হার না মানা অদম্য এক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

title
২ মাস আগে
দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে পদ্মা সেতু এখন বাস্তবতা। খরস্রোতা নদীর বুকে দৃশ্যমান সেতুটি যেন হয়ে উঠেছে ‍হার না মানা অদম্য এক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। বিশ্বব্যাংকসহ দাতারা সরে যাওয়ার পরও নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ আরেকবার জানান দিল, এদেশের মানুষকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, পারবেও না। প্রমত্তা পদ্মার বুকে তৈরি হবে সেতু রাজধানীর সাথে সড়কপথে যুক্ত হবে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল। সেতুর অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকা- চূড়ান্ত হয় সব বোঝাপড়া। এরই মধ্যে ২০১২ সালে হঠাৎ দুর্নীতির অভিযোগ তোলে বিশ্বব্যাংক, যদিও তখনও শুরুই হয়নি কাজ। তারপর নানা চড়াই উৎরাই। বিশ্বব্যাংকের পর অর্থায়ন থেকে সরে যায় অন্যরাও। পদত্যাগ করতে হয় সে সময়ের যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে। কেবল মামলা নয়, জেল খাটতে হয়েছে সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে। চাপ ছিল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডক্টর মশিউরকে পদত্যাগ করানোরও। যদিও কানাডার আদালতে প্রমাণিত হয়, দুর্নীতির অভিযোগ ছিল মিথ্যা। এতো কিছুর পরও ফেরেনি বিশ্বব্যাংক, তাই নিজস্ব অর্থায়নে তা করার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী। এ নিয়ে অবশ্য সন্দিহান ছিলেন বিশিষ্টজনরা। নিজস্ব টাকায় এতো বড় সেতু নির্মাণ সম্ভব কি না সে প্রশ্ন তুলে তাদের শঙ্কা ছিল, এর সমাপ্তি নিয়েও। ভয় ছিল অর্থনীতিতে সঙ্কট বাড়ারও। নভেম্বর ২০১৪ তে শুরু হয় পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। বিশ্বের দ্বিতীয় খরস্রোতা নদী পদ্মায় এ সেতু তৈরি ছিল বিশাল এক কারিগরি চ্যালেঞ্জও। নদীশাসন, পাইলিংয়ের পর ২০১৭তে শুরু হয় মূল অবকাঠামো তৈরির কাজ। সে বছর সেপ্টেম্বরেই বসে প্রথম স্প্যান আর ২০২০ এর ডিসেম্বরে ৪১তম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পুরো ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু। গত ১৪ জুন রাতে একসাথে আলো জ্বলে ওঠে সেতুর ৪২৫টি ল্যাম্পপোস্টে, যেন সম্ভাবনার নতুন আলোয় প্রজ্বলিত এক টুকরো বাংলাদেশ। দেশি বিদেশি নানা রাজনীতির শিকার হয়েছে এই প্রকল্প। এমনকি এতে না ওঠার কথাও বলেছিলেন সরকার বিরোধীরা। ছিল পদ্মা সেতু নিয়ে নানা গুজবও। সব শঙ্কা পায়ে ঠেলে তিন হাজার একশ কোটি টাকার এই আইকনিক প্রকল্প এখন বাস্তবতা। এর হাত ধরে বদলাবে বৃহত্তর বরিশাল ও খুলনার কোটি মানুষের জীবনের গল্প। এখন অপেক্ষা, বহুমুখী এই সেতুর ওপর দিয়ে রেল চলাচল শুরুর। /এসএইচ