লোডশেডিংয়ে সাশ্রয় হলো কতোটা?

title
১৩ দিন আগে
ফাইল ছবি পরিকল্পিত লোডশেডিং করেও গত দুসপ্তাহে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি সরকার। বিদ্যুৎ খাতের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেল বলছে, এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পরিকল্পনা থাকলেও হয়েছে মাত্র ৫০০ মেগাওয়াট। এ থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুতই সংশোধিত কর্মসূচি নেয়ার কথা বলছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাঙ্ক্ষিত সাশ্রয় না হলে, এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত হবে না সাধারণ মানুষ এমন আশঙ্কা কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশনের। ঢাকঢোল পিটিয়ে গত ১৯ জুলাই থেকে সারা দেশে শুরু হয় পরিকল্পিত লোডশেডিং। কথা ছিল দিনে এক থেকে দুঘণ্টা থাকবে না বিদ্যুৎ। উদ্দেশ্য পরিষ্কার, জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় সাশ্রয় করতে হবে দুহাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এর এক হাজার হবে লোডশেড থেকে, বাকিটা সাশ্রয় করবেন গ্রাহকরা। পনের দিন পর প্রশ্ন হলো, সরকার নির্ধারিত সেই লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হলো? পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আমাদেরকে এভারেজে দেড় হাজার মেগাওয়েটের লোডশেড করতে হয়েছে। এক হাজার মেগাওয়াট আমাদের রুটিন মাফিকই ছিল, বাকি পাঁচশ মেগাওয়াট সেভাবে রুটিনের আওতায় ছিল না, পরিকল্পিতভাবে শহর গ্রাম নির্বিশেষে সেটা হয়নি। যেটুকু বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা গেল, তার পেছনেও বড় অবদান ছিল আবহাওয়ার। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বিদ্যুতের চাহিদাও কমেছে খানিকটা। আর রাত আটটায় দোকানপাট বন্ধের সুফলও মিলেছে। তবে রাজধানী ও অন্যান্য জেলা, শহর-গ্রাম এসব দিক বিবেচনার পাশাপাশি দিনের কোন সময় চাহিদা বেশি সেটি নির্ধারণ করে সংশোধিত লোডশেডিং সূচি করার কথা ভাবছে সরকার। পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন আরও বলেন, ২৪ ঘণ্টার ফ্ল্যাট রেশিও নিয়ে করলে লক্ষ্য অর্জিত হবে না, কারণ ইলেকট্রিসিটির কনজাম্পশন একেক ঘণ্টায় একেক রকম। আবার শহরে একরকম আবার গ্রামে আরেক রকম। এজন্য, ঘণ্টাভিত্তিক কনজাম্পশন দেখে প্যাটার্ন অনুযায়ী আমরা লোডশেড করতে বলেছি। তবে কতোটা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হলো, তা বুঝতে জুলাইয়ের বিল পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি বড় বড় অফিসগুলোতে যতটা সাশ্রয় করার কথা, তাও শেষ পর্যন্ত হলো কি না- সেটিও নিশ্চিত হওয়া জরুরি। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এটি না করলে জনগণকে সাশ্রয়ী করা কঠিন বলে আশঙ্কা তাদের। কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশনের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, এরকম ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সামাজিকভাবে স্বতস্ফুর্তভাবে মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী এরকম একটা নির্দেশনা দিয়েছেন, তার এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য যে জনসম্পৃক্ততা ও উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রয়োজন তা তৈরিতে প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার কোনোভাবেই যেনো প্রশাসনের এ ব্যর্থতাকে হালকাভাবে না দেখে। এভাবে সাময়িক সংকট সামাল দেয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন যে জরুরি- তাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। /এসএইচ