ভোটের আগে সরকার উৎখাতের চক্রান্ত চলছে: ইনু

title
৪ দিন আগে
বৃহস্পতিবার সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার সরকার দেশশত্রু বিএনপি-জামাত ও ঘরের শত্রু দুর্নীতিবাজদের আক্রমণের মুখে। “ভোটের আগে সরকারকে উৎখাত করার চক্রান্ত করছে। অস্বাভাবিক সরকার আনার চক্রান্ত ধুলিসাৎ করে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।”প্রতি অর্থবছরে বাজেটের আকার বাড়ানো সম্পর্কে জাসদ সভাপতি বলেন, “বাজেটে টাকা পয়সা বাড়িয়ে লাভ নাই।“বরঞ্চ আপনি মৌলিক পরিবর্তন অর্থাৎ বাসস্থান, শিক্ষা, খাদ্য, নিরাপত্তা, ইন্টারনেট ব্যবহার এর জন্য সার্বজনীন ব্যবস্থা গড়তে, অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য বাড়তি বরাদ্দ দেন।”বাজেট বাস্তবায়নে রাজনৈতিক শান্তি দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অশান্তির রানী বেগম খালেদা জিয়া জেলে থাকলেও বিএনপি জামায়াত জঙ্গি হেফাজত চক্র, যারা মিমাংসিত বিষয়ে অমিমাংসিত করে এবং মানে না। তারা দেশ শত্রু, মাঠে নেমেছে। ভোটের আগে শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করতে চায়।”ইনু বলেন, “অপরদিকে চলছে ঘরের ভেতরে দুর্নীতিবাজ ঘরকাটা ইঁদুরদের উৎপাত। শেখ হাসিনার সরকার, আমাদের সরকার, দুই শত্রুর আক্রমণের মুখে। দেশ শত্রুর আক্রমণের মুখে, ঘরের শত্রুর আক্রমণের মুখে।“ভোটের আগে যারা সরকার উৎখাতের প্রস্তাব দিচ্ছে তারা সাংবিধানিক পদ্ধতি বানচাল করতে চায়।”তিনি বলেন, ভোটের আগে যারা সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছে তারা খাল কেটে অস্বাভাবিক সরকার আনতে চায়। ভোটের আগে যারা সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছে তারা তালেবানি সরকার আনার চক্রান্ত করছে।“আমি এই দুই সরকারকে কুমিরের সঙ্গে তুলনা করছি। এই দুই কুমির আনার ভয়াবহ চক্রান্তকে মোকাবেলা করতে হবে।“ভোটের আগে সরকারকে উৎখাত করার চক্রান্ত ধ্বংস করে দিয়ে অস্বাভাবিক সরকার আনার চক্রান্ত ধুলিসাৎ করে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।”আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের এই শরিক নেতা বলেন, “দেশের টাকা পাচারকারীরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সাক্ষাৎ শিষ্য।“এরা ডাবল চোর। এরা দেশের ভেতরে একবার চুরি করে, বিদেশে টাকা পাঠানোর জন্য আরেকবার চুরি করে। দেশে এই ডবল চোরদের ধরার জন্য আইন আছে, মামলাও আছে।“তাই এই বিদেশে পাচার করা টাকা আনার জন্য যে প্রস্তাবটা হয়েছে দেশের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমি বাতিল করার প্রস্তাব করছি।”নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ নিয়ে যারা সমালোচনা করেছিলেন তাদের পাল্টা সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তারা দাতাদের শিখিয়ে দেওয়া বুলির বাইরে একটা কথাও বলতে পারে না।“তারা হচ্ছেন দাতাদের তোতাপাখি। শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর কাজ সফল ভাবে করার মাধ্যমে প্রমাণ করলেন এসব প্রাজ্ঞ, বিজ্ঞ, বিশেষজ্ঞরা যোগ্যতার উচ্চতায় শেখ হাসিনার ধারেকাছেও যায় না।“শেখ হাসিনা একজন পরিকল্পনাবিদ, দূরদর্শী ও সাহসী রাজনৈতিক নেতা, বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ। তার মতো প্রশ্নাতীত দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ এই বাংলায়ও নেই উপমহাদেশেও নেই।” ইনু বলেন, “দেশের স্বাবলম্বী অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা ও ইন্টারনেটের ব্যবহারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার।“যে জন্য সংবিধান সংশোধন পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা দরকার। সামাজিক শান্তি ও সমতা বিধানের জন্য সংখ্যালঘু ও আদিবাসী কমিশন গঠন করা দরকার। সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন দরকার।”তিনি ইন্টারনেটের ওপর প্রস্তাবিত ভ্যাট-ট্যাক্স, ল্যাপটপ ও প্রিন্টারের ওপর ট্যাক্স প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন।সাবেক মন্ত্রী ইনু বলেন, “মূল্যস্ফীতি আটকাতে হবে। গরীবদের কেনার ক্ষমতা থাকতে হবে। এজন্য নিত্যপণ্যের ওপর ভর্তুকি দিতে হবে। শ্রমিকদের রেশন কার্ড দিতে হবে। কম মূল্যে খাদ্য বিক্রি করতে হবে। বাজার সিন্ডিকেট ধ্বংস করতে হবে। দু্র্নীতিবাজদের সিন্ডিকেট ধ্বংস করতে হবে।”এসবের জন্য টাকার প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এনবিআরকে অটোমেশন করেন। ৫৪৪টি উপজেলায় কর অফিস স্থাপন করেন। নয় লাখ হাটবাজার, দোকানিদের করের আওতায় নিয়ে আসেন।“এক কোটি টাকার বেশি আয়কর দিতে পারে এ রকম লোক বাংলাদেশে দুই লাখ আছে। ওইটা ধরেন, দুই লাখ কোটি টাকা আপনি পাবেন। সম্পদ কর করেন। অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কথা বলেন।”সরকারি দলের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। যারা দুর্নীতি করে বিদেশে টাকা পাচার করেছে, তাদের সে টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না।