পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে ভয়াবহ ভাঙন

title
১০ দিন আগে
স্বপন কুমার কুন্ডু: ঈশ্বরদীস্থ পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে দেশের বৃহত্তম রেলসেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। স্মরণকালের মধ্যে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে এমন ভাঙ্গন এখানে দেখা যায়নি। এক সপ্তাহের মধ্যে ব্রিজের পাকশী প্রান্তের ২নং গার্ডার থেকে ৩নং গার্ডার পর্যন্ত নদীর চর ভেঙ্গে গেছে। এভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে নদী রক্ষা গাইড ব্যাঙ্ক হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন সেতুরও ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয়রা আশংকা প্রকাশ করেছেন। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্রিজ বা নদী রক্ষা বাঁধের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন।সরেজমিন শুক্রবার (৫ আগস্ট) সকালে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় দেখা যায়, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ব্রিজের নিচের এলাকা জুড়ে ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এখানকার চা ষ্টলের রতন মালিথা ও চটপটি বিক্রেতা মুকিম জানান, ৪নং গার্ডার পর্যন্ত চরের বিস্তৃতি ছিল। ভাঙতে ভাঙতে এখন ২নং গার্ডারের কাছে চলে এসেছে। এখানে প্রতিদিনই সৌন্দর্য্য পিপাসুরা ব্রিজের নিচে চরের মধ্যে বেড়াতে আসেন। অস্থায়ী দোকানপাটে কেনাকাটা ও খাওয়া-দাওয়া করেন। নদীর তীর ভাঙতে শুরু হওয়ায় মানুষজন আর আসছে না। যারা আসছেন, তারা ভাঙ্গন দেখতে আসছেন। তবে ভাঙ্গন ঠেকাতে এখনও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতুর মাঝে চরের জমিতে আখ ও কলাসহ বিভিন্ন সবজির বেশ কিছু আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। চাষিরা জানান, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে প্রায় তিন দশক ধরে আবাদ করছি। ভাঙনের এমন তীব্রতা আগে কখনো দেখিনি।পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গ্রেজ রিডার হারিফুন নাঈম ইবনে সালাম জানান, ১০ দিনের মধ্যে পানি বেড়েছে ২ মিটারের বেশি। ২৫ জুলাই পানির পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। ৫ আগস্ট পানির পরিমাণ ছিল ১২ দশমিক ৯৩ সেন্টিমিটার। প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। সেইসাথে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে পদ্মার চরে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার নাজিব কাওছার জানান, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে পিলারের আশপাশের স্থান নদীতে ভেঙ্গে গেলেও ব্রিজের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নদীর গভীরে ব্রিজের পিলার পাইলিং করে স্থাপন করা আছে। নদী রক্ষা বাঁধের ক্ষতির সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে একাধিকবার কথা হয়েছে। নদীর তীর যৌথভাবে পরিদর্শন করে ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি ।পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান সুজনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের আশপাশের এলাকাসহ সাঁড়ায় ভাঙ্গন প্রতিরোধে গত বছর জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। এবারেও পানি বৃদ্ধির বিষয়টি জেনেছি। পানি কমতে শুরু করলে জিও ব্যাগ ডাম্পিংসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাঙ্গনে ব্রিজ বা নদী রক্ষা বাঁধের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, নদীর চর ভাঙবে ও জেগে উঠবে এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কোনো ধরনের সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।