‘যারা ভালো কনটেন্ট তৈরি করেন তারাই টিকে থাকবেন’

title
এক মাস আগে
লেখালেখির সঙ্গে অনেকদিন ধরেই জড়িত আছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ইউটিউব নিয়ে লিখেছেন বই। এখন ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সক্রিয় আছেন। তৈরি করছেন খাবারের ভিডিও, বিশেষ করে স্ট্রিট ফুড নিয়ে কাজ করছেন নিজের Food BD চ্যানেলে। কথা বলেছেন টেকশহর ডটকমের আয়োজন ‘টেক ভেঞ্চারস টক’-এ। লেখালেখির সঙ্গে জড়িত আছেন অনেকদিন ধরেই। এর পাশাপাশি ভিডিও কনটেন্ট কাজ শুরু করলেন কেন? মোস্তাফিজুর রহমান: আমি লেখালেখি শুরু করি স্কুল জীবন থেকে। পরবর্তীতে ঢাকায় এসে সৃজনশীল কাজে যুক্ত থেকেছি। বর্তমানে বলতে গেলে সময়ের চাহিদা চিন্তা করেই ভিডিও কনটেন্ট নিয়ে কাজ করার শুরুটা। আমার মনে হয়, বর্তমানে কনটেন্ট হিসেবে লেখার আধুনিক সংস্করণ হিসেবে ভিডিও এগিয়ে। সে চিন্তা থেকেই আমার মনে হয়েছে এখন সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে ভিডিও কনটেন্ট দর্শকদের জন্য ভালো হবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই গণমাধ্যমে লিখতাম। সেখান থেকে ধীরে ধীরে ভিডিও ফরম্যাটে কনটেন্ট নিয়ে কাজ করা। কি ধরনের কনটেন্ট নিয়ে কাজ করছেন? মোস্তাফিজুর রহমান: এখন নানা ধরনের কাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব সহকারে কাজ করছি ফুড নিয়ে। বিশেষ করে স্ট্রিট ফুড নিয়ে আমার চ্যানেল ‘Food BD’ সবচেয়ে বেশি সক্রিয় আছি। প্রচলিত খাবার নিয়ে যে রিভিউ হয় সে পদ্ধতিতে না গিয়ে আমরা খাবার নিয়ে শো করছি। যেখানে কোন ধরনের কথা নেই, খাবার তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটিই দেখানো হয়। স্ট্রিট ফুড নিয়েই কেন কাজ শুরু করলেন? মোস্তাফিজুর রহমান: ২০১৭ সালের শেষের দিকে আমি ফুড বিডি শুরু করি। শুরুতে মোবাইল ফোন দিয়েই ভিডিও শ্যুট করতাম। সাধারণত ফুড ব্লগিং বা ভিডিওতে খাবারের রিভিউ থাকে। আমি চিন্তা করলাম, রিভিউ আকারে না করে ফুড শো আকারে করি। আমাদের ছোট বেলায় গ্রামে দেখেছি মা কিংবা খালারা নানা ধরনের খাবার তৈরি করেন। তো, খাবার খাওয়ার আগে পরিবেশন বা তৈরির প্রক্রিয়াটা বেশ উপভোগ করতাম। সে চিন্তা থেকেই স্ট্রিট ফুড নিয়ে কাজ করাটা। এবং যেটা আগে বলেছি, আমাদের এ শো’তে আমরা কোন রিভিউ করি না। শুধু স্ট্রিট ফুড তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটা দেখাই। স্ট্রিট ফুড তৈরি বা এর মান নিয়ে কখনো ভেবেছেন? যেহেতু আপনার স্ট্রিট ফুডকেই সাধারণ দর্শকদের কাছে তুলে ধরছেন? মোস্তাফিজুর রহমান: আমরা স্ট্রিট ফুড কনটেন্ট তৈরির সময় হয়তো যিনি কাজটি করছেন তাকে ক্যামেরার সামনে কিছু বলি না তবে আগে পরে আমরা বিভিন্ন বিষয় বলার চেষ্টা করি। তবে, আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখেছি কাউকে যদি আমরা নিজেরা আলাদা কোন পরামর্শ দেই তা উক্ত ব্যক্তির কাজের ব্যাঘাত ঘটায়। আমরা চেষ্টা করি কাজটি যাতে উক্ত স্ট্রিট ফুড তৈরিকারী ব্যক্তি নিজের মতোই করেন। ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে এমন কোন অভিজ্ঞতা আছে যা পাঠকদের বলতে চান? মোস্তাফিজুর রহমান: বাংলাদেশের যে হাজার হাজার মানুষ যারা স্ট্রিট ফুড তৈরির সঙ্গে যুক্ত তাদেরও ছোট হলেও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা আছে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনা আছে। দেখা যায়, সারাদিন ধরেই যে কোন পরিস্থিতিতেই স্ট্রিট ফুড তৈরিকারী ব্যক্তিরা নিজেরা তৈরি থাকেন যে কোন পরিস্থিতির জন্য। আমার কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, একেকজনের একেকরকম গল্প। এবং টিকে থাকার চেষ্টাটা ভিন্ন ভিন্ন। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ব্যক্তিদের হয়তো প্রচলিত প্রতিষ্টানের মতো কোন আলাদা পদবী নেই তবে কাজ কিন্তু তারাও নিজেদের মতোই সবকিছু করে থাকে। এখন বাংলা ভাষায় অনেক ভিডিও কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। আপনার কি মনে হয় উদ্যোগ হিসেবে এ ধরনের ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব? মোস্তাফিজুর রহমান: এখন সময় হিসেবে ইউটিউব বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও দেখার ওয়েবসাইট। এটি যে কতদিন একই ভাবে শীর্ষ অবস্থান ধরে থাকবে সেটি বলা মুশকিল। হয়তো ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্ম হবে তবে আমার মনে হয় ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করা উদ্যোগ হিসেবে ভালোই হবে। ভিডিওটি ইউটিউবে দেখতে ক্লিক করুন [ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন টেকশহর ডট কমের স্পেশাল করসপনডেন্ট নুরুন্নবী চৌধুরী ]