‘এত আইনের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা বিকাশের সুযোগ নাই’

title
১০ দিন আগে
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে শনিবার বিকালে রাজধানীর সিডরাপ মিলনায়তনে সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত ‘ডিজিটাল নজরদারিতে সাংবাদিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সংগঠনের পক্ষ থেকে এমন দাবি উঠে আসে।প্রতি বছর ৩ মে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘জার্নালিজম আন্ডার ডিজিটাল সিজ’ (ডিজিটাল নজরদারিতে সাংবাদিকতা)। ঈদের বন্ধ থাকায় এবার দেরিতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে সম্পাদক পরিষদ।সংগঠনের সভাপতি ও ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, “বিভিন্ন আইন দিয়ে আমাদের হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এত আইনের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা বিকাশের সুযোগ নাই।”  সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এত আইন কেন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “ডিফমেশন ল, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, আদালত অবমাননা আইন। আইসিটি অ্যাক্ট এখনও প্রযোজ্য। এখন অনেক নতুন আইন যুক্ত হয়েছে, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, নতুন করে আসছে ডেটা প্রটেকশন আইন, ওটিটি আইন ।“এই আইনগুলো নাম ভিন্ন হলেও প্রয়োগের ক্ষেত্রে মত প্রকাশের প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় এসব আইন প্রয়োগ না হলেও এগুলো ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে।“গণমাধ্যমের হাত-পা বেঁধে গণতন্ত্রকে ব্যাহত করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী বলে মন্তব্য করেন তিনি।ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ‘সুষ্ঠু’ সংশোধন না হলে এটা বাতিলের দিকে যেতে হবে বলে মনে করে মাহফুজ আনাম।আলোচনায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বাংলাদেশে সাংবাদিকতায় যেসব আইনী বাধা রয়েছে, সম্পাদক পরিষদ ও বিভিন্ন সাংবাদিক ইউনিয়ন মিলে সেগুলোর মূল্যায়নের প্রস্তাব করেন।তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইনী জটিলতা আছে। পুরাতন আইন, নতুন আইন, আবার কোনো ক্ষেত্রে আইন নাই। টেলিভিশন সাংবাদিকতা নিয়ে আইন নাই। সাংবাদিকতায় বাধা পুরাতন আইন দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইন, এর মধ্যে নতুন বিপদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।“ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ দমনের জন্য একরম আইন দরকার। তবে এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয় কি না সেটা দেখতে হবে। আমরা বলেছিলাম এটা যেন সাংবাদিকতা ও স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যবহার না করা হয়।”নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবির গণমাধ্যমের স্বাধীনতা চর্চায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, “সেলফ সেন্সরশিপ এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। আমরা বিপদজনক অবস্থানে আছি। আমরা লিখছি, লিখছি না। লিখলেই মনে ভয় হয়। লিখলেই মনে হয় বিপদ আসতে পারে। এই ভয় থেকে মুক্তি পেতে হলে সম্মিলিত প্রয়াস দরকার।“অনুষ্ঠানে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি এ.কে. আজাদ বলেন, “বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা এই আইনের প্রতিবাদ জানিয়েছি। এই আইন বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে খর্ব করছে। সাংবাদিকতা বিকাশে বাধা এই আইনের ধারাগুলো সংশোধন দরকার।“সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় বিএফইউজে'র একাংশের সভাপতি ওমর ফারুক, আরেক অংশের সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু বক্তব্য দেন।