মিরসরাইয়ের দুর্ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যুতে স্তব্ধ খন্দকিয়া গ্রাম

title
১৬ দিন আগে
মিরসরাইয়ের দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। খন্দকিয়া ছোট্ট একটি গ্রাম পরিণত হয়েছে শোকের জনপদে। সকালে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে মরদেহগুলো। স্বজনরা বলছেন, সামান্য অসাবধানতায় হারিয়ে গেছে তাজা কতগুলো প্রাণ। এদিকে, গেটম্যান সাদ্দামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মামলার করেছে পুলিশ। এছাড়া নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার এবং আহতদের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকার দিয়েছে জেলা প্রশাসন। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর চিকনদণ্ডি ইউনিয়নের খন্দকিয়া গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির সামনেই মরদেহবাহী এ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষা। ভেতরে স্বজনদের আহাজারী। শুধু নিহত পরিবারগুলোতেই নয়, পুরো গ্রামই পরিণত হয় এক শোকার্ত জনপদে। নিহতদের সবাই পড়ালেখা শেষ করে কেউ যোগ দিতে চেয়েছিলেন সেনাবাহিনীতে, কেউবা বিদেশ গিয়ে চাকরি করে বাড়িতে ছোট্ট একটা বিল্ডিং তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ছোট ছোট এমন ১১টি স্বপ্ন ঝরে গেছে মিরসরাইয়ের খৈয়ারছড়া রেল গেইট ট্রাজিডিতে। স্বজনদের শেষ দেখার পর জানাজার জন্য মরদেহগুলো একে একে নিয়ে আসা হয় খন্দকিয়া ছমদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। ততক্ষণে জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই নেই মাঠে। জানাজায় অংশ নেয়া প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতা আশ্বাস দেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার। জানাজা শেষে মরদেহ গুলো নিয়ে যাওয়া হয় কবরস্থানে। সেখানেই একে একে শেষ বিদায় জানান স্বজন ও প্রতিবেশিরা। শুক্রবার চিকনদণ্ডি গ্রামের আর এন্ড জে কোচিং সেন্টারের ১৮ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মিরসরাইয়ের খৈয়ারছড়া ঝর্ণায় বেড়াতে যান। ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসটি চুরমার হয়ে নিহত হন ১১ জন। দুর্ঘটনায় আহত আরও ৭ সাত জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।