চলে গেলেন নিশেল নিকোলস

title
১৬ দিন আগে
স্টার ট্রেকের একটি দৃশ্যে প্রয়াত নিশেল নিকোলস। তার আগে আমেরিকার টেলিভিশনের ঝলমলে দুনিয়ায় কৃষ্ণাঙ্গ অভিনয়শিল্পীদের দৌড় ছিল বাড়ির চাকরদের চরিত্র পর্যন্ত। সে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনেন অভিনেত্রী নিশেল নিকোলস। ষাটের দশকে তুমুল জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘স্টার ট্রেক’-এ অভিনয় করে সবার দৃষ্টি কাড়েন তিনি। কালজয়ী সাড়া জাগানো সেই অভিনেত্রীই পাড়ি দিলেন না–ফেরার দেশে। কিংবদন্তি নিশেল নিকোলস গত ৩০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সিলভার সিটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মার্টিন লুথার কিং থেকে তরুণ বারাক ওবামা পর্যন্ত সবাই ছিলেন তার অভিনয়ের বিশাল ভক্ত। কেবল এ দুজন বিখ্যাত ব্যক্তিই নন, তার খ্যাতি ছিল দুনিয়াজোড়া। চলচ্চিত্রে তার সাফল্য কৃষ্ণাঙ্গ অভিনয়শিল্পীদের সামনে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বার বার।১৯৩২ সালের ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে জন্ম এ অভিনেত্রীর। ১৪ বছর বয়সে গায়িকা ও নাচিয়ে হিসেবে প্রথম কাজ শুরু। পর্দায় পা দেয়ার আগে ডিউক এলিংটন ও লিওনেল হ্যাম্পটন ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করতেন তিনি। ১৯৫৯ সালে পর্গি অ্যান্ড বেস সিনেমা দিয়ে হলিউডে যাত্রা করেন তিনি।কয়েকটি সিনেমা ও টিভি শো শেষে স্টার ট্রেকে অভিনয়ই তাকে এনে দেয় দুনিয়াজোড়া তারকাখ্যাতি। ১৯৬০ সালে জনপ্রিয় এ টিভি সিরিজে অভিনয়ের জন্য ভক্তদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন নিকোলস। সায়েন্স ফিকশন সিরিজটিতে লেফটেন্যান্ট উহুনার চরিত্রে অভিনয় করে বাজিমাত করেন নিশেল।ষাটের দশকে পপ কালচারের অন্যতম অনুসঙ্গ হয়ে উঠেছিল ‘স্টার ট্রেক’। এ সিরিজেই প্রথমবারের মতো টিভি সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কৃষ্ণাঙ্গ এক অভিনেত্রীকে দেখা যায়। সিরিজে একটি চুম্বন দৃশ্যের কারণেও ইতিহাসের অংশ হয়ে আছেন নিকোলস। ১৯৬৮ সালে ‘স্টার ট্রেক’ এ সহঅভিনেতা উইলিয়াম শ্যাটনার সঙ্গে সিরিজের একটি চুম্বন দৃশ্যে অভিনয় করেন নিকোলস, যা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের টিভিতে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ অভিনয়শিল্পীর মধ্যে প্রথম চুম্বন দৃশ্য।‘স্টার ট্রেক’ সে সময় এতোটাই জনপ্রিয় ছিল যে, কৃষ্ণাঙ্গ, নারী ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের নভোচারী হতে আগ্রহী করতে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা সিরিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগায়। সত্তর দশকে কৃষ্ণাঙ্গ, নারী ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের নিয়োগ দিতে নিশেলকেও চাকরি দেয় নাসা।সিরিজ ছাড়াও বাকি ছয়টি ‘স্টার ট্রেক’ সিনেমাতেও অভিনয় করেন নিকোলস। ১৯৫৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক চলচ্চিত্র ও সিরিজে অভিনয় করেন তিনি। এটি ছাড়া আরও অনেকগুলো সিনেমায় দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও কোনোটিই ‘স্টার ট্রেক’-এর জনপ্রিয়তা ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।১৯৯২ সালে হলিউড ওয়াক অব ফ্রেমে জায়গা পান নিকোলস। এছাড়া তাকে আজীবন সম্মাননা জানিয়েছে একাডেমি অব সায়েন্স ফিকশন, ফ্যান্টাসি ও হরর ফিল্মস। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ‘রেনেগাডস: ওমিনারা’। ‘দ্য অর্ডার’ ও ‘মোমেন্ট অব ইমপ্যাক্ট’ সিনেমা দুটিতে অভিনয়ের কথা ছিল তার।নিশেলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তার সহঅভিনেতা-অভিনেত্রীসহ এবং আরও অনেক মানুষ। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা স্টার ট্রেকের অসংখ্য ভক্তের মনে তিনি বেঁচে থাকবেন আজীবন।/এসএইচ