উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ; ভোগান্তি দূর করবে পদ্মাসেতু

title
২ মাস আগে
পদ্মাসেতু উদ্বোধন ও সমাবেশ সফলের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। নৌ-সড়ক পথে দুরের জেলা থেকে আসছে কয়েক লাখ মানুষ। নৌপথের যাত্রীদের সামাল দিতে বসানো হয়েছে ২০টি পন্টুন। ভোগান্তি দূর হবে সে আশায় উচ্ছাসিত সাধারণ মানুষ। উচ্ছাসের মহাসমাবেশ উপলক্ষে থাকছে নানা আয়োজন। নৌ-সড়কের যাত্রী সামাল দিতে বসানো হয়েছে অস্থায়ী পন্টুন। শুক্রবার (২৪ জুন) নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, লাখ লাখ মানুষ লঞ্চে আসবে। তাদের লঞ্চ থেকে নেমে সভাস্থলে আসার রাস্তা তৈরি করা, পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা, তাদের দিক নির্দেশনা দেয়া, তাদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা বা অন্য যেকোনো প্রয়োজনে সাহায্য করার জন্য থাকছে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। জরুরি প্রয়োজনে বিশেষ সুবিধা দেয়া হলেও পদ্ধতিগত দীর্ঘ অপেক্ষা ছিল দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের নিত্যসঙ্গী। এবার আসছে সুদিন। তাই, ভোগান্তি শেষ হওয়ার আশা মনে ধারণ করছে দক্ষিনাঞ্চলের অগণিত মানুষ। দুর্ভোগ লাঘবের পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে রাত পোহালেই। খুলনা বরিশালসহ দুরের জেলা থেকে আসবে লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। উৎসবের রঙ লেগেছে স্থানীয়দের মনেও। জনগণের জন্য ভালো একটি কাজ করে গেছে সরকার, এমন কথাই ধ্বনিত হয়েছে তাদের কণ্ঠে। ফেরিঘাটে আর বসে থাকতে হবে না ঘণ্টার পর ঘণ্টা, সেই স্বস্তিও বোধ করছেন আবালবৃদ্ধবনিতা। শরিয়তপুরের মোমেনা বেগমের শরীরে বেঁধেছে জটিল রোগ। কিন্তু সারানোর উপায় নেই পদ্মার দক্ষিণ পাড়ে। এ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নিয়ে স্বজনেরা ছুটছে ঢাকায়। কিন্তু পথ শেষ হয় না। স্বজনেরা জানালেন, শরিয়তপুরের সদর হাসপাতাল থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আগারগাঁও। অ্যাম্বুলেন্সকে ভিআইপি হিসেবে ছেড়ে দিলেও পথে নষ্ট হতো অন্তত ঘণ্টাখানেক। পদ্মাসেতু হলে আর সেই ভোগান্তিতে পড়তে হবে না অসংখ্য মানুষকে। সবজি নিয়ে ঢাকা যান মমিন মিয়া। এই পথে নিয়মিতভাবেই যাতায়াত করতে হয় তাকে। নদীর এপার থেকে ওপারে গেলেই দিন শেষ। আয়ের অংক বরাবরই অর্ধেক শেষ হয়ে যায় তার দক্ষিণাঞ্চল যাত্রায়। তিনি জানান, ব্রিজ চালু হলে কপাল খুলে যাবে তার মতো অনেকেরই। শেষদিনের ভোগান্তিতে পড়তে হলেও এই মানুষেরা জানে, সকল বাধা বিপত্তি পেরিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু। এবার নতুন ভোরের অপেক্ষা। আরও পড়ুন: দারিদ্র্যের ফাঁদ থেকে মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশ: জয় /এম ই