পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী মঞ্চে আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী

title
২ মাস আগে
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতেই পদ্মা সেতুর নির্মাণ নিয়ে মিথ্যা দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছিল সে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। মিথ্যা অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর নিজের পরিবারও যে মানসিক যন্ত্রণা ভুগেছেন, বক্তব্যে সে কথাও বলেন তিনি। শনিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘোষণার জন্য স্টেজে ওঠেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা সবাই জানেন যে যখন সেতু নির্মাণে নামি তখন অনেক ষড়যন্ত্র হয়, মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়। দুর্নীতির অপবাদ দিয়ে একেকটা মানুষ, একেকটা পরিবারকে মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে একটি গোষ্ঠী। আমার বোন শেখ রেহানা, আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আমার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, রেহানার ছেলে রেদোয়ান মুজিব সিদ্দিকি, পদ্মা সেতুর নির্মাণের কাজে যাকে আমরা উপদেষ্টা হিসেবে বিশেষভাবে দায়িত্ব দিয়েছিলাম সেই ড. মশিউর রহমান ও সাবেক যোগযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ যাদের মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়েছে ও সেই যন্ত্রণা যারা ভোগ করেছে আমি তাদের প্রতি ও তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাই। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমত, সত্যের জয় হয়েছে। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই যারা সেদিন আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। যারা এখানে বসবাস করতো তারা জমি ছেড়ে দিয়েছে, তাদের সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বহু বাধা ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আজ পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে। আমাদের জেদ ছিল এ সেতু নির্মাণ করবোই। সে আত্মবিশ্বাসেই আজকে আলোর পথে যাত্রা করতে সক্ষম হয়েছি। যদিও মিথ্যা অভিযোগে দুই বছর দেরি হয়েছে, তবুও আমরা দমে যাইনি। আমরা বিজয়ী হয়েছি। সুকান্ত ভট্টাচার্যের কথায় বলতে চাই, আমরা মাথা নোয়াবার নই, আমরা কখনও মাথা নোয়াবো না। শেখ মুজিবুর রহমান কখনও মাথা নত করে চলেননি, আমরাও কখনো নত থাকবো না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্রের কারণে সেতু নির্মাণে আমাদের দুই বছর বিলম্ব হয়েছে। তবে, আমরা কখনো হতোদ্যম হইনি, হতাশায় ভুগিনি। আমরা আত্মপ্রত্যয় নিয়ে চলেছি। শেষ পর্যন্ত সমস্ত অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে যাত্রা করতে সক্ষম হয়েছি। বঙ্গবন্ধু বলেছেন কেউ দাবায় রাখতে পারবা না। তেমনি কেউ আমাদের দাবায় রাখতে পারেনি। /এসএইচ