আগে
মানবজমিন ডেস্ক বিশ্বজমিন (৩ সপ্তাহ আগে) ডিসেম্বর ২৯, ২০২১, বুধবার, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৫২ পূর্বাহ্ন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএলএন) প্রধান নওয়াজ শরীফকে নিয়ে নতুন করে সরগরম রাজনীতি। সম্প্রতি ডন এক সম্পাদকীয়তে আভাস দিয়েছে পিএমএলএন এবং ক্ষমতাসীন পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের (পিটিআই) মধ্যে তলে তলে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলে সহসাই লন্ডনে চিকিৎসার নামে নির্বাসন থেকে দেশে ফিরতে পারেন নওয়াজ শরীফ। এ নিয়ে রুদ্ধদ্বার আলোচনা চলছে বলে আভাস দেয়া হয়। কিন্তু সরকারি কর্তৃপক্ষ এমন বিষয়কে রাবিশ বলে আখ্যায়িত করেছে। তার সঙ্গে মঙ্গলবার আরেকটু যোগ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নওয়াজ শরীফ কখনোই নিজে থেকে দেশে আসবেন না। তাই সরকারই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনবে। আর বিরোধীরা তো পিটিআই নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার সক্ষমতাই রাখে না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের সঙ্গে বৈঠকের পর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. মুঈদ ইউসুফের সঙ্গে যৌথ এক সংবাদ সম্মেলনে ওই মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী। সেখানে ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, নিজের ইচ্ছায় নওয়াজ শরীফ কখনোই দেশে ফিরবেন না। তাকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে বৃটিশ সরকারের সঙ্গে পাকিস্তান সরকার যখন একটি চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারবে তখনই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনবে সরকার। ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক বলেছেন, তিনি নওয়াজ শরীফকে লন্ডন থেকে দেশে ফেরাতে লন্ডন যাচ্ছেন। এ খবরে জাতি উমরায় শরীফ পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তিনি আরো বলেন, নওয়াজ শরীফকে দেশে ফেরানো নিয়ে বৃটিশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি প্রায় শেষ করে এনেছে পাকিস্তান সরকার। তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, কথিত প্রতিবাদ বিক্ষোভ দিয়ে বিরোধী দলগুলো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, একটি বাস্তব বিরোধী দল হিসেবে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানই এ কাজটি করতে পারতেন। রাজনীতিতে আন্দোলনের জন্য খাঁটি নেতা প্রয়োজন। বিরোধী দলে এমন কোনো নেতা নেই। এক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের মিথ্যা আশা দেখাচ্ছে বিরোধী দলীয় নেতারা। ওদিকে জমিয়তে উলেমায়ে ইসলাম ফজলের (জেইউআইএফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রেহমান লং মার্চের ডাক দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, এর মধ্য দিয়ে সরকারের পতন ঘটানো হবে। মাওলানা ফজলুর রেহমানের এমন হুমকির জবাবে তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, মাওলানা সাহেব তো গত তিন বছর ধরেই এমন ডাক দিয়ে আসছেন। পিটিআই যে বছর ক্ষমতায় আসে সে বছরেই মাওলানা ফজল তার নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছিলেন। তাদেরকে তিনি মিথ্যা আশা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এর মধ্য দিয়ে সরকারের পতন হবে। তারপর থেকে তিনি সরকার পতনের শুধু তারিখই দিয়ে আসছেন। অন্যদিকে গিলগিট-বালতিস্তানের সাবেক প্রধান বিচারপতি রানা শামীম ইসলামাবাদ হাইকোর্টে যে এফিডেভিড জমা দিয়েছেন, সে সম্পর্কে ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, এতেই প্রমাণ হয় নওয়াজ শরীফ ও তার পরিবার হলো সিসিলিয়ান মাফিয়া। তারা কতটা শক্তিশালী তা এতেই প্রকাশ পেয়েছে। তারা বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাকিস্তান পিপলস পার্টির সহসভাপতি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও পিএমএলএনের প্রধান নওয়াজ শরীফের শাসনামলে যে লুটপাট হয়েছে তার প্রেক্ষিতেই আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে সরকার। রাজনীতিতে পয়েন্ট স্কোর করার পরিবর্তে যদি বিকল্প কোনো সমধান থাকে তাহলে তা নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। কারণ, তিনি বলেন- প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরকারের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাজনীতিকদের সম্পদের ক্ষেত্রে এবং তাদের পরিবারের স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে নীতির বাস্তবায়ন করেছেন ইমরান খান।